🆚আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব। পর্ব:-৬৩
#মুহাম্মদ_আলমগীর।
হাদীসে পাক থেকে হাযির-নাযিরের প্রমাণ!
যদিওবা আমি কুরআনে পাক থেকে মাত্র দুটি আয়াতই গতপর্বে উপস্থাপন করেছি,তবুও কুরআনে পাকে এর স্বপক্ষে আরো অনেক আয়াতই রয়েছে।আমি আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছিনা।তবুও সময় সুযোগমত মো'মিনদের অন্তরের শান্তনার জন্য পরবর্তী সময়ে কুরআনী আয়াতগুলো উপস্থাপন করার আশা রাখি।আল্লাহ্ পাক তাওফিকদাতা।
এবার আমি আপনাদের সামনে সহীহ্ বুখারী থেকে কয়েকটি হাদীস উপস্থাপন করছি।আশা করি বদবখত লোকদের গোমরাহীপূর্ণ নাপাক ভিডিওগুলো থেকে মুসলমান তার আকীদাকে হিফাজত করতে এগুলো বড়ই শানদার হাতিয়ার হবে ইনশাআল্লাহ্!
সহীহ্ বুখারীর কিতাবুল মাগাজি,
باب غزوة موتة من أرض الشأم:
এখানে একটি হাদীসের দিকে আমরা এখন দৃষ্টি দেবো-
«4262» حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ وَاقِدٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَى زَيْدًا وَجَعْفَرًا وَابْنَ رَوَاحَةَ لِلنَّاسِ، قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَهُمْ خَبَرُهُمْ فَقَالَ: ((أَخَذَ الرَّايَةَ زَيْدٌ فَأُصِيبَ، ثُمَّ أَخَذَ جَعْفَرٌ فَأُصِيبَ، ثُمَّ أَخَذَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَأُصِيبَ- وَعَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ- حَتَّى أَخَذَ الرَّايَةَ سَيْفٌ مِنْ سُيُوفِ اللَّهِ حَتَّى فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ)).
আহমদ ইবনু ওয়াকিদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করিমﷺ এর নিকট (মুতার) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে খবর এসে পৌছার পূর্বেই তিনি উপস্থিত মুসলমানদেরকে যায়িদ, জাফর ও ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) এর শাহাদতের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যায়িদ (রাঃ) পতাকা হাতে অগ্রসর হলে তাঁকে শহীদ করা হয়। তখন জাফর (রাঃ) পাতাকা হাতে অগ্রসর হল, তাকেও শহীদ করে ফেলা হয়। তারপর ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) পতাকা হাতে নিল। এবার তাকেও শহীদ করে দেয়া হল। এ সময়ে তাঁর দু’চোখ থেকে অশ্রুধারা প্রবাহিত হচ্ছিল। (তারপর তিনি বললেন) অবশেষে সাইফুল্লাহ্দের মধ্যে এক সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) হাতে পতাকা ধারণ করেছে। ফলত আল্লাহ্ তাদের উপর (আমাদের) বিজয় দান করেছেন।’(সহীহ্ বুখারী,পৃ.১০৪৪, হাদীস-৪২৬২,দারু ইবনু কাসীর,দামেশক ও বৈরুত)
এছাড়াও দেখুন:-1246، 2798، 3063، 3630، 3757،নং হাদীস সমূহ
এইহাদীসের প্রতি মনোযোগ দেয়ার পর আমাদের কাছে এবিষয়টা একেবারেই পরিস্কার হয়ে যায় যে,রাসুলে করীমﷺ হাযির এবং নাযির হওয়ায় তিনি মদীনার যমিন থেকেই সূদূর মু'তা যুদ্ধের সম্পূর্ণ পরিস্থিতি সরাসরি দেখতে পাচ্ছিলেন।আর যুদ্ধে যাবতীয় অবস্থা সাহাবায়ে কেরামগণের কাছে বর্ণনা করছিলেন।
তিনি ফরমাচ্ছেন-
পতাকা এখন যায়েদ বিন হারেসার হাতে। অতপর যুদ্ধ চলছে।যায়েদ শহীদ হয়ে গেছেন।পতাকা এখন জা'ফর বিন আবি তালিবের হাতে। অতপর যুদ্ধ চলছে।জা'ফর শহীদ হয়ে গেছেন।পতাকা এখন আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার হাতে।অতপর যুদ্ধ চলছে।ইবনে রাওয়াহা শহীদ হয়ে গেছেন।...................।
এভাবেই যুদ্ধের সম্পূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন।পরবর্তীতে সাহাবা যখন যুদ্ধের সংবাদ নিয়ে এসেছেন,তখন হুযুরﷺ নিজেই বলেছেন- যুদ্ধের বর্ণনা তুমি দেবে নাকি আমিই দেবো?সাহাবী আরজ করলেন আপনিই বলুন।হুযুর যখন বলা শেষ করলেন- আপনি যেমন বলেছেন তাই হুবহু হয়েছে।এটা কী?এটা কি যথেষ্ট নয়?
কোথায় শাম দেশের মুতার যুদ্ধের ময়দান,আর কোথায় মদিনায়ে তাইয়্যেবাহ! নবীয়ে দো'আলমﷺ সেখানকার সংবাদ কি নিখুত বর্ণনা দিচ্ছেন!স্বশরীরে সেখানে উপস্থিত হওয়ার মতোই।
বাদশা নাজ্জাশীর ওফাত পাওয়া এবং রাসুলﷺ তার খবর দিয়েছেন,সাহাবীগণকে নিয়ে তাঁর জানাযা পড়েছেন,এটাওতো বুখারী শরীফেরই হাদীস।অন্যান্য কিতাবের কথা নাইবা বললাম।এরকম হাদীসতো ভূরী ভূরী।
সহীহ্ বুখারী,কিতাবুল জানাইয,
باب الرجل ينعى إلى أهل الميت بنفسه:
«1245» حدثنا إسماعيل قال: حدثني مالك عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نعى النجاشي في اليوم الذي مات فيه، خرج إلى المصلى، فصف بهم وكبر أربعا.
ইসমাঈল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাজ্জাশী যে দিন মারা যান সেদিন-ই রাসূলুল্লাহ ﷺতাঁর মৃত্যু সংবাদ দেন এবং জানাযার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবদ্ধ করে চার তাক্বির আদায় করলেন।(সহীহ বুখারী,পৃ.৩০২,হাদীস-১২৪৫,দারু ইবনু কাসীর)
আরো দেখুন:- 1318، 1327، 1328، 1333، 3880، 3881، নং হাদীস সমূহ
বুখারীতেই রয়েছে- নামাযে রাসুলﷺ সামনে এগিয়ে আবার পেছনে সরে এসেছেন।সাহাবাগণ নামাযের পর জানতে চাওয়ায় বলেন- জান্নাত আমার সামনে এসে গিয়েছিলো।আমি সেখানকার আঙ্গুর গাছ থেকে আঙ্গুর নিতে চেয়েছিলাম।তার এক গোছা নিলে তোমরা সবাই খেয়ে শেষ করতে পারতেনা।
সহীহ্ বুখারী,কিতাবুল আমল ফিসসালাত,
باب إذا انفلتت الدابة في الصلاة:
وقال قتادة إن أخذ ثوبه يتبع السارق ويدع الصلاة.
«1212» حدثنا محمد بن مقاتل أخبرنا عبد الله أخبرنا يونس عن الزهري عن عروة قال قالت عائشة خسفت الشمس، فقام النبي صلى الله عليه وسلم فقرأ سورة طويلة، ثم ركع فأطال، ثم رفع رأسه، ثم استفتح بسورة أخرى، ثم ركع حتى قضاها وسجد، ثم فعل ذلك في الثانية، ثم قال: ((إنهما آيتان من آيات الله، فإذا رأيتم ذلك فصلوا حتى يفرج عنكم، لقد رأيت في مقامي هذا كل شيء وعدته، حتى لقد رأيتني أريد أن آخذ قطفا من الجنة حين رأيتموني جعلت أتقدم، ولقد رأيت جهنم يحطم بعضها بعضا حين رأيتموني تأخرت، ورأيت فيها عمرو بن لحي وهو الذي سيب السوائب)).
মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল। রাসূলﷺ (সালাতে) দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ সূরা পাঠ করলেন, এরপর রুকু' করলেন, আর তা দীর্ঘ করলেন। তারপর রুকু' থেকে মাথা তুলেন এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করতে শুরু করলেন। পরে রুকু' সমাপ্ত করে সিজ্দা করলেন। দ্বিতীয় রাকা'আতেও এরূপ করলেন। তারপর বললেনঃ এ দু'টি (চন্দ্রগ্রহন ও সূর্যগ্রহন) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। তোমরা তা দেখলে গ্রহন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে, আমাকে যা ওয়াদা করা হয়েছে তা সবই দেখতে পেয়েছি। এমন কি যখন তোমরা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে দেখেছিলে তখন আমি দেখলাম যে, জান্নাতের একটি (আঙুর) গুচ্ছ নেওয়ার ইচ্ছা করছি। আর যখন তোমরা আমাকে পিছনে সরে আসতে দেখেছিলে আমি দেখলাম জাহান্নাম, সেখানে আমর ইবনু লুহাইকে যে সায়িবাহ প্রথা প্রবর্তন করেছিল।"(সহীহ্ বুখারী,পৃ.২৯২,হাদীস-১২১২, দারু ইবনু কাসীর)
আরো দেখুন বুখারীর এই হাদীস সমূহ:- 1044، 1046، 1047، 1050، 1056، 1058، 1064، 1065، 1066، 3203، 4624، 5221، 6631،
খতিবে পাকিস্তান আল্লামা শফি উকাড়বী রাহঃ ওনার বিখ্যাত কিতাব আযযিকরিল জামিল ফি হুলইয়াতিল হাবীবিল খলিলে হুযুরের চোখ মোবারকের আলোচনায় লিখেছেন- "বেহেশতের অবস্থান সপ্ত আসমানের উপরে,আর জাহান্নামের অবস্থান সপ্ত যমিনের নীচে।"
তাহলে এটা কি আমার নবীর হাযির-নাযিরের দলিল নয়?
এখানে একটি কথা বলে রাখি,তাহলো-
হাযির-নাযিরের মূল কথা এটা নয় যে,রাসুলে করিমﷺ প্রতিটি জায়গায় সব সময় হাযির থাকেন!বরং এটা হলো হুযুরেরﷺ আপন মর্জি।চাই তিনি কোথাও স্বশরীরে উপস্থিত হোন,অথবা আপন অবস্থানস্থল থেকে দেখুন।
আমাদের কথা হলো তিনি যখন যেখানে চান যেতে পারেন।এটাতে আল্লাহ্ ওনাকে ক্ষমতা দিয়েছেন।তিনি চাইলে উপস্থিত হন।নতুবা হননা।তিনি আপন রওজা পাক থেকে জগতের সবকিছুই দেখতে সক্ষম।কোনো কিছু আল্লাহ্ পাক ওনার থেকে লুকায়িত রাখেননি।
তিনি একই সময়ে চাইলে অনেক স্থানে উপস্থিত থাকতে পারেন।এতে রওজা পাকের সাথেও ওনার সম্পর্ক ছিন্ন হয়না।এর বিপরীত বলনে ওয়ালা হলো বদবখত গোস্তাখ।মালাকুল মাউত যদি একই সময়ে অনেক স্থানে মূহুর্তে মানবাত্মার জান কবজ করতে উপস্থিত হতে পারেন,তাহলে আমাদের আকাﷺ কেনো একাধিক স্থানে বিচরণ করতে পারবেননা?আযরাঈল কি নবীর মর্যাদার উপরে?
মি'রাজ রজনীতে মুসা আঃ কে হুযুর পাকﷺ তাঁর মাযার শরীফে দাড়িয়ে নামায পড়তে দেখেছেন।
আবার যখন বায়তুল মুকাদ্দাসে গিয়েছেন,তখন মুসা আঃ সেখানেও ছিলেন।যখন আসমানে গিয়েছেন তখন সেখানে মুসা আঃতো ছিলেন,অন্যান্য আম্বিয়ায়ে কিরামগণও ছিলেন,অথচ ওনারা যমিনে হুযুরের মুক্তাদী হয়ে নামায পড়েছেন।
আবার বায়তুল মামুরেও সমস্ত আম্বিয়া হুযুরের মুক্তাদী হয়ে নামায পড়েছেন।
এরপরও ওনাদের রওজা ওনাদের অবস্থান থেকে খালি ছিলোনা।তাহলে কি আমাদের নবী ওনাদের চাইতেও কম ক্ষমতাসম্পন্ন?
মিশকাত শরীফের কিতাবুল ফাযায়েলে বাবুল মি'রাজে মুসলিম শরীফের বরাতে ইমাম খতিব তিবরিযী রাহঃ ৫৮৬৬নং হাদীস উল্লেখ করেছেন এভাবে-
5866 -
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : " لقد رأيتني في الحجر وقريش تسألني عن مسراي فسألتني عن أشياء من بيت المقدس لم أثبتها فكربت كربا ما كربت مثله فرفعه الله لي أنظر إليه ما يسألوني عن شيء إلا أنبأتهم وقد رأيتني في جماعة من الأنبياء فإذا موسى قائم يصلي . فإذا رجل ضرب جعد كأنه أزد شنوءة وإذا عيسى قائم يصلي أقرب الناس به شبها عروة بن مسعود الثقفي فإذا إبراهيم قائم يصلي أشبه الناس به صاحبكم - يعني نفسه - فحانت الصلاة فأممتهم فلما فرغت من الصلاة قال لي قائل : يا محمد هذا مالك خازن النار فسلم عليه فالتفت إليه فبدأني بالسلام " . رواه مسلم
-‘‘রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, মি‘রাজের রাত্রে আম্বিয়া (عليه السلام) এর এক বিরাট জামাতকে দেখেছি, মুসা (আঃ )-কে তাঁর কবরে নামায পড়তে দেখেছি। তাকে দেখতে মধ্য আকৃতির চুল কোকরানো সানওয়া দেশের লোকের মত। আমি ঈসা (عليه السلام) কে দন্ডায়মান অবস্থায় নামায পড়তে দেখেছি, তিনি দেখতে ওরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফী (رضي الله عنه)‘র মত। আমি ইবরাহীম علیه السلام কে দন্ডায়মান অবস্থায় নামায পড়তে দেখলাম,তিনি তোমাদের এই সঙ্গীর মতো।তিনি নিজের দিকে ইশারা করলেন।তার পরে নামাযের সময় আসলো আমি সকল নবী(عليه السلام) এর ইমামতি করলাম।’’
খতিব তিবরিযী : মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫/৫৬৮ : হাদিস : ৫৮৬৬, ইমাম বায়হাকী : দালায়েলুল নবুয়ত : ২/৩৮৭ পৃ:,ইমাম তকি উদ্দিন সুবকী :শিফাউস-সিকাম : ১৩৫-১৩৮পৃ. ইমাম সূয়ূতী : আল-হাভীলিল ফাতওয়া : ২/২৬৫পৃ., ইমাম সাখাভী : কওলুল বদী : ১৬৮পৃ.,ইমাম মুকরিজী : ইমতাঈল - আসমা: ৮/২৪৯ পৃ:)
সহীহ বুখারীতেই একাধিকবার এসেছে-
قِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي
-‘‘নামাযে তোমাদের কাতার সোজা রাখ’ জেনে রাখ, আমি তোমাদেরকে পেছনের দিক থেকেও দেখতে পাই।’’
সহীহ্ বুখারী কিতাবুল জিহাদ ওয়াসসিয়র,
باب من أتاه سهم غرب فقتله:
«2809» حدثنا محمد بن عبد الله حدثنا حسين بن محمد أبو أحمد حدثنا شيبان عن قتادة حدثنا أنس بن مالك أن أم الربيع بنت البراء وهي أم حارثة بن سراقة أتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا نبي الله، ألا تحدثني عن حارثة وكان قتل يوم بدر أصابه سهم غرب، فإن كان في الجنة، صبرت، وإن كان غير ذلك اجتهدت عليه في البكاء. قال: ((يا أم حارثة، إنها جنان في الجنة، وإن ابنك أصاب الفردوس الأعلى)).
[أطرافه 3982، 6550، 6567، تحفة 1301].
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, উম্মে রুবায়্যি বিনতে বারা, যিনি হারিসা ইবনু সুরাকার মা, রাসূলুল্লাহﷺ এর কাছে এসে বললেন, ইয়া নাবীয়াল্লাহ! আপনি হারিসা (রাঃ) সম্পর্কে আমাকে কিছু বলবেন কি? হারিসা (রাঃ) বদরের যুদ্ধে অজ্ঞাত তীরের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। সে যদি জান্নাতবাসী হয়ে থাকে তবে আমি সবর করব, তা না হলে আমি অবিরত কাঁদতে থাকবো। রাসূলুল্লাহﷺ বললেন, হে হারিসার মা! জান্নাতে অসংখ্য বাগান আছে, আর তোমার ছেলে সর্বোচ্চ জান্নাতুল ফেরদাউস লাভ করেছে।
সহীহ্ বুখারী, কিতাবুল জিহাদের
باب من رأى العدو فنادى بأعلى صوته يا صباحاه. حتى يسمع الناس:
«3041» حدثنا المكي بن إبراهيم أخبرنا يزيد بن أبي عبيد عن سلمة أنه أخبره قال خرجت من المدينة ذاهبا نحو الغابة، حتى إذا كنت بثنية الغابة لقيني غلام لعبد الرحمن بن عوف قلت ويحك، ما بك قال أخذت لقاح النبي صلى الله عليه وسلم. قلت من أخذها قال غطفان وفزارة. فصرخت ثلاث صرخات أسمعت ما بين لابتيها يا صباحاه، يا صباحاه. ثم اندفعت حتى ألقاهم وقد أخذوها، فجعلت أرميهم وأقول:
أنا ابن الأكوع ** واليوم يوم الرضع
فاستنقذتها منهم قبل أن يشربوا، فأقبلت بها أسوقها، فلقيني النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله، إن القوم عطاش، وإني أعجلتهم أن يشربوا سقيهم، فابعث في إثرهم، فقال: ((يا ابن الأكوع، ملكت فأسجح. إن القوم يقرون في قومهم)).
মক্কী ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি গাবাহ নামক স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে বের হলাম। যখন আমি গাবাহার উচ্চস্থানে পৌঁছলাম, সেখানে আমার সাথে আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এর গোলামের সাক্ষাত হল। আমি বললাম, আশ্চর্য! তোমার কি হয়েছে? সে বলল, নবী করিমﷺ এর দুগ্ধবতী উটনীগুলো ছিনতাই হয়েছে। আমি বললাম, কারা ছিনতাই করেছে? সে বলল, গাতফান ও ফাযারাহ গোত্রের লোকেরা। তখন আমি বিপদ, বিপদ বলে তিনবার চিৎকার দিলাম। আর মদিনার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে যতলোক ছিল সকলকে আওয়াজ শুনিয়ে দিলাম। এরপর আমি দ্রুত গিয়ে ছিনতাইকারীদের পেয়ে গেলাম। তারা উটনীগুলোকে নিয়ে যাচ্ছিল।
আমি তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করতে থাকলাম। আর বলতে লাগলাম, আমি আকওয়ায়ের পুত্র (সালামা) আর আজ কলিনাদের ধ্বংসের দিন। আমি তাদের থেকে উটগুলো ছিনিয়ে নিলাম, তখনও তারা পানি পান করতে পারেনি। আর আমি সেগুলোকে হাকিয়ে নিয়ে আসছিলাম। এ সময় নবী করিমﷺ এর সাথ আমার সাক্ষাত হয়, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকগুলো পিপাসার্ত। আমি এত দ্রুততার সাথে কাজ সেরেছি যে, তারা পানি পান করার অবকাশ পায়নি। শীঘ্র তাদের পেছনে সৈন্য পাঠিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, ‘হে ইবনুু আকওয়া! তুমি তাদের উপর জয়ী হয়েছ, এখন তাদের ব্যাপার ছাড়। তারা তাদের গোত্রের নিকট পৌঁছে গেছে, তথায় তাদের আতিথেয়তা হচ্ছে।
এরপরও না হলে আরো দেখুন-
সহীহ বুখারী,কিতাবুল আযান
باب عن أبي هريرة قال لأقربن صلاة النبي صلى الله عليه وسلم:
«799» حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن نعيم بن عبد الله المجمر عن علي بن يحيى بن خلاد الزرقي عن أبيه عن رفاعة بن رافع الزرقي قال كنا يوما نصلي وراء النبي صلى الله عليه وسلم فلما رفع رأسه من الركعة قال: ((سمع الله لمن حمده)). قال رجل وراءه ربنا ولك الحمد، حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه، فلما انصرف قال: ((من المتكلم)). قال أنا. قال: ((رأيت بضعة وثلاثين ملكا يبتدرونها، أيهم يكتبها أول)).
[تحفة 3605].
আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ... রিফা’আ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা হুযুরﷺ এর পিছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বললেন, তখন পিছন থেকে এক সাহাবী رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ বললেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের বেশী ফিরিশতা এর সাওয়াব কে আগে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।
এখানে হাদীসগুলো যা আমি উল্লেখ করেছি একটি ছাড়া সবগুলোই সহীহ্ বুখারী থেকে।
সহীহ বুখারী থেকেই আমি এই বিষয়বস্তুর উপর কম আয কম আরো ডজন খানেক হাদীস উপস্থাপন করতে সক্ষম! আলহামদুলিল্লাহ্!
🔁গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=304025241445938&id=100055153927069



0 মন্তব্যসমূহ