Ticker

6/recent/ticker-posts

আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৭

 



🆚আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৭


#মুহাম্মদ_আলমগীর।


💠এবার আমি আ'লা হযরত রাহঃ'র ঐফতোয়া নিয়ে আলোচনা করবো,যা তিনি 'হুসসামুল হারামাঈন আ'লা মানহারিল কুফরী ওয়ালমাইন' কিতাবের মাধ্যমে দিয়েছেন।আর সেটা ছিলো দেওবন্দীদের কুতুব রশীদ আহমদ গাঙ্গুহীর ব্যাপারে!

সুতরাং এটা হলো তথাকথিত উলামা সংলাপ-১ এর মুখোশ উন্মোচনকারী ধোঁকানাশক তরবারী!


👉এই ফতোয়াটা দেয়া হয়েছিলো দুটি বিষয়কে সামনে রেখে!

🦂একটি হলো আল্লাহ্ পাক রাব্বুল আলামীন মিথ্যা বলতে পারেন মর্মে তার ফতোয়া!

🐛আর অপরটি খলিল আহমদ সাহারান পুরীর বারাহিনে কাতিয়া'য় আল্লাহ্ পাককে মিথ্যার তোহমত দেয়া এবং নবীয়ে পাকﷺ এর শানে গোস্তাখী করা ও সেকিতাবে গাঙ্গুহীর সত্যায়ন বিষয়ে!


👉অতপর আ'লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত,শাহ্ আহমদ রেযা রাহঃ লিখেছেন-

⏩তৃতীয় ফির্কা হচ্ছে ‘ ওহাবীয়্যাহ্ কায্যাবিয়্যাহ্ ফির্কা ' । এরা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহীর অনুসারী । প্রাথমিক পর্যায়ে তারা আপন দলীয় পীর ইসমাঈল দেহলভীর অনুসরণে মহান আল্লাহ্ পাকের প্রতি এ অপবাদ দিয়েছে যে , আল্লাহ্ তা'আলা নাকি মিথ্যাবাদী হওয়াও সম্ভবপর । আমি তার এ ভিত্তিহীন অনর্থক প্রলাপের খণ্ডন করেছি একটা স্বতন্ত্র পুস্তকে , যার নাম রেখিছি ' সুবহানুস্ সুব্বুহ ‘ আন ‘ আয়বি কিযবিম মাকবুহ। আর এ কিতাবটি আমি তারই খণ্ডনে তারই নিকট প্রেরণ করেছি এলেজম্যান্ট রেজিষ্ট্রী যােগে এবং তার নিকট থেকে প্রাপ্তি স্বীকার ’ রসিদও ফিরে এসেছে- আজ দীর্ঘ এগার বছর অতিবাহিত হয়েছে । বিরােধীগণ প্রথম তিন বছর অবিরাম এ সংবাদই প্রচার করতে থাকলাে যে , জবাব লিখা হবে , লিখা হয়েছে , ছাপানাে হবে , ছাপানাের জন্য পাঠানাে হয়েছে । আল্লাহ তা'আলার শান এ নয় যে , তিনি দাগাবাজ প্রতারকদেরকে ধােকা - প্রতারণার পথ দেখিয়ে দেবেন । সুতরাং তাদেরতাে ক্ষমতায় কুলায়নি এবং না তারা কারাে সাহায্য পাবার উপযােগী ছিলাে । এখনতাে আল্লাহ্ তা'আলা তার ( রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী ) চোখ দু’টি অন্ধ করে দিয়েছেন , তার অন্তদৃষ্টিতে এর আগেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলাে । সুতরাং এখন আর জবাবের আশা কোত্থেকে ? এখন কি মাটির নীচে থেকে ‘ মুর্দা 'ঝগড়া করতে আসবে ? অতঃপর জুলুম ও গােমরাহীতে তার অবস্থা এতদূর বেড়ে গেলাে যে , তার নিজের একটি ফতােয়ায় ( যেই ফতােয়ার উপর তার মােহরাঙ্কিত স্বাক্ষর আমি স্বচক্ষে দেখেছি , যে ফতােয়াটি বােম্বাই প্রভৃতি স্থানে বারংবার মূদ্রিত হয়েছে , সেটার খণ্ডনও করা হয়েছে বহুবার সে পরিষ্কার ভাষায় লিখে 

দিয়েছে , “ যে ব্যক্তি মহান পূত - পবিত্র আল্লাহ তাআলাকে কার্যতঃ মিথ্যাবাদী মানে এবং পরিষ্কার ভাবে ব্যক্ত করে যে , ( আল্লাহর তা'আলারই পানাহ ! ) আল্লাহ তাআলা মিথ্যা বলেছে এবং এ মহা দোষটি তার থেকে প্রকাশ পেয়েছে , তবে তাকে কাফির ' ও পথভ্রষ্টততা দূরের কথা ' ফাসিকও বলােনা । কারণ , বহু ইমামও তেমনি বলেছে , যেমন বলেছে ঐ লােকটি । অবশ্য , শেষ কথা এ যে , ঐ লােকটি ‘ তা ভীল ' বা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ভুল করেছে মাত্র । ” এখন মহান আল্লাহ তা'আলার পক্ষে মিথ্যা বলা সম্ভব বলে আক্বীদা পােষণ করার মন্দ পরিণাম দেখুন ! তা কীভাবে মিথ্যা সংঘটিত হবার আক্বীদা পােষণ করার দিকে তাকে টেনে নিয়ে গেলাে ? এটাই আল্লাহর রীতি চলে আসছে- পূর্ববর্তীদের যুগ থেকে । এরাই হচ্ছে তারা , যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা বধির করেছেন ও তাদের চোখগুলােকে অন্ধ করেছেন । নেই শক্তি সঙ্কাজ করার , নেই ক্ষমতা মন্দ থেকে বাঁচার , কিন্তু মহান আল্লাহরই সাহায্যক্রমে। 


⏩এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো ফতোয়ায়ে রশীদিয়ার ইমকানে কিযব এর ফতোয়া নিয়েই শুধু কুফুরী ফতোয়া দেয়া হয়নি মূলত সেটা ছাড়া ভিন্ন আরেকটি ফতোয়া নিয়ে কথা হচ্ছে!যেখানে আল্লাহ্কে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীকে কাফিরতো দূর ফাসিক বলতেও নিষেধ করেছে!উপরে এবিষয়টাই বুঝা যাচ্ছে।অর্থাৎ আল্লাহ্ পাককে মিথ্যার তোহমত দিয়ে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী নাপাক আরেকটি ফতোয়া লিখেছে,আর সেটা বার বার মুদ্রিত করে প্রচারও করা হয়েছে।এবং ঐনাপাক আকীদার খন্ডনও বার বার করা হয়েছে!কিন্তু সে তা থেকে ফিরে আসেনি।এরপর আ'লা হযরত সুবহানাস সুব্বুহ লিখেছেন।


🏅অধিক লক্ষণীয় হলো- আ'লা হযরত রাহঃ তার কাছে তার ফতোয়ার রদের উপর লিখিত কিতাব পাঠিয়েছেন!এবং রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী সেটা পেয়েছে,সেই প্রাপ্তিস্বীকারের রশিদও এসেছে!


⏬শুধু এতটুকুই নয়,তার কাছে তার লেখার রদ পাঠানোর দীর্ঘ ১১বছর পর হুসসামুল হারামাঈন লেখা হয়েছে।এরপর সেটার উপর মক্কা ও মদীনার হারামাঈন শরীফাইনের মুফতিগণের মতামতও নেয়া হয়েছে!

এতোদীর্ঘ সময়ে সে এনাপাক ফতোয়ার উপরই অটল ছিলো।সে এর কোনো জবাবই দেয়নি।সুবহানাস সুব্বুহ লিখে তার কাছে পাঠানো হয়েছে,সে তা পেয়ে প্রাপ্তির রশিদও দিয়েছে,কিন্তু কোনো জবাব দেয়নি।আবার তার নাপাক ফতোয়া থেকে রুজুও করেনি!এটার উপরই সে মৃত্যু বরণ করেছে!


🔽সম্প্রতি উলামা সংলাপ-১ নামের যে যাত্রাপালার সার্কাস লাইভশো তাদের জাতভাই আইনুল কাজ্জাব আয়োজন করেছে,সেখানে তারা চারজন লোক মিলে বার বার তাবিল করার কসরত করে গেছে,আর সাফাই গেয়ে গেছে এই বলে- যে তাদের গুরুকে এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়নি,তার বক্তব্য শোনার চেষ্টা করা হয়নি।তারা হুসসামুল হারামাঈনের বাংলা অনুবাদও পড়ে শুনিয়েছে!কিন্তু সেখানে যে,তাদের গুরুর কাছে তাদের গুরুর নাপাক আকীদার খন্ডনে লিখিত কিতাব পাঠানো হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে,এবং দীর্ঘ ১১টি বছর অতিক্রান্ত হওয়ার কথাও পরিস্কার বলা হয়েছে,এটা তারা চার জনেই সম্পূর্ণ গোপন করে ফেলেছে!আর উল্টো অভিযোগ করেছে যে,তাদের গুরুকে এটা জানানো হয়নি,তার বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হয়নি,এবং তাদের গুরুর ফতোয়ায়ে রশিদিয়ার বর্তমান কপির একটি অংশকেই সামনে দিয়ে দেখিয়ে পার পাওয়ার হীনতর প্রচেষ্টা চালিয়েছে!

এর দ্বারা মূল বিষয়কে লুকিয়ে রেখে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে তারা পার পেতে চেয়েছে!

কুরআনে করীমে এদেরকেই বলা হয়েছে-

يخلفون بالله ماقالوا ولقد قالوا كلمة الكفر وكفر وابعد إسلامهم

ওরা খােদার নামে কসম করে বলে যে, তারা সে রকম বলেনি। অথচ তারা নিশ্চয়ই কুফরী উক্তি করেছে এবং মুসলমান হওয়ার পর কাফির হয়ে গেছে।


👉 আ'লা হযরত রাহঃ লিখেছেন-

চতুর্থ ফির্কা ‘ ওহাবিয়াহু শয়তানিয়াহু । তারা রাফেযী সম্প্রদায়ের ‘ শয়তানিয়াহ্’ফিকার মতােই । ওরা ‘ শয়তানুত্তাকৃ ' - এর অনুসারী ছিলাে । ওরা দিকমণ্ডল বিচরণকারী অভিশপ্ত ইবলীসের অনুসরণকারী । আর এরাও আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী গাঙ্গুহীরই লেজুড় । সে তার কিতাব বারাহীন - ই - কাতে'আহ ' - এর মধ্যে , ( উল্লেখ্য যে , বারাহীনে কাতে'আহ্ ” মানে , শব্দটার মর্মার্থের ভিত্তিতে , ' অকাট্য প্রমাণাদি ' ; কিন্তু , আ'লা হযরত সেটার শাব্দিক অর্থেরই প্রযােজ্যতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন , আল্লাহরই - শপথ ! ঐ কিতাবটার বক্তব্যগুলাে হচ্ছে ঐসব সম্পর্ক ছিন্নকারী , যেগুলাে জুড়ে রাখার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন । ) সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছে যে , তাদের পীর ইবলীসের “ ইলম ' নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম -এর “ ইলম ( জ্ঞান ) অপেক্ষা বেশী । তার এ জঘন্য উক্তি খােদ্ তার জঘন্য ভাষায় তার উক্ত পুস্তকের ৪৭ পৃষ্ঠায় নিম্নরূপঃ -- অর্থাৎ “ শয়তান ও মালাকুল মওত ’ - এর জ্ঞানের বিশালতা নাস্ ’ ( কোরআন - হাদীসের উদ্ধৃতিমূলক দলীল ) দ্বারা প্রমাণিত হলাে । ফখরে আলম ( নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম -এর জ্ঞানের বিশালতা সম্পর্কে কোন্ অকাট্য নাস্ ’ আছে , যা দ্বারা যাবতীয় নাস্ ’ ( বা কোরআন - হাদীসের প্রমাণাদি ) -কে খণ্ডন করে একটা শির্ককে প্রতিষ্ঠা করবে ? ” এর পূর্বে লিখেছে- অর্থাৎ  ঃ “ এটা শির্ক নয়তাে কোন ঈমানের অংশ ? ” ফরিয়াদ ! হে মুসলমানগণ ! ফরিয়াদ ! ওহে সাইয়্যেদুল মুরসালীন , ( সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়া আলায়হিম আজমাঈন ওয়া বারাকা ওয়াসাল্লামা ) -এর উপর ঈমান স্থাপনকারীগণ ! লক্ষ্য করুন ঐ ব্যক্তির প্রতি , যে ইলম ও পরিপক্কতায় তার উচ্চ মর্যাদার দাবী করছে এবং ঈমান ও মা'রিফাতের ক্ষেত্রে বড় সুদক্ষ ও যােগ্য হবার দাবী করছে আর তার লেজুড়দের মধ্যে কুতুব ' ও ' যমানার গাউস'ও রয়েছে বলে দাবী করছে , সে কিভাবে আল্লাহর রসূল হযরত মুহাম্মদ মােস্তফা সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম - কে মুখ ভরে গালি দিচ্ছে ? আর আপন পীর ইবলীসের জ্ঞানের বিশালতার উপর ঈমান আছে ! বস্তুতঃ ঐমহান সত্ত্বা , যাকে মহামহিম আল্লাহ্ শিক্ষা দিয়েছেন- যা কিছু তাঁর জানা ছিলােনা ( সবই ) , যার উপর মহামহিম আল্লাহর অনুগ্রহই মহান , যার সামনে সবকিছু উদ্ভাসিত হয়েছে , যিনি সবকিছু জেনেছেন , চিনেছেন , যিনি নভােমণ্ডল ও ভূ - মণ্ডলে যা কিছু আছে । সবই জেনে নিয়েছেন , যিনি পূর্ব ও পশ্চিমের ( সবদিকের ) সমুদয় বস্তু সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত সৃষ্টির জ্ঞানই যার অর্জিত হয়েছে , যেমন , এসব কথার সমর্থনে অসংখ্য হাদীস সুস্পষ্ঠভাবে বর্ণিত হয়েছে- তাঁরই সম্পর্কে এমন জঘন্য উক্তি করেছে- তাঁর ইলমের বিশালতা সম্পর্কে কোন না ' আছে ? এটাকি ইবলীসের ইমের প্রতি ঈমান স্থাপন আর হুযূর মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম - এর ইলমের সাথে কুফর ’ নয় ? ( নিশ্চয়ই ! )


এরপর লিখেছেন-

🎲আমি ( লেখক ) তার এ উক্তি দু’টি ( অর্থাৎ যে ব্যক্তিটি মহামহিম আল্লাহকে মিথুক প্রতিপন্ন করা এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম - এর ইলম ( জ্ঞান ) -কে খাটো করে দেখানাের শাস্তির বােঝা আপন মাথায় নিলাে , তার এক শাগরিদ ও মুরীদের সামনে । পেশ করলাম । সে তখন আমার সাথে বিরােধ করলাে । আর বললাে , “ আমাদের পীর কি কখনাে এমনই কুফ্রী বাক্য আওড়াতে পারেন ? ” তখন আমি তাকে কিতাব দেখালাম এবং পীরের কুফরের মুখােশ খুলে গেলাে । তখন অগত্যা নিরূপায় হয়ে বললাে , “ এটা আমার পীরের নয় । এটাতাে তাঁর শাগরিদ খলীল আহমদ আম্বেঠভী কর্তৃক লিখিত । ” তদুত্তরে আমি বললাম , “ গাঙ্গুহী সাহেব সেটার উপর অভিমত লিখেছে এবং সেটাকে মূল্যবান ও উৎকৃষ্ট কিতাব বলে অভিহিত করেছে । আর আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা করেছে যেন তিনি সেটা কবুল করেন । ” সে আরাে বলেছে , এ “ বারাহীনে কাতি'আহ ’ হচ্ছে সেটার রচয়িতার ইলমের নূরের বিশালতা , তীক্ষবােধ ও বুদ্ধিমত্তা , উপস্থাপন ও ভাষার সাবলীলতারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ । তখন তার মুরীদটি বললাে , “ তিনি হয়তাে এ কিতাব পুরােপুরি দেখেননি , কোথাও কোথাও দু'একটি জায়গা হতে কিছু কিছু দেখেছেন । এবং স্বীয় শাগরিদের ইলমের উপর ভরসা করেছেন । ” এর খণ্ডনে আমি বললাম , “ এরূপ নয় , বরং সে উক্ত অভিমতে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে যে , সে এ কিতাবখানা আদ্যোপান্ত দেখেছে।

 ” মুরীদ উত্তরে বললাে , “ হয়ত তিনি গভীরভাবে লক্ষ্য করে পর্যালােচনা করেননি । ” আমি বললাম , “ এ কথাও কিছুতেই ঠিক নয় , বরং সে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে- আমি এটা খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করে পাঠ - পর্যালােচনা করেছি । ” লিখিত অভিমতে তার এবারত নিম্নরূপঃ অর্থাৎ  ঃ “ আমি , নিকৃষ্টতম মানুষটি , রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী এ মূল্যবান কিতাব ‘ বারাহীন - ই - কৃাতিয়াহ ’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গভীরভাবে দেখেছি । ” তখন সেই অবিবেচক ঝগড়াটে মুরীদ নির্বাক হয়ে গেলাে । আল্লাহ্ তা'আলা হঠকারীদের থােকা - প্রতারণা সফল হতে দেননা ।


🎦এবার আরো লক্ষ করুন!আ'লা হযরত গাঙ্গুহীর এক মুরীদকে তার নাপাক এসব আকীদার কথা তুলে ধরেছেন,মুরীদ সাফাই গেয়েছে।যখন যথোপযুক্ত প্রমাণ দেয়া হয়েছে,তখন মুরীদ নীরব হয়ে গেছে!

কিন্তু তথাকথিত উলামা সংলাপ-১ এ তারা এসব কথা চারজনের কেউই মুখেই আনেনি!

তারা শুধু ফতোয়ায়ে রশিদিয়ার বর্তমান কপির একটা অংশ নিয়েই আসল বিষয়কে আড়াল করে রাখে!


📗তামহীদে ঈমাণে আ'লা হযরত রাহঃ তাদের এধোঁকাবাজির বিবরণ এভাবে দিয়েছেন-

......প্রমাণ ওদের ওইসব কিতাবসমূহ

যেগুলােতে কুফরী উক্তিসমূহ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওরা ওদের জীবন কালে প্রকাশ করেছে এবং কতেক কিতাব কয়েকবার ছাপানাে হয়েছে। আর দীর্ঘদিন ধরে উলামায়ে আহলে সুন্নাত এসবের প্রতিবাদ করছেন এবং সেসব উক্তি খন্ডন করে কিতাব ছাপিয়েছেন।

সেই ফতওয়া, যেখানে আল্লাহকে পরিস্কারভাবে মিথ্যুক বলা হয়েছে, এর মূল কপি দস্তখত ও সীল সমেত এখনও মওজুদ আছে এবং এর ফটোকপিও রয়েছে।

👉 এর ফটোকপি মক্কা ও মদীনা শরীফের উলামায়ে কিরামকে দেখানাের জন্য পাঠানো হয়েছিল।

👉মদীনা শরীফের সরকারী পাঠাগারেও তা মওজুদ আছে।

👉আজ থেকে আঠারাে বছর আগে ১৩০৮ হিজরীতে মীরাটের হাদিকাতুল উলুম থেকে ‘ছেয়ানাতুন নাস’ পুস্তিকায় নাপাক ফতওয়া রদসহকারে প্রকাশিত হয়েছিল।


👉পুনরায় ১৩১৮ হিজরীতে বােম্বে থেকে গুলজার হাসনির পক্ষ থেকে এর রদ ছাপানাে হয়েছিল।


👉 আবার ১৩২০ হিজরীতে তােহফায়ে হানাফিয়া নামে পাটনা থেকে এর রদ ছাপানাে হয়েছিল।

👉এ অপবিত্র ফতওয়াদানকারী ১৩২৩ হিজরীতে জামাদিউল আখেরে মৃত্যুবরণ করে এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত নিশ্চুপ রয়েছিল।


👉ওটা তার ফতওয়া নয়’ এ রকমও বলেনি। অথচ নিজের ছাপানাে কিতাবের ফতওয়াকে অস্বীকার করাটা অনেক সহজ ছিল। আর এ রকমও কিছু বলে যায়নি যে, এর ভাবার্থ তাই নয়, যা উলামায়ে আহলে সুন্নাত বলতেছেন এবং আমি এর ভাবার্থ ওটাই নিয়েছি, যা কুফরী নয়। মােট কথা হলাে সে তার কথায় অটল ছিল। যায়েদের সীলমােহর যুক্ত একটি ফতওয়া তার জীবনকালে ও জ্ঞাত অবস্থায় প্রকাশ্যভাবে প্রচারিত হলাে এবং একে সুস্পষ্ট কুফরী হিসেবে চিহ্নিত করা হলাে। অনেক বছর থেকে এটা প্রচারিত হতে থাকলাে। লােকেরা উক্ত ফতােয়াকে খন্ডন করে যায়েদকে এর পরিপ্রেক্ষিতে কাফির ঘােষণা করলাে। যায়েদ এর পরও পনের বছর জীবিত ছিল এবং সব কিছু দেখেছিল ও শুনেছিল। কিন্তু উক্ত ফতওয়া তার নয় বলে অস্বীকার করেনি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার উপর অটল রইল। তাহলে কোন জ্ঞানী ব্যক্তি কি ধারণা করতে পারে যে উক্ত ফতওয়ার ব্যাপারে তার অস্বীকৃতি ছিল বা তার কাছে ওটার ভাবার্থ ছিল অন্য কিছু। তার সমমনাদের মধ্যে যারা আজও জীবিত আছে (আ’লা হযরতের যুগে) তারা তাদের মুদ্রিত কিতাব সমূহকে অস্বীকার করতে পারে না। ১৩২০ হিজরীতে তাদের সমস্ত কুফরী সমূহকে একত্রিত করে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। কতেক উৎসাহী মুসলমান সেসব কুযুক্তির আলােকে কিছু প্রশ্ন তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন তারা সেটাকে অস্বীকার করতে পারেনি বা এর ভাবার্থ অন্যকিছুও বলতে পারেনি বরং বলেছিল ‘আমরা বাহাস করার জন্য আসিনি, আমরা কোন বাহাস করতে চাইনা। এ ব্যাপারে আমরা অজ্ঞ এবং আমাদের মাশায়েখও অজ্ঞ। যুক্তি তর্কে পরাস্ত হলেও আমরা তাই বলে যাব। সেই প্রশ্নমালা ও ঘটনার বিশদ বিবরণ ছাপিয়ে ১৩২৩ হিজরীর জামাদিউল আখেরে যখন তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হাতে পৌছানাে হলাে, তখন তারা সােজাসুজি অস্বীকার করলাে। তাও চার বছর পর। ধোঁকা এ রকমই। হয়তাে বলে দিতে পারেন যে, ‘এ ধরণের কটুক্তিকারী লোক পৃথিবীতে জন্মও নেয়নি। ওসব বানােয়াটী কথা। ওদের বেলায় কী আর বলা যায়। আল্লাহ তাদেরকে লজ্জাশরম দান করুন।


⏩কি আশ্চর্য! ওরা চারজন লোক মিলে যে তথাকথিত উলামা সংলাপ করলো,তাদের আলোচনা দেখে আমার মনেই হয়নি যে,এরা কোনো ইলমের অধিকারী!যদিওবা উপস্থাপক আইনুল কাজ্জাব তাদের তিনজন- ১.রশীদ জামিল,২.আব্দুল আউয়াল হেলাল, ৩.এবং রেযাউল করীম আবরারের কিতাব দেখিয়েছিলো!কিন্তু তাদের কেউ আমার উল্লেখিত কথাগুলোর কোনো আলোকপাতও করলোনা!একেমন আমানতদারীতার নযির!সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হই আমানতদারীতার ঠিকাদারী নেওয়া আইনুল কাজ্জাবের খেয়ানত দেখে!তারতো অন্তত নিজের মুখ রক্ষার তাগিদে হলেও এসব বিষয়ে তার জাতভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রয়োজন ছিলো!

কিন্তু সে নির্লজ্জের মতো উল্টো মাসলাকে আ'লা হযরতের আলিমদেরকে ভেল্কী দেখানোর কসরত করে বলেছে- কোনো রেযাখানী আলিম আছে কিনা এবিষয়ে জবাব দেয়ার!


📗যা-ই হোক,আমি ফতোয়ায়ে রশিদিয়ার ২৩৬-২৩৭পৃষ্ঠা আপনাদের সামনে রেখেছি!আপনারা তা দেখে বিচার নিজেরাই করুন যে,এখানে আল্লাহ্ পাককে মিথ্যার অপবাদ কত চাতুরীর সাথে দেয়া হয়েছে!

পরবর্তী আলোচনায় এটার যথাযত খন্ডন করার আশা করছি,আল্লাহ্ পাক উত্তম তাওফিক দাতা!


🔄গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=235895124925617&id=100055153927069

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ