Ticker

6/recent/ticker-posts

আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব। পর্ব:-৬২

 



🆚আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব। পর্ব:-৬২


#মুহাম্মদ_আলমগীর।


👉প্রসঙ্গ:- হাযির-নাযির একটি শিরকী আকীদা,

👉হাযির-নাযির একটি বানোয়াট আকীদা।(বালাকোটি ওহাবীয়তের মুখপাত্র এক ইতরশ্রেণীর প্রাণী প্রমাণিত কাজ্জাব।)

কিন্তু আহম্মক একথার কোনো দলিল দিতে পারলোনা, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কোন কোন ইমাম এটাকে শিরক বলে ফতোয়া দিয়েছেন,এবং কোন কোন ইমাম এটাকে বানোয়াট আকীদা এবং আকীদা হতে পারবেনা বলে রায় দিয়েছেন।সে তার আরেকটি ভিডিওতে মাওহিবুল্লদুনিয়্যাহ নিয়ে মিথ্যাচার করেছিলো।আমি সাথে সাথে তার জবাব সেখানেই দিয়েদিয়েছিলাম,কিন্তু সে বরাবরের মতোই বোবা শয়তানের ভূমিকায় রয়ে যায়!

এনাপাক কথাটির খন্ডন করার আগে জেনে নেয়া যাক হাযির এবং নাযির কি?


🔰‘হাযির’ এর আভধানিক অর্থ হলো যা বর্তমান থাকে, অর্থাৎ যা অদৃশ্য বা অনুপস্থিত নয়।

আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল শুকরী আলকাইয়ূমী (ওফাত ৭৭০ হিঃ)

📓 ‘আল-মিসবাহুল মুনীর’ নামক কিতাবের ১৪৭পৃষ্ঠায় এ প্রসঙ্গে উল্লেখিত আছেঃ

حَضِرَ الْمَجْلِسَ اَىْ شهده وَحَضَرَ الْغَائِبُ حُضُوْرًا قَدِمَ مِنْ غَيْبَتِهِ

-‘‘সে মজলিসে উপস্থিত হয়েছে; অনুপস্থিত ব্যক্তি উপস্থিত হয়েছে তথা সে অদৃশ্যাবস্থা থেকে দৃশ্যমান হয়েছে।>📒  -منهى الاربনামক কিতাবে রয়েছে-

خاضر خاضر شونده

‘হাযির’ এর অর্থ হলো- সে উপস্থিত হয়েছে।


‘নাযির’ শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে; যেমন দর্শক, চোখের মনি, দৃষ্টি, নাকের শিরা ও অশ্রু।

📖 ‘আল-মিসবাহুল মুনীরের’ ৬১২পৃষ্ঠায় আছেঃ

وَالنَّظِرُ السَّوَادُ الْاَصْغَرُ مِنَ الْعَيْنِ الَّذِىْ يُبْصِرُ بِهِ الْاِنْسَانُ شَخْصَهُ

অর্থাৎ-‘নাযির’ শব্দের অর্থ হলো চোখের কালবর্ণ বিশিষ্ট ক্ষুদ্রতম অংশ, যদ্বারা মানুষ ব্যক্তি বা বস্তুকে দেখতে পায়।

‘কামুসুল লুগাত’ নামক অভিধানে আছে-

وَالنَّاظِرُ السَّوَادُ فِي الْعَيْنِ اَوِ الْبَصَرُ بِنَفْسِهِ وَعِرْقُ فِى الْانْفِ وَفِيْهِ مَاءُ الْبَصَرِ

অর্থাৎ- ‘নাযির’ শব্দের অর্থ হলো- চোখের কালো বর্ণের অংশ বা সম্পূর্ণ চোখ বা নাকের শিরা-যার মধ্যে অশ্রু থাকে।

📑 ‘মুখতারুসসিহাহ’ নামক গ্রন্থে ইবন আবু বকর রাযী رحمة اللهবলেন-

النَّاظِرُ فِى الْمُقْلَةِ السَّوَادُ آلاَصْغَرُ الَّذِىْ فِيْهِ اَنْسَانُ الْعَيْنِ

অর্থাৎ নাযির শব্দের অর্থ হচ্ছে চোখের ক্ষুদ্রতম কালো অংশ, যেখানে চোখের পুতরী রয়েছে। যতদূর আমাদের সৃষ্টি কার্যকরী হয়, ততদূর পর্যন্ত আমরা হলাম ‘নাযির’।

{ইবনু আবু বকর রাযীঃ মুখ্তারুস্-সিহাহঃ ৪৯১ পৃ.}

সূত্র:-জাআল হক্ব,১ম খন্ড,হাযির-নাযির এর আলোচনা।


 এবার আসুন কুরআন-হাদীসে রাসুলﷺ হাযির-নাযির হওয়ার দলিল পাওয়া যায় কিনা দেখি-

আল্লাহ্ তা'আলার বানী-

یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ  اِنَّاۤ  اَرۡسَلۡنٰکَ شَاہِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ  نَذِیۡرًا ﴿ۙ۴۵﴾

"হে      অদৃশ্যের    সংবাদদাতা    (নবী)    নিশ্চয় আমি  আপনাকে প্রেরণ করেছি  হাযির-নাযির করে,  সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীরূপে।"

شاهد) শব্দের অর্থ কী?এবিষয়ে(شاهد)

ইমাম রাগিব ইস্পাহানী(৫০২হি.) (رحمة الله) বলেন-

الشُّهُودُ والشَّهَادَةُ: الحضور مع المشاهدة، إمّا بالبصر، أو بالبصيرة

'শাহিদ’ স্বচক্ষে অথবা অন্তরদৃষ্টি দ্বারা প্রত্যক্ষ করত: উপস্থিত তাঁকেই বলা হয়।’’ ( রাগেব ইস্পাহানী, মুফরাদাত ফি গারায়েবুল কোরআন, ৩৫২পৃ.)

আয়াতে উল্লেখিত شاهد (শাহিদ) শব্দের অর্থ সাক্ষীও হতে পারে এবং ‘হাযির-নাযির’ ও হতে পারে। সাক্ষী অর্থে ‘শাহিদ’ শব্দটি এজন্য ব্যবহৃত হয় যে, সে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিল।  রাসূল (ﷺ)কে ‘শাহিদ’ হয়তো এ জন্যই বলা হয়েছে যে, রাসূল (ﷺ) দুনিয়াতে এসে অদৃশ্য জগতের সাক্ষ্য দিচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শীরূপে। প্রত্যক্ষদর্শী যদি না হন, তাহলে প্রিয়নবী (ﷺ) কে সাক্ষীরূপে প্রেরণের কোন অর্থই হয় না, কেননা সমস্ত নবীগণ (عليه السلام) তো সাক্ষী ছিলেন। অথবা, তাঁকে এ জন্যই ‘শাহিদ’ বলা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন রাসূল (ﷺ) সমস্ত নবীগণের অনুকূলে প্রত্যক্ষদর্শীরূপে সাক্ষ্য প্রদান করবেন। এ সাক্ষ্য না দেখে প্রদান করা যায় না। তাঁর শুভ সংবাদদাতা, ভীতি প্রদর্শনকারী ও আল্লাহর পথে আহ্বানকারী হওয়ার বিষয়টিও তথৈবচক অন্যান্য নবীগণও এ সমস্ত কাজ সম্পন্ন করেছেন, কিন্তু শুধু শুনেই; আর  রাসূল (ﷺ) করেছেন স্বচক্ষে দেখেই। এজন্যই মিরাজ একমাত্র  রাসূল (ﷺ)-এরই হয়েছিল। 


আল্লামা মাহমুদ আলুসী বাগদাদী رحمةالله তাফসীরে “রুহুল মা'আনী” তে "শাহিদ" শব্দের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ

(شاهدا) على من بعثت اليهم تراقب احوالهم وتشاهد اعمالهم

وتتحمل عنهم الشهادة لما صدر عنهم من التصديق والتكذيب وسائر ماهم عليه من الهدى والضلال وتوديها يوم القيامة اداء

مقبولا فيما لهم وما عليهم (تفسیر روح المعانی صـد ٤، پاره ۲۲) অর্থাৎ আপনাকে যাদের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে তাদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করবেন, তাদের আমল বা কর্মতৎপরতা দেখবেন এবং এদের মধ্যে কে আপনার প্রতি ঈমান আনল, আর কে আপনার প্রতি ঈমান আনে নাই, তাদের হেদায়েত ও গোমরাহী জীবনের সব কিছুই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আপনিই হবেন। কেয়ামতের দিবসে আল্লাহ্র দরবারে সর্বস্বীকৃত মকবুল সাক্ষী হিসেবে সেই সাক্ষ্য দিবেন। (তাফসীরে রুহুল মা'আনী ১১তমখন্ড,২২২-২২৩ পৃঃ)


শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভী رحمةالله তাঁর স্বরচিত “তাফসীরে আজিজী” নামক কিতাবে

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ

یعنی وباشد رسول شما برشماگواه زیراکه او مطلع است به نور نبوت به رتبه هرمتدین بدین خودکه در کدام درجه ازدین من رسیده وحقیقت ایمان او چیست وحجابی که بدان از ترقی محجوب مانده است کدام است پس او میشناسد گناهان شمارا ودرجات ايمان شمارا واعمال نيك وبدشمارا واخلاص ونفاق شمارا ولهذا شهادت

اودردنیا بحكم شرع درحق امت مقبول وواجب العمل است

অর্থাৎ “রাসুলে পাকﷺ তোমাদের সাক্ষী হবেন, এজন্য যে তিনি স্বীয় নবুয়তের আলোকে প্রত্যেক দ্বীনদার বা ধর্ম পরায়ন ব্যক্তির ধর্মের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন। কোন ব্যক্তি ধর্মের কোন স্তরে পৌঁছেছেন, তার ঈমানের হাকীকত কি, এবং তাঁর পরলৌকিক উন্নতির পথে অন্তরায় কি, সব কিছুই তিনি জানেন।

সুতরাং হুজুরﷺ তোমাদের পাপরাশি,

তোমাদের ঈমানের স্তর, তোমাদের নেক ও বদ বা ভাল মন্দ কার্যাবলী এবং তোমাদের এখলাছ বা বিশুদ্ধ নিয়ত ও তোমাদের নেফাক বা কপটতা সম্পর্কে অবগত আছেন। এজন্যইতো পৃথিবীতে উম্মতের পক্ষে বা বিপক্ষে তাঁর সাক্ষ্য শরীয়তের বিধান মতে মকবুল বা গ্রহণীয় এবং অবশ্যই পালনীয়।”


এটাও দেখে নিন যে,হুযুরﷺ কাদের সাক্ষী?

মুফাসসির ইমাম সৈয়দ আলূসী বাগদাদী (رحمة الله) ও ইমাম সৈয়দ আবুস সাউদ (رحمة الله)এআয়াতের তাফসীরে বলেন-

يا أيها النبى إِنَّا أرسلناك شَاهِداعلى مَن بُعثتَ إليهم تُراقبُ أحوالهم وتُشاهدُ أعمالَهم وتتحمَّلُ منهم الشَّهادةَ بما صدرَ عنهُم منَ التَّصديقِ والتَّكذيبِ وسائرِ ما هُم عليهِ من الهدى والضَّلالِ وتُؤدِّيها يومَ القيامةِ أداءً مقبولا فيما لهُم وما عليهم

‘যাদের প্রতি আপনাকে রাসূল করে প্রেরণ করা হয়েছে, তাদের সকলের জন্যে আমি আপনাকে ‘শাহিদ’ (হাযির-নাযির) করে পাঠিয়েছি। প্রিয় নবী (ﷺ) কে উম্মতের নিম্নবর্ণিত বিষয়াবলীর সাক্ষী বানানো হয়েছে

অবস্থাসমূহ পর্যবেক্ষণ করা। 

তাদের আমলসমূহ প্রত্যক্ষ করা ।

তাদের সত্যায়ন ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার সাক্ষ্য প্রদান।

 তাদের হেদায়াত ও গোমরাহী সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান। 

এসব বিষয়ে তিনিই কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য প্রদান  করবেন।’’ (আলূসী, রুহুল মা‘য়ানী, ১১/২২২পৃ. আবুস সাউদ, তাফসীরে আবুস্-সাউদ, ৪/৪২৩পৃ.)


আল্লামা যামাখশারী رحمة الله علیهবলেন- 

شاهِداً على من بعثت إليهم، وعلى تكذيبهم وتصديقهم، 

-‘‘যাদের প্রতি আপনাকে রাসূল করে প্রেরণ করা হয়েছে, তাদের সকলের জন্যে আমি আপনাকে ‘শাহিদ’ (হাযির-নাযির) করে পাঠিয়েছি এবং আপনি তাদের সত্যায়ন ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার সাক্ষ্য প্রদান করবেন।’’(তাফসীরে কাশ্শাফ,৮৫৯পৃ.) 

অনুরুপভাবে ইমাম কাযি নাসিরুদ্দীন বায়যাভী (رحمة الله), তাফসীরে বায়যাভী, ৪/২৩৪পৃ. ইমাম নাসাফী (رحمة الله) তাফসীরে নাসাফী, ৩/৩৬পৃ. দারুল কালামুল তৈয়্যব, বয়রুত, লেবানন,

 ইমাম আবু হাইয়্যান আন্দুলুসী (رحمة الله) তাফসিরে বাহারুল মুহিত, ৭/২৩০পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রমুখ একই রকম তাফসীর করেছেন।


 আল্লামা আহমদ বিন মুস্তফা আল-মারাগী (رحمة الله) বলেন- 

شاهدا على من بعثت إليهم تراقب أحوالهم، وترى أعمالهم، 

-‘‘যাদের প্রতি আপনাকে রাসূল করে প্রেরণ করা হয়েছে, তাদের সকলের জন্যে আমি আপনাকে ‘শাহিদ’ (হাযির-নাযির) করে পাঠিয়েছি; তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং আমলসহ অবলোকন করবেন।’’ (তাফসীরে মারাগী, ২২/১৯পৃ.) 


তাফসীরে রুহুল বয়ানে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছেঃ 

هذا مبنى على تضمين الشهيد معنى الرقيب والمطلع فعدى تعديته والوجه في اعتبار تضمين الشهيد الاشارة الى ان التعديل والتزكية انما يكون عن خبرة ومراقبة بحال الشاهد .... ومعنى شهادة الرسول عليهم اطلاعه على رتبة كل متدين بدينه وحقيقته التي هو عليها من دينه وحجابه الذي هوبه محجوب عن كمال دينه فهو يعرف ذنوبهم وحقيقة ايمانهم واعمالهم وحسناتهم وسياتهم واخلاصهم ونفاقهم وغير ذلك بنور الحق وامته يعرفون ذلك من سائر الامم بنوره عليه الصلاة والسلام.

অর্থাৎ “এটা এ কারণেই যে আয়াতে উল্লেখিত 'শাহিদ' শব্দটি রক্ষণাবেক্ষণকারী ও অবগত হওয়া কথাটা ও অন্তর্ভূক্ত করে এবং এ অর্থ দ্বারা একথারই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, কোন ব্যক্তির ভাল ও মন্দের সাক্ষ্য প্রদান তখনই সম্ভবপর হবে, যখনই সাক্ষী উক্ত ব্যক্তির যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে সম্যকরূপে ওয়াকিফহাল হয়।

হজুরﷺ (কেয়ামতের দিন মুসলমানদের। সাক্ষী দেওয়ার অর্থ এই যে, তিনি (আল্লাহর হাবীব) প্রত্যেক ধর্মপরায়ণ ব্যক্তির ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে অবগত। তার ঈমানের হাকীকত কি এবং তাঁর দ্বীনের উন্নতির পথে অন্তরায় কি, সব কিছুই তিনি জানেন।(তাফসীরে রুহুল বয়ান,৭খন্ড,পৃ.১৯৭-১৯৯)


তাফসীরে রূহুল বয়ান ২৬ পারা ‘সূরা ফাতাহ’ এর اِنَّا اَرْ سَلْنَكَ شَاهِدًا আয়াত এর ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছেঃ

فَاِنَّهُ لَمَّ كَانَ اَوَّلَ مَخْلُوْقِ خَلَقَهُ للهُ كَانَ شَاهِدًا بِوَحْدَانِيَةِ الْحَقِّ وَشَاهِدًابِمَا اُخْرِجَ مِنَ الْعَدَمِ اِلَى الْوُجُوْدِ مِنَ الْاَرْوَاحِ وَالنَّفَوْسِ وَالاَجْرَامِ وَالْاَرْكَانِ وَالْاَجْسَادِ وَالْمَعَادِنِ وَالْنّضبَاتِ وَالْحَيْوَانِ واَلْمَلَكِ وَالْجِنِّ وَاَلشَّيْطَنِ وَالْاِنْسَانِ وَغَيْرِ ذَلِكَ لِئَلاَّ يَشُذَّ عَنْهُ مَايَمْكِنُ لِلْمَخْلُوْقِ مِنْ اَسْرَارِ اَفْعَا لِهِ وَعَجَا ئِبِهِ

-‘‘যেহেতু হুজুর (ﷺ) আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি, সেহেতু তিনিই আল্লাহর একত্বের সাক্ষী, সে সব বস্তুরও অবলোকনকারী, যেগুলি অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্বের সীমাবদ্ধ গন্ডির মধ্যে এসেছে। যেমন মানবাত্মা, জীবাত্মা শারীরিক কাঠামো, খনিজ পদার্থ, বৃক্ষরাজি, পশু পক্ষী, ফিরিশতা, মানুষ ইত্যাদি। সুতরাং, খোদা-তা’আলার সেসব গুপ্ত ভেদ ও বিস্ময়কর ব্যাপারগুলোও যেগুলির রহস্য উন্মোচন অন্য কোন মাখলুকের জন্য সম্ভবপর নয়, তাঁর কাছে রহস্যাবৃত ও অনুদঘাটিত থাকার কোন অবকাশ থাকে না।’’

{আল্লামা ইসমাঈল হাক্কীঃ তাফসীরে রুহুল বায়ানঃ ৯/২৩ পৃ.}


 সে একই জায়গায় আরও কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর বলা হয়েছেঃ

فَشَاهَدَ خَلْقُهُ وَمَا جَرَاىْ عَلَيْهِ مِنَ الْاِكْرَامِ وَالْاِخْرَاجِ مِنَ الْجِنَّةِ بِسَبَبِ الْمُخَالِفَةِ وَمَاتَابَ اللهُ عَلَيْهِ اِلَى اَخِرِ مَاجَرَى اللهُ عَلَيْهِ وَشَاَهَدَ خَلْقَ اِبْلِيْسَ وَمَا جَرَى عَلَيْهِ

-‘‘তিনি দেখেছেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর সৃষ্টি, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, ভুলের কারণে বেহেশত থেকে তাঁর অপসারণ এবং পরে তাঁর তওবা গৃহীত হওয়ার যাবতীয় ঘটনাবলী। শেষ পর্যন্ত সেই আদম আলাইহিস সালামকে কেন্দ্র করে যা কিছু আবর্তিত হয়েছে, সবই রাসূল (ﷺ) দেখেছেন। তিনি আরো দেখেছেন- শয়তানের সৃষ্টি ও যা’ কিছু তাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।’’  

{আল্লামা ইসমাঈল হাক্কীঃ তাফসীরে রুহুল বায়ানঃ ৯/২৩ পৃ.}


তাফসীরে ‘রূহুল বয়ানে’ সূরা মুলক এর তাফসীরের শেষে উলে­খিত আছেঃ

قَالَ الْاِمَامُ الْغَزَّالِى وَالرَّسُوْلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ لَهُ الْخِيَارُ فِيْ طَوَافِ الْعَالَمِ مَعَ اَرْوَاحِ الصَّحَابَةِ لَقَدْرَاَهُ كَثِيْرٌُ مِنَ الْاَوْلِيَآءِ

-‘‘ইমাম গাযযালী বলেছেন, সাহাবায়ে কিরামের রুহের এবং হুজুর (ﷺ) এর জগতে পরিভ্রমনের ইখতিয়ার আছে বিধায় অনেক আওলিয়া কিরাম তাদেরকে দেখেছেন।’’

{আল্লামা ইসমাঈল হাক্কীঃ তাফসীরে রুহুল বায়ানঃ ১০/১১৪ পৃ.}


এবার সুরা ফিলের প্রথম আয়াতটির দিকে দৃষ্টি ফিরাই-

اَلَمۡ  تَرَ کَیۡفَ فَعَلَ رَبُّکَ  بِاَصۡحٰبِ الۡفِیۡلِ ؕ﴿۱﴾ 

হে মাহবূব!  আপনি কি দেখেন  নি আপনার  রব ওই হস্তী আরোহী বাহিনীর কি অবস্থা করেছেন?

আমাদের ছোট বড় সকলের জানা রয়েছে যে,আমাদের আকাﷺ এই দুনিয়ায় তাশরিফ আনার ৫০দিন আগে আসহাবে ফিলের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো।কিন্তু আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীবﷺ কে বলছেন-"আপনি কি দেখেননি?"তার অর্থ হলো রাসুলﷺ দেখেছেন।অথচ তিনি তখনও মায়ের পেটেই ছিলেন।বুঝাগেলো ঐসময় ওনার শারীরিক উপস্থিতি যদিওবা দৃশ্যত এপৃথিবীতে ছিলোনা,কিন্তু আসহাবে ফিলের ঘটনায় হাযির-নাযির ছিলেন।

কুরআন মজিদ সেটাই প্রমাণ দিচ্ছে।


এখন কেউ যদি বলে হাযির-নাযির আকীদা নয়,কারণ পূর্বেকার আকীদার কিতাবে তা লিখিত হয়নি।

আমার কথা হলো আগে যদিওবা তা লিখিত হয়নি,কিন্তু তা আকীদা হতে পারবেনা এমন কোনো কথা কি কেউ বলেছেন?অথবা এটার পক্ষে কুরআন হাদীসে ইজমা-কিয়াসের কি কোনো দলিলই নাই?আর কোনটা আকীদা কিংবা কোনটা আকীদা নয়,তা নির্নয়কারী কি কোনো পাড়ার গলির ক্যানভাসারের কাজ?নাকি কোনো ইমামের কাজ?অথবা হাযির-নাযিরের বিপরীতে কি এমন কোনো নসসে কত'য়ী আছে যার মোকাবেলায় এটার স্বপক্ষের দলিল অকেজো?

এই যামানার দাজ্জাল যদি আকীদার ফায়সালা করতে পারে,তাহলে আর আলেম-উলামার দরকার কি?

যদি বলা হয় হাযির-নাযির হওয়া আল্লাহ্ পাকের গুন!তাই বান্দার জন্য এটা শিরক।

আমার কথা হলো খোদাতো এরকম নিজ অনেক গুন দ্বারা তাঁর মাখলুককে গুণান্বিত করেছেন,সেগুলো যদি শিরক না হয়,তাহলে এটা কেনো শিরক হলো?বরং এই শিরক ফতোয়াটাইতো শিরক!কারণ খোদা হাযির-নাযির এমন আকীদা মুসলমান কিকরে রাখতে পারে?খোদা কি আকার আকৃতি বিশিষ্ট? 

কারণ খোদাকে কোনো কিছুই পরিবেষ্টন করতে পারেনা,বরং তিনিই সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন!


আল্লাহর বাণী-

إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ مُحِيطٌ

 -‘‘নিশ্চয় তিনি সব কিছুকে বেষ্টন করে আছেন।’’

(সুরা হা-মীম সিজদাহ, ৫৪) 

 ইমাম ত্বাহাবী (رحمة الله) বলেন-

مُحِيطٌ بِكُلِّ شَيْءٍ وَفَوْقَهُ وَقَدْ أَعْجَزَ عَنِ الإحاطة خلقه

-‘‘প্রত্যেক বস্তুই তাঁর পরিবেষ্টনে রয়েছে এবং তিনি সব কিছুর ঊর্ধ্বে। আর সৃষ্টিকুল তাঁকে পরিবেষ্টনে অক্ষম।’’ 

ইমাম তাহাভী, আক্বিদাতুল তাহাভী, ৫৬পৃ. ক্রমিক. ৫১,(ফতোয়ায়ে আহলে সুন্নাহ,আল্লামা শহিদুল্লাহ বাহাদুর)

হাযির-নাযির অস্বীকারকারী আকীদার দোহাইদাতাদের গালে কষে চপেটাঘাত স্বরুপ নীচের এই একটি উক্তিই যথেষ্ট!

ইমামে আহলে সুন্নাহ আবূ মানসূর মাতুরিদীرحمةالله علیه ওফাত.৩৩৩হি. বলেন-

 وقالت القدرية و المعتزلة أن الله تعالى فى كل مكان 

-‘‘বাতিল ফিরকা মুতাযিলা ও ক্বদরিয়াগণ বলেন, আল্লাহ সব স্থানে উপস্থিত।’’ 

(ইমাম মাতুরিদী, শরহুল ফিকহুল আকবার, ১৯পৃ.)

এবার আসুন আমাদের আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আকায়েদের আরেক ইমাম আবুল হাসান আশ‘আরী (رحمة الله) ওফাত. ৩২৪হি. কি বলেছেন দেখি-

তিনি তার الإبانة عن أصول الديانة গ্রন্থের ১০৯ পৃষ্ঠায় যা দারুল আনসার, কায়রু মিশর হতে প্রকাশিত তাতে লিখেন-

 وزعمت المعتزلة والحرورية والجهمية أن الله تعالى في كل مكان، -

‘‘ মুতাযিলা, হারুরিয়াহ এবং জাহমিয়্যাহ বাতিল ফিরকার লোকেরা বিশ্বাস করে আল্লাহ সকল স্থানে (হাযির-নাযির) আছেন।’’


🔁গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=291502659364863&id=100055153927069


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ