আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৬
#মুহাম্মদ_আলমগীর।
এবার আসুন সিহাহ্ সিত্তার আরেক হাদীসের কিতাব,তিরমিযী থেকে হাদীস দেখি-
তিরমিযী শরীফ,কিতাবুল ফিতান,
باب ما جاء لا تقوم الساعة حتى يخرج كذابون:
«2380» حدثنا قتيبة حدثنا حماد بن زيد عن أيوب عن أبي قلابة عن أبي أسماء الرحبي عن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تقوم الساعة حتى تلحق قبائل من أمتي بالمشركين وحتى يعبدوا الأوثان وإنه سيكون في أمتي ثلاثون كذابون كلهم يزعم أنه نبي وأنا خاتم النبيين لا نبي بعدي)).
قال أبو عيسى: هذا حديث حسن صحيح.
কুতায়বা (রহঃ) ...... ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের কিছু গোত্র মুশরিকদের সাথে শামিল না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। এমনকি এরা মূর্তিপূজাও পর্যন্তও করবে। অচিরেই আমার উম্মতে ত্রিশজন অতি মিথ্যাবাদী আবির্ভাব হবে। তারা প্রত্যেকেই দাবী করবে যে সে নবী, অথচ আমিই শেষ নবী, আমার পরে কোন নবী নাই।
আবু ঈসা তিরমিযী রাহঃ বলেন- হাদীসটি হাসান সহীহ্!
এপর্যন্ত সিহাহ্ সিত্তার ৩টি কিতাব থেকে হাদীস পেশ করেছি।পাঠকবর্গ আপনারাই বিবেচনা করুন কোনো এক আসারের উপর ভিত্তি করে তাও আবার সেটার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে; আবার কোনো কারণে যদি মেনেও নেই যে,ওটা গ্রহণীয় তারপরওতো তাবিল করতে হলে সেটার বক্তব্যকে এমনভাবে তাবিল করতে হবে,যাতে সেটার বক্তব্য একটি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় থাকে!যেহেতু এটার বিপরীতে কুরআনী আয়াত,এবং সহীহ্ হাদীস মওজুদ আছে!যখন সহীহ হাদীসে এটাই পরিস্কার এসেছে যে, আমাদের নবী করীমﷺ হলেন শেষ নবী,যার পরে নবী আসার সমস্ত প্রকারের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে!
তাবিল করার কথা ছিলো এসব হাদীসের স্বপক্ষে,কিন্তু নানুতুবীর তাবিলই হয়ে গেলো এগুলোর বিপরীত!এমনকি উম্মতের ইজমারই বিপরীত!আমাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকাঈদের সম্পূর্ণ খেলাফ একটি তাবিল করার পর তাকে কুফুরী ফতোয়া না দিয়ে উলামায়ে কেরাম তাকে মাথায় তুলে রাখবে?হাদীস শরীফে রিওয়ায়াত আছে দুজনের বিষয়ে,একজন হুযুরেরﷺ সাহিবযাদা হযরত ইবরাহীম রাঃ,আরেকজন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাঃ।
অর্থাৎ যদি আমার পরে নবী আসা সম্ভব হতো,তাহলে উমর নবী হতো!
হুযুরেরﷺ পর নবী আসা সম্ভব হলে হুযুরের সাহিবযাদা তা পেতেন!
তাহলে দেখা যাচ্ছে এখানে এমন শব্দ বলা হয়েছে,যার দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, নবী আসা সম্ভব নয়!তাই কেউ নবী হননি!
কিন্তু এগুলোকে পূজি করে নানুতুবীর আশিক আইনুল এবং তার জাতভাইয়েরা যতই চেষ্টা করুক তাদের হযরতের পক্ষে সাফাই গাইতে, তা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়!
ইমাম তাহাবী রাহঃ ওনার আকীদাতুত তাহাবীয়ার ৩৩নং আকীদায় লিখেন-
وخاتم الانبیاء، وامام الاتقیاء، وسید المرسلین،وحبیب رب العالمین.
হযরত মুহাম্মদﷺ সর্বশেষ নবী এবং মুত্তাকীদের ইমাম । আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত সকল রাসূলদের সর্দার এবং সমগ্র জাহানের প্রতিপালকের একান্ত বন্ধু ।
এরপর ৩৪নং আকীদায় লিখেছেন-
وکل دعوی النبوة بعده: فغی وهوی.
এবং মুহাম্মদﷺএর পর প্রত্যেক নবুয়ত দাবীদার ভ্রান্ত ও আত্নপূজারী।
হযরত নবী করীমﷺ সর্বশেষ নবী । তার পরে আর কোনাে নবী আসবে না । তিনিই খাতিমে নবুয়ত । خاتم الانبیاءঅর্থাৎ রাসূলﷺ সর্বশেষ পয়গাম্বর হওয়া , তার পর দুনিয়ায় আর কোনাে নবী না আসা এবং তার পরবর্তী সময়ে নবুয়তের দাবিদার সকলেই মিথুক ও কাফের হওয়া এমন এক অকাট্য মাসআলা যার উপর সাহাবায়ে কেরাম ( রা . ) থেকে আজ পর্যন্ত সকল মুসলমান ঐকমত্য পোষণ করেছেন । কিন্তু কাসেম নানুতুবী একটি আসারের অপব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এমন এক তাবিল দাড় করালো যার পরবর্তী ফলাফল হলো এই- পাঞ্জাবের কাদিয়ান নামক গ্রামের এক মিথ্যাবাদী মির্জা গােলাম আহমদ নবুয়তের মিথ্যা দাবি উত্থাপন করে । অতঃপর সে তার অনুসারীদের নিয়ে উক্ত মাসআলার ব্যাপারে মুসলমানদের অন্তরে সংশয় সন্দেহ সৃষ্টির জন্য বহু পুস্তিকা রচনা করে এবং এর মাধ্যমে বিভিন্নভাবে পথভ্রষ্টতা সৃষ্টির চেষ্টা করে । পাকিস্তানের ওলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টায় সরকারিভাবে কাফের ঘােষণা করায় সেখানে তারা অগ্রসর হতে পারেনি । কিন্তু তারা পাক পার্লামেন্টে কাসেম নানুতুবীর তাহযিরুন্নাস দেখিয়ে তাদের দাবীর স্বপক্ষে দলিল দেয়! خاتمশব্দটি দুইভাবে পড়া যায় । تবর্ণে যবর ও যের উভয়টাযই জায়েজ । এতে অর্থের কোনাে তফাৎ হয় না । উভয় অবস্থায়ই শেষ নবী ও মােহর অর্থে আসে ।
১.কোনাে বস্তুর খতম বা খাতিম অর্থ হলাে , তার উপর সিল করা । আর পত্র বা গ্রন্থের উপর খতমের অর্থ ঐ পত্র বা গ্রন্থের পাঠ বা পড়ে শেষ করা । খতম বা খাতিম উভয় উচ্চারণই ব্যবহৃত হয় । কিন্তু উভয়ের অর্থ এক ও অভিন্ন । অর্থাৎ নবীগণের আবির্ভাব ও ধারার সমাপ্ত সাধনকারী।উভয়টি আবার মহর অর্থেও ব্যবহৃত হয় । শব্দটির উভয় অর্থই রয়েছে । কিামূসুস সিহাহ , লিছানুল আরব , তাজুল উরূস ]
২. তাফসীরে রূহুল মা'আনীতে বলা হয়েছে- والخاتم اسم آلة لما يختم به كالطابع لما يطبع به فمعنى خاتم النبيين الذي ختم النبيون به ومآله آخر النبيين، وقال المبرد: {خاتم}
فعل ماض على فاعل وهو في معنى ختم النبيين فالنبيين منصوب على أنه مفعول به وليس بذاك.
وقرأ الجمهور {الله وَخَاتَمَ}
بكسر التاء على أنه اسم فاعل أي الذي ختم النبيين، والمراد به آخرهم أيضاً، وفي حرف ابن مسعود ولكن نبياً ختم النبيين، والمراد بالنبي ما هو أعم من الرسول فيلزم من كونه صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين كونه خاتم المرسلين والمراد بكونه عليه الصلاة والسلام خاتمهم انقطاع حدوث وصف النبوة في أحد من الثقلين بعد تحليه عليه الصلاة والسلام بها في هذه النشأة.
“ খাতম ” বলা হয় ঐ যন্ত্রকে যার মাধ্যমে সমাপ্তি সাধন করা হয় । যেমন তাবে বলা হয় ঐ যন্ত্রকে যার মাধ্যমে ছাপা হয় । এ হিসেবে ১ : অর্থ হলাে এমন ব্যক্তি যার মাধ্যমে নবীর ধারার সমাপ্তি ঘটানাে হয়েছে এবং তার পরে কোনো নবীও নেই । এই কথা তাফসীরে বায়বী এবং আহমদী উভয়টায় উল্লেখ করা হয়েছে ।
৩. ইমাম রাগেব ইস্পাহানী ( র . ) বলেন-وَخاتَمَ النَّبِيِّينَ [الأحزاب/ 40] ، لأنه خَتَمَ النّبوّة، أي: تمّمها بمجيئه.
অর্থাৎ তাকে এজন্য খাতেমে নবুয়ত বলা হয় , কেননা তিনি আগমন করে নবুয়তের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন ।
৪. ইবনে সাবেদাত বলেন-- خاتم کل شٸی خاتمه وعاقبته واخره
অর্থাৎ প্রত্যেক বস্তুর খাতেম হলাে বস্তুর শেষ অবস্থা , পরিণতি ও পরিসমাপ্তি ।
৫. খাতেম শব্দের অর্থ কখনাে উপত্যকার শেষ প্রান্তও আসে আবার কখনো একদল মানুষের শেষ ব্যক্তিকেও খাতেম বলা হয় । পয়গম্বরদের সর্বশেষ ।
প্রখ্যাত আরবি ভাষাবিদদের দৃষ্টিতে :
১. ইমাম ইবনে জারীর তাবারী ( র . ) - এর মতে , খাতাম শব্দের অর্থ হলাে নবীদের সর্বশেষ। ২. ইমাম রাগেব ইস্পাহানী বলেন , খাতাম শব্দের অর্থ হলাে নবুয়ত সমাপ্তকারী ।
৩. ইবনুল ফারিস বলেন , খাতামা অর্থ হলাে বস্তুর শেষ পর্যন্ত পৌছা ! আর নবীইখাতামুল আম্বিয়া । কেননা তিনি সকল নবীর পরে এসেছেন ।
৪. খাজেন বলেন , খাতিমুন নাবিয়্যীন অর্থ- তার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা নবুয়ত সমাপ্ত করে দিয়েছেন । অতএব তার পর কোনাে নবী নেই । ৫. সাহেবে মাজমা বলেন , খাতিম বা খাতাম নবী -এর অন্যতম নাম । বর্ণটি যের যুক্ত হলে , ইসম বা বিশেষ্য হবে । অর্থাৎ সর্বশেষ নবী ।
৬. মুঈজুদ্দীন ফিরােজাবাদী বলেন , প্রত্যেক বিষয়ের পেছনের বা সর্বশেষ অংশকে খাতেম বলে এবং লােকের মধ্যে শেষ ব্যক্তিকেই খাতেম বলে ।
৭. ইমাম কুরতুবী ( র . ) বলেন , একমাত্র কারী আসেম ( র . ) - ই ও বর্ণে যবর দিয়ে পড়েছেন । অর্থ হলাে পৃথিবীতে নবীগণের আগমন তার দ্বারাই শেষ করা হয়েছে । আর অধিকাংশ আলেমগণই ও বর্ণে যের দিয়ে পড়েন । অর্থ হলাে তিনি তাদেরকে সমাপ্ত করেছেন ।
৮. ইমাম জুবাইদী ( র . ) বলেন , রাসূল সুর -এর অন্যতম নাম খাতিম / খাতাম । যার অর্থ ঐ ব্যক্তি যার আগমনে নবুয়ত সমাপ্ত হয়েছে ।
৯. জাওহারী ( র . ) বলেন , কোনাে বস্তুর খাতেম তার শেষ বা পরিসমাপ্তিকে বলা হয় । আর মুহাম্মদ নবীগণের সর্বশেষ ।
১০. আরবি ভাষায় বলা হয় - ; অর্থাৎ জাতির শেষ ব্যক্তিই হলাে খাতামুল -লিসানুল আরব , নবুয়তে মুহাম্মদী , কাদিয়ানী মতবাদ , আস সিহাহ ] কওম ।
ইচ্ছে করেছিলাম আরো কিছু বিস্তারিত লিখবো।কিন্তু সময় সল্পনা,পাঠকের ধৈর্যচ্যুতির আশংকা এবং আলোচনা দীর্ঘায়ীত হওয়ার ভয়ে এতটুকুতে শেষ করলাম এবিষয়টা!
🔄গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=235368834978246&id=100055153927069


0 মন্তব্যসমূহ