Ticker

6/recent/ticker-posts

সমাচার-১ও ২১এর জবাব!

 


🔰ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ'র প্রতি অপবাদের জবাব-৪৩


👉সমাচার-১ও ২১এর জবাব!

🍳কৈফিয়ত!

সমাচারের যেসব জবাব দেয়া হয়েছে তন্মধ্যে ১৪৫ও আছে,অথচ ১এর জবাব দেয়া হচ্ছে এত দীর্ঘ সময় পর?!?

আসলে এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়!এটার জবাব হুট করে দিয়ে দেয়াটা এতো সহজ ছিলোনা।কারণ সমাচার-১ এ লোকটি "গাউস ছাড়া যমিন আসমান কায়েম থাকতে পারেনা" এটাকে একটা শিরকী আকীদা বলে চালিয়ে দিয়েছিলো!আবার সমাচার-২১ এ এসে এক বাতিল আকীদার লোকের এক পোষ্ট থেকে রেফারেন্স দিয়ে বলেছিলো "কোনো হাদীসে গাউসের কথা আসেনি,আবদালের কথা এসেছে,এবং আবদালের হাদীসটিও যঈফ"!

সুতরাং জবাবটা দেয়ার আগে ভালো করে অনুসন্ধান করা যেমন প্রয়োজন ছিলো,তেমনি কিতাবাদীরও প্রয়োজন ছিলো।তাছাড়া নিজের সমাজিক,পারিবারিক,সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সহ অন্যান্য ব্যস্ততাও ছিলো।

👀তারপরও একটা পোষ্ট তৈরী করেছিলাম Alam Gir নামক আইডিতে।কিন্তু আরোও অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকায় পোষ্টটা আর করা হয়নি।আর এরমধ্যে আইডিটা হ্যাক হয়ে এখন ডিজেবল করে দেয়া হয়েছে।আবার নতুন করে আইডি খুলতে হলো।


👁‍🗨যাইহোক!অনেক চেষ্টার পর হাদীসে গাউসের কথা এসেছে এটা অন্তত প্রমাণ পেলাম।সুতরাং "কোনো হাদীসে গাউসের কথা নাই" এটি একটি ডাহা মিথ্যা!কারণ বর্তমান পৃথিবীতে এমন উলামা হওয়াই অসম্ভব,যার কাছে সকল হাদীসের জ্ঞান আছে,এবং যখন চায় তখন স্মরণও করতে পারবে; এমন কোনো জ্ঞানী নাই।আর কোনো বিষয় নিজে না জানলে তা কোথাও নেই,একথা আহম্মক ছাড়া আর কেউ দাবি করেনা।তারপরও লোকটি অন্তত আবদালের হাদীসকে স্বীকার করেছে।

❓এখন প্রশ্ন হলো আবদালের মকাম বড় নাকি গাউস বা কুতুবের মকাম?যদি উত্তর হয় গাউসের মকাম উচু,তখন প্রশ্ন হলো- যদি আবদালের কারণে যমিন আসমান কায়েম থাকে এটা শিরক না হয়,তাহলে কুতুব বা গাউসের ক্ষেত্রে শিরকের প্রশ্ন কেনো?এর উত্তর যে দিকেই দেয়া হোক ঐওহাবী লোকটিই আটকা পড়বে।

আর তাসাউফ শাস্ত্র যারা দু'এক কলমও পড়েছেন তারা জানেন যে,কুতুবকেই গাউস বলা হয়,আর গাউসের মর্তবা বেলায়তের সর্বোচ্চ মকাম।


📗বুখারী শরীফের কিতাবুর রিকাকের বাবু তাওয়াদু'য়ী,হাদীস নং ৬৫০২! উক্ত হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ্‌ পাক ঘোষণা করছেন-

حدثني محمد بن عثمان حدثنا خالد بن مخلد حدثنا سليمان بن بلال حدثني شريك بن عبد الله بن أبي نمر عن عطاء عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله قال من عادى لي وليا فقد آذنته بالحرب، وما تقرب إلي عبدي بشيء أحب إلي مما افترضت عليه، وما يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها ورجله التي يمشي بها، وإن سألني لأعطينه، ولئن استعاذني لأعيذنه، وما ترددت عن شيء أنا فاعله ترددي عن نفس المؤمن، يكره الموت وأنا أكره مساءته)). 

🖍মুহাম্মাদ ইবনু উসমান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহﷺ বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ যে ব্যাক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে শক্রতা রাখবে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করি। আমার বান্দা আমি যা তার উপর ফরয ইবাদতের চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয় কোন ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করবে না। আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন-- করতে থাকবে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে সবকিছু দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যার দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু সাওয়াল করে, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি যে কোন কাজ করতে চাইলে এটাতে কোন রকম দ্বিধা সংকোচ করি-না যতটা দ্বিধা সংকোচ মুমিন বান্দার প্রাণ হরণে করি। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার কষ্ট অপছন্দ করি।

👁বাহ্যত হাদীসটি আমাদের আলোচ্য বিষয়ের বিষয়বস্তু অনুযায়ী নয়।কিন্তু সুক্ষভাবে বিবেচনায় নিলে তাতে বিষয়বস্তু রয়েছে।যেহেতু আলোচনা আউলিয়ায়ে কেরামের,এবং ওনাদের বেলায়তের সর্বোচ্চ মকাম কুতুবিয়ত তথা গাউসীয়ত নিয়ে।

এটা ছাড়া আরো অনেক হাদীস রয়েছে যেগুলোতে অলিগণের শান বর্ণিত হয়েছে।


👉উল্লেখিত হাদীসটির দিকে তাকান,তারপর দেখুন, আল্লাহ্‌ পাকﷻ বলছেন-

📝আমি তার হাত হয়ে যাই....................!

📝আমি তার পা হয়ে যাই......................!

📝আমি তার কান হয়ে যাই....................!

📝আমি তার চোখ হয়ে যাই...................!

📝আমি তার মুখ হয়ে যাই.....................!

👁অথচ আল্লাহ্‌ পাকﷻ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে পবিত্র!এখন আহম্মক লোকেরা আল্লাহ্‌ এবং তার রাসুলﷺকে ও শিরকের অপবাদ আরোপ করে বসবে হয়তো!


📚সুতরাং আমরা কিতাব অধ্যায়ন করে জানতে পারলাম,ইমাম ইবনে আসাকীরের তারিখে দামেশকে,ইমাম খতিব বাগদাদী রাহঃ তারিখে বাগদাদে গাউস বিষয়ক হাদীস বর্ণনা করেছেন! ইমাম জালাল উদ্দীন সূয়ূতী রাহঃ আল-হাভী লিল ফাতাওয়ায়,ইমাম কুস্তুলানী রাহঃ আল-মাওয়াহিবে,ইমাম ইবনে আবেদীন শামী রাহঃ ইজাবাতুল গাউসে,ইমাম আব্দুল ওয়াহহাব শা"রানী রাহঃ আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াল জাওয়াহির,ইমাম যুরকানী শরহুল মাওয়াহিব, ইমাম ইবনে আরবী ফুতুহাতে সহ অনেক কিতাবে এসেছে।এছাড়া কোথাও আবার কুতুবের কথা এসেছে,অথচ কুতুব আর গাউস একই কথা।কখনও গাউসকে কুতুব বলা হয়।

📕যেমনটি উল্লেখিত কিতাবাদী ছাড়াও মীর সৈয়দ শরীফ জুরজানী রাহঃ আততারিফাতে,জাওয়াহিরিল মা'আনী,বাহজাতুল আসরার,ফতুহাতে মক্কীয়া ইত্যাদীতে এসেছে।

অর্থাৎ-যিনি কুতুব তিনিই গাউস।গাউসকে কুতুব বলা হয়ে থাকে।


📔কুতুব বা গাউসের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে শায়খুল আকবার ইমাম মহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী রাহঃ ফুতুহাতে মক্কীয়্যাহ্'র কিতাবের ৭ম খন্ডের পৃ. লিখেছেন-

الاقطاب وهم الجامعون للاحوال والمقامات بالاصالة أوبالنیابةِ کماذکرناوقدیتوسعون فی هذا الإطلاق فیسمون قطباکل من دارَعلیه مقام مامن المقاماتِ وانفرادبه فی زمانه علی ابناءِ جنسه وقدیسمیَّ رجل البلدقطب ذلک البلدشیخ الجمعة قطب تلک الجماعة ولکن الاقطاب المصطلح علی أن یّکون لهم هذا الاسم مطلقا من غیر إضافة لایکون منهم فی الزمانإلا واحد وهو الغوث ایضا وهو من المقربین وهو سیدالجماعة فی زمانه.

🖋কুতুবগণ!ওনারা মৌলিকভাবে সরাসরি অথবা অন্যের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সকল আধ্যাত্মিক হালও মকামের ধারক হয়ে থাকেন।সূফীগণ কখনও কুতুব শব্দের মধ্যে ব্যাপক অর্থের সমাবেশ ঘটান।আর এমন ব্যক্তিকে কুতুব বলেন,যার মধ্যে মকামগুলোর কোনো একটি প্রকাশ পায়।অথবা তাঁর সমশ্রেণীর মধ্যে স্বীয় যুগে স্বতন্ত্র মর্যাদা অর্জন করেন।এসব অর্থের ভিত্তিতে কোনো শহরের (সর্বোচ্চ মকাম অধিকারী)ব্যক্তিকে ওই শহরের কুতুব বলা হয়।আর কোনো একই দলভূক্ত শায়খ কিংবা মুর্শিদের মধ্যে উচ্চ মকাম অধিকারী ব্যক্তিকে ওই দলের কুতুব বলা হয়।কিন্তু তরীকতের পরিভাষায় কুতুব উপাধীটি কোনো ইযাফাত ছাড়াই শর্তহীনভাবে এমন এক অলির বেলায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে,যিনি তার যুগের অলিগণের মধ্যে শুধু একজনই হন।আর তাকেই গাউস বলা হয়।তিনি অলিগণের মধ্যে আল্লাহর খুবই নৈকট্যবান এবং তার যুগের সকল অলির সরদার হয়ে থাকেন।

📒মুজাদ্দিদে আলফেসানী শায়খ আহমদ ফারুক সিরহিন্দী রাহঃ ওনার মাকতুবাত শরীফে ২৫৬নং মাকতুবে লিখেছেন-

قطب راباعتبار اعوان وانصارا وقطب الاقطاب نیر گویند

📝কুতুবকে তার নিয়ন্ত্রণাধীন সহচরদের বিবেচনায় কুতুবুল আকতাব বলে।

(বাংলা২৩২-২৩৪পৃ.দেখুন)

📗ইমাম ইবনে আবেদীন শামী রাহঃ'র একটি কিতাবের নাম-

اجابة الغوث ببیان حال النقباء- والنجباء- والابدال- والاوتاد- والغوث

(ইজাবাতুল গাউস বিবয়ানি হালি আন্নুকাবা, ওয়ান্নুজাবা,ওয়াল আবদাল, ওয়াল আউতাদ, ওয়াল গাউস)

কিতাবের নাম থেকেই পরিস্কার বিষয়বস্তু কি!গাউস কাকে বলে,কুতুব কাকে বলে,হাদীসে গাউস বা কুতুবের বর্ণনা আছে কিনা,সুফিয়ায়ে কিরামের মতামত ইত্যাদী এই কিতাবে আলোচিত হয়েছে।

📂ইমাম আহমদ বিন হাম্বল,ইমাম আবি নুয়াঈম ইসফাহানী,ইমাম তাবরানী,ইমাম খাল্লাল,ইমাম দায়লামী,ইমাম হাকীম তিরমিযী,ইমাম যুবাইদী,ইমাম আদী,ইয়াযিদ ইবনে হারুন,ইমাম ইবনে আসাকীর,ইমাম খতিব বাগদাদী,ইমাম হাইসামী,ইমাম সূয়ূতী,ইমাম ইবনে হাজার হায়তামী,ইমাম কুস্তুলানী,ইমাম আলী কারী,শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী আলাহিমুর রাহমাতগণ সহ আরো অনেকে গাউস,কুতুব,আবদাল ইত্যাদী বিষয়ে অনেক হাদীস আপনাপন কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন।


📚ইমাম মীর সৈয়দ শরীফ জুরজানী রাহঃ'র একটি কিতাব "আত্তা'রিফা-ত!" উক্ত কিতাবে বিভিন্ন দূর্বোধ্য আরবী শব্দাবলী,সূফিয়ায়ে কিরামের ব্যবহৃত শব্দাবলী নিয়ে লিখা হয়েছে।সেখানে ১৪৯পৃ. ১৪২১নং শব্দ (القطب) কুতুব কাকে বলে সে বিষয়ে লিখা হয়েছে-

وقدیسمی غوثا باعتبارالتجاء الملهوف الیه، وهوعبارة عن الواحدالذی هوموضوع نظرالله فی کل زمان اعطاه الطلسم لاعظم من لدنه،

এখানে বলা হয়েছে কুতুবের নামই গাউস।এবং তিনি প্রতিটি যামানায় একজনই হয়ে থাকেন।এরপর ১৪২২নং-القطبیة الکبری সে বিষয়ে লিখেছেন-

هی مرتبة قطب الاقطاب، 

তিনি বিস্তারিত লিখেছেন আমি সংক্ষেপ করেছি।

📚ইমাম জালাল উদ্দীন সূয়ূতী রাহঃ একটি কিতাব লিখেছেন ওনার বিখ্যাত কিতাব আলহাভী লিল-ফাতাওয়ায়।উক্ত কিতাবের নাম দিয়েছেন-

الخبر الدال على وجود القطب والأوتاد والنجباء والأبدال 

এরপর তিনি কিতাবটি কেনো লিখেছেন সে বিষয়ে লিখছেন-

فقد بلغني عن بعض من لا علم عنده إنكار ما اشتهر عن السادة الأولياء من أن منهم أبدالا ونقباء ونجباء وأوتادا وأقطابا

পরিস্কার বলে দিলেন, ঐসব লোকদের খন্ডনে লিখেছেন; যার আউলিয়ায়ে কেরামগণের শানের বিরোধী!

এরপর সে বিষয়ে বলছেন-

وقد وردت الأحاديث والآثار بإثبات ذلك فجمعتها في هذا الجزء لتستفاد ولا يعول على إنكار أهل العناد وسميته الخبر الدال على وجود القطب والأوتاد والنجباء والأبدال والله الموفق فأقول ورد في ذلك مرفوعا وموقوفا

এখন ইমাম সূয়ূতী রাহঃ'র বর্ণনায় আমরা দেখি যে, যারা আউলিয়ায়ে কেরামগণকে অস্বীকারকারী তাদের খন্ডনে তিনি একিতাব লিখেছেন,এবিষয়ে অসংখ্য হাদীস এবং আসার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন!আর মারফু ও মাওকুফ বর্ণনা রয়েছে বলে উল্লেখ করলেন!

এরপর বর্ণনাকারীগণের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও দিলেন-

والله الموفق فأقول ورد في ذلك مرفوعا وموقوفا من حديث عمر بن الخطاب وعلي بن أبي طالب وأنس وحذيفة بن اليمان وعبادة بن الصامت وابن عباس وعبد الله بن عمر وعبد الله بن مسعود وعوف بن مالك ومعاذ بن جبل وواثلة بن الأسقع وأبي سعيد الخدري وأبي هريرة وأبي الدرداء وأم سلمة رضي الله تعالى عنهم


👉তাহলে আমরা জানতে পারলাম যে "গাউস ছাড়া যমিন আসমান কায়েম থাকতে পারেনা" এটাকে তারাই শিরিক বলবে, যারা অজ্ঞ! যারা অলিগণের দুষমন!আর "কোনো হাদীসে গাউসের কথা নেই" এটা বলাও মূর্খদের স্বভাব!

কোনো কিছু না জানা না থাকার প্রমাণ নয়।না জানাটা হলো চরম অপরাধ,যেহেতু না জানা বিষয়ে সে কথা বলে।


আল্লাহ্‌ কাদীর!সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।তারপরও আল্লাহ্‌ বলছেন-আজরাঈল আঃ মৃত্যু দেন,আবার বলছেন-আল্লাহ্ই মৃত্যু দেন।তাহলে আজরাঈল মৃত্যু দেন বলা কি শিরক হয়ে গেলোনা?

আল্লাহ্‌ই রিযিকদাতা।কিন্তু রিযিক পৌছানোর অনেক পথ তৈরী করে রেখেছেন,আবার রিযিকের কাজে ফিরিশতাও নিয়োজিত আছে,তাহলে শিরকের ফতোয়া কার উপর?

আল্লাহ্‌ আসমানকে শূন্যের উপর রেখেছেন,অথচ আরশ বহন করার কাজে ফিরিশতা নিয়োজিত করেছেন।তাহলে শিরক হলোনা?

বৃষ্টি বর্ষণ,মেঘের গর্জন,আমল নামা লেখা,শিঙ্গায় ফুৎকার ইত্যাদী অসংখ্য দলিল দেয়া যায়!আল্লাহ্‌ ক্ষমতাবান হওয়া সত্বেও ফিরিশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন!

তাহলে গাউস-কুতুব দ্বারা যমিন আসমান কায়েম না থাকলে সেটার উপর শিরকের ফতোয়া কেনো?

এবার আসুন কুতুব বা গাউস বিষয়ে উলামায়ে কিরামগণের মতামত জেনে নিই।


🖍ইমাম আলী কারী হানফী রাহঃ নুযহাতুল খাতিরিল ফাতির ফী তারজুমাতি সায়্যিদিশ শরীফ আব্দিল কাদীর কিতাবের ৬পৃ.লিখেছেন-


لقد بلغنی عن بعض الاکابرأن الإمام الحسن ابن سیدنا علی رضی الله تعالی عنه مالماتراک الخلافة لما فیها من الفتنة والافة عوضه الله سبحنه وتعالی القطبیة الکبري فیه وفی نسله وکان رضی الله تعالی عنه القطب الاکبر وسیدالشیخ عبدالقادر هوا القطب الاوسط والمهدی خاتمة الاقطاب.

📝নিশ্চয় আকাবির ওলামাগণ থেকে আমার নিকট খবর পৌছেছে যে,হযরত ইমাম হাসান রাঃ ফিতনা ফ্যাসাদের কারণে যখন খিলাফতের দাবী ছেড়ে দিলেন, তখন আল্লাহ্ পাক এর পরিবর্তে তাঁর ও তাঁর বংশধরদের মধ্যে কুতুবিয়তে কুবরার মর্যাদা দান করেছেন।প্রথম কুতুবে আকবর হলেন ইমাম হাসান রাঃ,হযরত শায়খ আব্দুল কাদীর তিনিই হলেন মধ্যখানে শুধুমাত্র  কুতুবে আকবর।সর্বশেষ কুতুবে আকবর হবেন ইমাম মাহদী আঃ।

📔তিনি ওনার অন্য কিতাব মিরকাতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবিহ কিতাবের ১০ম খন্ড,২৭৬পৃ.লিখেন-

‌وقال الشیخ زکریا رحمه الله فی رسالته المشتملة علی تعریف ألفاظ الصوفیة القطب ویقال له الغوث هو الواحد.

‌📝শায়খ যাকারিয়া রাহঃ তঁর একটি কিতাবে সুফিয়ায়ে কিরামের অধিক ব্যবহৃত শব্দাবলীর সংজ্ঞায় বলেন,তাদের প্রথম শব্দ হলো কুতুব,যাকে গাউস বলা হয়।

‌🖌তিনি ১৭৬ পৃ.লিখেন-

‌فهم الأقطاب فی الأقطار یأخذون الفیض من قطب الأقطاب المسمی بالغوث.ضرب

‌📝তাঁরা পৃথিবীর চার প্রান্তের কুতুব,যারা কুতুবুল আকতাব।যাকে গাউসুল আযমও বলা হয়ও তাঁর থেকে ফয়েয গ্রহণ করে থাকেন।

‌🖊ইমাম ইবনে আবেদীন শামী রাহঃ ইজাবাতুল গাউস কিতাবের পৃ.লিখেন-

‌وایضافی کلام سیدنا الامام الشافعی تفسیرالقطب الغوث فدل علی ثبوته وانهما شی واحداً

‌📝এখনি ইমাম শাফেয়ী রাহঃ'র ভাষ্য আসবে যে,তুনি কুতুব লকবের ব্যাখ্যা গাউস করেছেন।

‌🖋তিনি আরো লিখেছেন-

‌والواحد المذکور فی هذه الحدیث هو القطب وهو الغوث الفرد

‌📝এহাদীসে উল্লেখিত একজন অলি যিনি হন,তিনি হলেন কুতুব।যাকে গাউস বলা হয়।

‌🖋তিনি আরো লিখেন-

‌راسهم القطب الغوث الفرد الجمع.

‌📝যিনি আউলিয়ায়ে কেরামগণের প্রধান হন,তিনি হলেন কুতুব।যাকে গাউসও বলা হয়।

‌🖍আরো লিখেন-

‌اکمل الخلق فی کل عصر القطب.

‌📝প্রতিযুগে কুল কায়িনাতের সর্বাধিক কামিল হলেন কুতুব।

‌🖊তিনি লিখেন-

‌ولغوث الواحد.

‌📝যিনি এক, তিনি হলেন গাউস।

‌🖌আরো লিখেন-

‌وقد سترت  احوال القطب وهو الغوث..............

‌📝কুতুবের অভ্যন্তরীণ অবস্থা গোপন রাখা হয়েছে।তিনিই গাউস।

‌🖍আরো লিখেন-

‌اما القطب فردفی بعض الاثار واما الغوث بالوصف المشتهر بین الصوفیة فلم یثبت.

‌📝কুতুব লকবটি কিছু হাদীসে উল্লেখ হয়েছে।আর গাউস লকবটি সূফীয়ায়ে কিরামের পরিভাষায় ব্যবহৃত...............................!

‌🖋আরো লিখেন-

‌مامن قریة مٶمنة کانت اوکافرة الافیها قطب.

‌📝মু'মিন অঞ্চল হোক অথবা কাফির,প্রত্যেক অঞ্চলে একজন কুতুব থাকেন।

‌🖋ইমাম নাবহানী রাহঃ জামে কারামাতিল আউলিয়ার৬৯পৃ.লিখেন-

‌وقد یسمی رجل البلد قطب ذلک البلد وسیخ الجماعة قطب تلک الجماعة 

‌🖌তিনি আরো লিখেন-

‌ولکن الاقطاب المصطلح علی ان یکون لهم هذا الاسم مطلقا من غیر اضافة لایکون منهم فی الزمان الاواحد وهو الغوث ایضا وهو من المقربین وهو سیدالجماعة فی زمانه.

‌📝তরিকতের পরিভাষায় কুতুব লকবটি ইযাফত ছাড়া অলিগণের মধ্যে সাধারণভাবে এমন একজন অলির জন্য ব্যবহৃত হয়,যিনি তার যুগের অলিদের মধ্যে শুধু এজজনই হন।

‌🖊ইমাম আলী কারী হানফী রাহঃ মিরকাতের ১০ম খন্ডের১৭৮পৃ.লিখেন-

‌فاذا مات القطب الافخم ابدل من هذه الاربعة احد بدله غالبا-

‌📝কুতুবুল আকতাব বা গাউসুল আযম যখন ইন্তিকাল করেন,তখন অধিকাংশ সময় চার কুতুব থেকে একজনকে তার জায়গায় বসানো হয়।

‌🖍তাফসীরে রুহুল বয়ানের ১ম খন্ড ৯৩পৃ.ইমাম ইসমাঈল হক্কী রাহঃ লিখেন-

‌واعلم ان الله تعالی یحفظ العالم بالخلیفة کما یحفظ الخزاٸن بالجختم وهو القطب الذی لا یکون فی کل عصر الا واحد فالبدء بادم علیهرالسلام والختام یکون بعیسی علیه السلام.

‌📝জেনে রাখো,আল্লাহ্ তায়ালা বিশ্ব-ভ্রাম্মাণ্ডকে হিফাজত করেন খলিফা দ্বারা যেভাবে তহসিলদার দ্বারা ট্রেজারী হিফাজত করা হয়।তিনি হলেন কুতুব।তিনি প্রতিটি যুগে একজনই থাকেন।

‌🖌ইমাম ইবনুল আরবী রাহঃ ফুতুহাতে মক্কীয়্যাহ্'র ৭৩নং অধ্যায়ে বলেন-

‌ان العالمذلا یخلو زمانا واحدا من قطب یکون فیه

‌📝বিশ্ব জগতে প্রতিযুগে একজন কুতুব থাকবেন।

‌🖋ইবনে আবেদীন শামী রাহঃ ইজাবাতুল গাউসের পৃ.লিখেন-

‌قال ذوالنون المصری رضی الله تعالی عنه التباء ثلثمانة والنجباء سبعون والبدلاء اربعون والاخیار سبعة والعمداربعة والغوث

📝যুন্নুন মিসরী রাহঃ বলেছেন,নুকাবা তিনশ জন,নুজাবা সত্তর জন,বুদালা চল্লিশ জন, আখইয়ার সাত জন,আমদ চার জন, এবং গাউস একজন।

🖊তিনি আরো লিখেন-

وحکی ابوبکر المطوعی انه رای الخضر علیه السلام وتکلم معه وقال له اعلم ان رسول الله صلی الله تعالی علیه وسلم قبض بکت الارض وقالت الهی وسیدی بقیت لا یمشی علی نبی الی یوم القیامة فاوحی الله تعالی الیها اجعل علی ظهرک من هذه الامة من قلوبهم علی قلوب الانبیاء علیه الصلاة والسلام لا اخلیک منهم الی یوم القیمة قالت له وکم هٶلاء قال ثلثماٸة وهم الاولیاء وسبعون وهم النجباء واربعون وهم الاوتاد وعشرة وهم النقباء وسبعة وهم العرفاوثلاثة وهم المختارون وواحد وهو الغوث.

📝আবু বকর আল মাতুয়ী রাহঃ বর্ণনা করেন, তিনি হযরত খিজির আঃ কে দেখেন এবং ওনার সাথে কথা বলেন।তিনি তাকে বলেন- তুমি জেনে রেখো যে,নিশ্চয় যখন রাসুলﷺকে তুলে নেয়া হলো তখন যমিন কাঁদতে লাগলো এবং বললো- হে আল্লাহ্!আমি অবশিষ্ট থাকবো অথচ কিয়ামত পর্যন্ত আমার উপর আর কোনো নবী চলে ফেরা করবেনা।অতএব আল্লাহ্ তায়ালা তাকে  বললেন-  তোমার উপর উম্মতের এমন সব বান্দা থাকবে,যাদের কলব নবীগণের কলবের সাথে সম্পর্কিত থাকবে।কিয়ামত পর্যন্ত তারা তোমার উপর থাকবে। যমিন জিজ্ঞেস করলো তাদের সংখ্যা কতো?বলা হলো-৩০০শ আউলিয়া, ৭০জন নুজাবা,১০জন নুকাবা,৭হন উরাফা,৩জন মুখতার,এবং একজন গাউস।


🖊ইমাম আব্দুল বাকী যুরকানী রাহঃ শরহুল মাওয়াহিবে লিখেন-


وتصریح غیره بان القطب واحد کلما مات ابدل 

📝কুতুব একজন থাকেন।তিনি ইন্তেকাল করলে আরেকজনকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

🖍আরো বলেন-

واذا مات القطب خلفه احد الامامین لانهما بمنزلة الوزیرین.

📝কুতুবের ইন্তিকাল হলে তার দু'ইমাম থেকে একজনকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।যেহেতু তারা দু'জন উজির পদমর্যাদার হন।

🖊ইমাম আলী কারী রাহঃ লিখেন-

القطب ویفال الغوث هو الواحدالذی هو محل نظر الله تعالی من العالم فی کل زمان.

📝উনি কুতুব!তিনিই গাউস।প্রতিটি যুগে তিনি একজনই হন,এবং সমগ্র আলমে আল্লাহ্'র দৃষ্টিস্থল হন।(মিরকাত,১৭৮পৃ.)


📡গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/groups/158527080857207?view=permalink&id=3489303257779556

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ