🆚আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৮
#মুহাম্মদ_আলমগীর।
বারাহিনে কা'তেয়াহ্ লিখেছে খলিল আহমদ সাহারান পুরী,সেটার প্রতিটি শব্দকে সত্যায়িত করেছে রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী!আবার গাঙ্গুহী নিজেও এবিষয়ে ফতোয়ায়ে রশিদিয়ায়আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-5⃣8⃣
একই কথা লিখেছে!যা গত পর্বে ২৩৬-২৩৭পৃ.দিয়ে দেখিয়েছি।এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে,এটা ছাড়াও গাঙ্গুহী অন্য আরেকটি ফতোয়া লিখে প্রচার করেছে।আ'লা হযরত রাহঃ এটার খন্ডনে-
سبحان السبوح عن کذب عیب مقبوح
লিখে তার কাছে পাঠিয়েছেন রেজিষ্ট্রি করে।সে এর কোনো জবাব দেয়নি।দীর্ঘ ১১বছর পর তার উপর কুফুরীর ফতোয়া দেয়া হয়েছে।এসময়ে না সে তার এনাপাক আকীদা থেকে রুজু করেছে,না কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে!সুতরাং #আইনুল_কাজ্জাব, #রেজাউল_করিম_আবরার, #রশিদ_জামিল, #আব্দুল_আউয়াল_হেলাল এই চারজন বর্তমান সময়ের চরম বাটপার প্রমাণিত হলো।কারণ তারা বার বার বলতে চাইলো এই ফতোয়া ভুল হয়েছে,এবং আবরারের কথায় মনে হলো বেচারা এখনো শিশু শ্রেণীও পেরোয়নি!আর রশিদ সাহেব,আর হেলাল সাহেব এরা দু'জনতো মনে হলো পান চিবুতে যতটা পারদর্শি ইলমে ততটা নয়।আর আইনুল কাজ্জাবতো তাদের উস্তাদ!বেচারা গুরুর কুফুরীর সাফাই গাওয়ার লোক যোগাড় করে নিজেও ইমকানে কিযব আকীদা গ্রহণ করে নিয়েছে।
এরা নিজেদেরকে তাওহীদবাদের ঠিকাদার বলে দাবী করে, অথচ তারা সেই তাওহীদকেই কলঙ্ক লাগিয়ে বলে যে,তাদের খোদা মিথ্যা বলতে সক্ষম!ওয়াদা খেলাফ করতে সক্ষম!
এবার এমন খতরনাক নাপাক আকীদার খন্ডনে সামান্য কিছু আলোকপাত করছি।
১.মহান আল্লাহর প্রত্যেক কিছুই সুন্দর ও কামালিয়াতের প্রাণকেন্দ্র।তিঁনি দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত অর্থাৎ তাঁর মধ্যে দোষ ত্রুটি পাওয়া যাওয়াটা অসম্ভব।এমনি পরিপূর্ণও নয়,ত্রুটিপূর্ণও নয়’-এ রকমের হওয়াটা অসম্ভব।যেমন মিথ্যা, ধোকাবাজী,ওয়াদাভঙ্গ, অত্যাচার, অজ্ঞতা,নির্লজ্জতা ইত্যাদি দোষ তাঁর থেকে প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। দেওবন্দীদের মত আল্লাহ মিথ্যা বলার ক্ষমতা রাখে’- এ রকম বলা মানে কুদরতের দুর্বলতা মানে বাতুলতা মাত্র। আর এ ধরনের কেউ বিশ্বাস পোষণ করলে সে কাফির হয়ে যাবে।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী (রহঃ) বলেন,
مِنْ صِفَاتِ كَلِمَةِ اللَّهِ كَوْنُهَا صِدْقًا وَالدَّلِيلُ عَلَيْهِ أَنَّ الْكَذِبَ نَقْصٌ وَالنَّقْصُ عَلَى اللَّهِ مُحَالٌ وَلَا يَجُوزُ إِثْبَاتُ أَنَّ الْكَذِبَ عَلَى اللَّهِ مُحَالٌ –
“সত্য বলা আল্লাহ তা’য়ালার অন্যতম গুণ।এর পক্ষে দলীল হচ্ছে-মিথ্যা বলা দোষ।আর আল্লাহ তায়ালার মধ্যে কোন দোষ-ত্রুটি থাকা অসম্ভব।”
[ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী : তাফসীরে কাবীর : ১৩/১২৫পৃ. দারু ইহইয়াউত্-তুরাসিল আরাবী,বৈয়রুত,লেবানন, প্রকাশ,১৪২০হি]
★ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী (রাঃ) তো সুস্পষ্ট ভাষায় ফতোয়া আরোপ করেছেন,
لأي الفومن لا يوأن يط بالله الگب، بل يخرج بذلك عن الإيمان فكيف يجوز مثلهعلى الليل –
“কোন মুসলমানের জন্য এটা জায়েয নয় যে, সে আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষে মিথ্যা বলার ধারণা করবে; বরং এ ধরনের ধারণার কারণে সে ঈমান হতে বের হয়ে যাবে (অর্থাৎ-সে কাফির হয়ে যাবে)।”
[ইমাম রাজী, তাফসীরে কাবির : ১৮৫২১পৃ. দারু ইহইয়াউত-তুরাসিল আরাবী, বৈয়রুত,লেবানন,প্রকাশ.১৪২০হি]
★২. আল্লামা নাসিরুদ্দিন বায়যাভী (রহঃ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন,
وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثاً إنكار أن يكون أحد أكثر صدقاً منه، فإنه لا يتطرق الكذب إلى خبره بوجه لأنه نقص وهو على الله محال.
“আল্লাহ অপেক্ষা কার কথা বেশি সত্য?”
[সূরা নিসা, আয়াত/৮৭]
“এ মহান বাণী এ কথার প্রমাণ যে, তার চেয়ে বেশি সত্যবাদী কেউ নেই।কেননা, তার খবর প্রদানে মিথ্যা কোনভাবেই প্রবেশ করতে পারে না। কারণ, সেটা (মিথ্যা) হচ্ছে একটি জঘন্য দোষ, এটা আল্লাহর জন্য সম্পূর্ণ অসম্ভব।”
[ইমাম বায়যাভী, তাফসীরে বায়যাভী, ২৮৮পৃ.]
★৪. আল্লামা শরবীনী (রঃ) বলেন
قَوْلُه تعالى فلن يخلف الله عهده فيه دليل على ان الخلف فى خبر الله محال
“আল্লাহ তাআলার বাণী,অতঃপর আল্লাহ কখনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না’-এর মধ্যে এ কথার পক্ষে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে যে, আল্লাহ তা’আলার পক্ষে মিথ্যা খবর দেওয়া অসম্ভব।
[আল্লামা শরবীনী,তাফসীরে সিরাজুম মুনীর: পৃ. ৭০]
★৫. ইমাম আলী ইবনে মোহাম্মদ আল-খাযিন (রহঃ) বলেছেন
لا أحد أصدق من الله فإنه لا يخلف الميعاد ولا يجوز عليه الكذب
“আল্লাহ তা’য়ালার চেয়ে বড় সত্যবাদী কেউ নেই। তিনি ওয়াদা ভঙ্গ করেন না এবং তার পক্ষে মিথ্যা বলা সম্ভবই নয়।”
[ইমাম খাজিন : তাফসীরে লুবাবুত তা’ভীল: ১/৪২১পৃ.[
★৬. ইমাম আবুস সাউদ (রহঃ) বলেন,
والكذِبُ مُحالٌ عليه سبحانه دون غيرِه
“মিথ্যা বলা আল্লাহ তাআলার পক্ষে অসম্ভব।”
[ইমাম আবুস সাউদ: তাফসীরে আবিস সাউদ: ২/২১২পৃ.]
★৭. আল্লামা মুঈনুদ্দিন কাশেফী (রঃ) বর্ণনা করেছেন
ومن اصدق من الله حديثا از خدا ۓ تعالى يعنى نيست از وے راست گوۓ تراز جہت قولى ووعده يعنى كذب رادر سخن ووعده حق راه نيست زيرا كہ آں نقص ست وخداۓ از نقص مبراست-
“আল্লাহ তাআলার চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে আছে? অর্থাৎ তার চেয়ে বেশি সত্যবাদী আর কেউ নেই। অর্থাৎ আল্লাহর কথা ও প্রতিশ্রুতিতে মিথ্যার কোন অবকাশ নেই। কেননা, সেটা (মিথ্যা) একটা জঘন্য দোষ। আর আল্লাহ তাআলা দোষ-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ।”
[মোল্লা মুঈন উদ্দিন কাশেফী : তাফসীরে হুসাইনী: ১/.১২৭]
★৮. ইমাম নাসাফী (রঃ) বলেন,
لا أحد أصدق منه في إخباره ووعده ووعيده لاستحالة الكذب عليه لقبحه
“খবর প্রদান, প্রতিশ্রুতি পূরণ ও শাস্তি প্রদানের হুমকি (যদি ক্ষমা না করেন) পূরণে তার চেয়ে বেশি সত্যবাদী আর কেউ নেই।কারণ, মিথ্যা তার জন্য অসম্ভব-যেহেতু সেটা জঘন্য দোষ।
[ইমাম নাসাফী।তাহলীৱে মাদাৱিক,সূরা নিসা,আয়াত ৮৭ ]
★৯. গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম নাওয়াব সিদ্দিক হাসান ভূপালভীও মিথ্যা এবং ওয়াদা খেলাফকে দোষগুলোর মধ্যে গণ্য করেছেন। সুতরাং তিনি লিখেছেন,
وعده كى سچائى صفات حميدة ميں سے ہے جيسے خلف وعد اوصاف ذميمہ ميں سے ہے –
“প্রতিশ্রুতিতে সত্যবাদিতা প্রশংসিত গুণাবলীর অন্যতম, যেমনিভাবে ওয়াদা ভঙ্গ করা মন্দ গুণাবলীর মধ্যে গণ্য।
[তরজুমানে কুরআন: পৃ: ৩৫৯,পারা-১৬, সূরা মরিয়াম]
★১০. হায়াত,কুদরত,শোনা,দেখা , বাকশক্তি,ইলম ও ইচ্ছা হচ্ছে তাঁর নিজস্ব সিফাত বা গুণবলী।কিন্তু কান,চোখ ও মুখ দিয়ে শোনা,দেখা ও কথা বলা নয়। কেননা এগুলো হচ্ছে সাকার।কিন্তু আল্লাহ সাকার থেকে পবিত্র।অথচ তিঁনি ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর আওয়াজ শোনেন এবং ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর বস্তু,যা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের দ্বারাও দেখা যায় না,তিনি তা দেখেন।তার দেখার জন্য ওসব কিছুর প্রয়োজন হয়না।তিনি প্রত্যেক কিছু দেখেন ও শোনেন।
[শরহে আকায়েদে নাসাফী: ৩৮পৃ:]
এখন দেখা যাক তারা যে আয়াত শরীফকে প্রধানত তাদের উক্ত ভ্রান্ত দাবীর পে পেশ করে থাকেন, ওই আয়াত শরীফের সঠিক তাফসীর কি। তারা কি আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের এ আক্বীদা আবিস্কার করেছেন, না ‘আয়াতের মনগড়া তাফসীর’ ও কুফরী আক্বীদা আবিস্কার করে উভয় প্রকারের জঘন্য ও মারাত্মক অপরাধ করেছেন?
ওহাবীদের দাবী হচ্ছে- আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেছেন-
اِنَّ اللهَ عَلى كُلِّ شَئٍ قَدِيْرٌ
[সূরা বাক্বারা, আয়াত-২০]
‘‘নিশ্চয় সবকিছু আল্লাহর মতাধীন।’’ সুতরাং আল্লাহ্ মিথ্যাও বলতে পারেন, কারণ, মিথ্যাও এ ‘শাই’ (সব কিছু)’র অন্তর্ভূক্ত।
[সূত্র. ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া: ১ম খণ্ড, পৃ. ৯ এবং আহমদ শফী: ভিত্তিহীন প্রশ্নাবলীর মূলোৎপাটন: পৃ. ২-৩]
এখানে ল্যণীয় যে, আল্লাহ্ তা‘আলা প্রত্যেক ‘শাই’ (شئ)-কে তাঁর মতাধীন ও শক্তির আওতাভুক্ত বলেছেন। সুতরাং অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, যে সব কাজ ‘শাই’ শব্দের অন্তর্ভুক্ত, সেগুলোই আল্লাহ্ তাঁর মতাধীন বলেছেন। আর যেগুলো ‘শাই’ -এর সংজ্ঞার আওতায় পড়ে না সেগুলোকে আল্লাহর মতাধীন বলা যাবে না; বললে আয়াতের অপব্যাখ্যা হবে, যার কুফল স্বরূপ, অপব্যাখ্যাকারী ও তাতে বিশ্বাসীরা পথভ্রষ্টতা, এমনকি কুফর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া অনিবার্য।
এখানে উল্লেখ্য যে, নির্ভরযোগ্য মুফাস্সিরগণ ও আহলে সুন্নাতের ওলামা-ই কেরামই এখানে সঠিক তাফসীর করতে ও সিদ্ধান্ত দিতে সম হয়েছেন। পান্তরে, দেওবন্দী আলিমগণ ও তাদের অনুসারীরা, যেমন মৌং আহমদ শফী সাহেব প্রমুখ এ প্রসঙ্গে নানা বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকা পড়েছেন। এ শেষোক্ত জনেরা মনে করেন যে, আল্লাহকে মিথ্যা ও ওয়াদা খেলাফে অম বললে নাকি আল্লাহকে দুর্বল মেনে নেওয়া হবে। (না‘ঊযুবিল্লাহ্) অথচ এ ধরনের কোন অশোভন বিষয় না شئ (শাই) -এর অন্তর্ভুক্ত, না মহাপবিত্র আল্লাহ্ তা‘আলাকে মিথ্যাবাদী ও ওয়াদা ভঙ্গকারী বললে তাঁর প্রতি অবমাননা প্রদর্শন ও অপবাদ রচনা থেকে বাঁচার কোন উপায় থাকে। সুতরাং এ েেত্র সত্যিকারের মুফাস্সিরগণ অতি সতর্কতার সাথে তাফসীর করেছেন আর ইমামগণ ও ওলামা-ই কেরাম আল্লাহ্ সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা নিরূপন করেছেন। নিম্নে এর আলোচনা দেখুন-
আল্লামা সৈয়দ নঈম উদ্দীন মুরাদাবাদী রাহঃ তাফসীরে খাযাঈনুল ইরফানে তাফসীর করেন-
এখানে (আলোচ্য আয়াত শরীফে) شئ (শাই) হচ্ছে ‘যা আল্লাহ চান’ এবং ‘যা আল্লাহর ইচ্ছাধীন হতে পারে’। সমস্ত ‘মুমকিন’ বস্তুই ‘শাই’ (شئ)-এর অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে সেগুলোই আল্লাহ্ তা‘আলার কুদরতের আওতাধীন। আর যা ‘মুমকিন’ নয়, তা হচ্ছে হয়তো ‘ওয়াজিব’ (واجب), অর্থাৎ যাঁর অস্তিত্ব স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আবশ্যকীয়, যিনি কারো মুখাপেীও নন; অথবা ‘মুমতানি’ (ممتنع) বা অসম্ভব। সুতরাং আল্লাহর ক্বুদরত বা ইচ্ছার সাথে (‘ওয়াজিব’ কিংবা ‘মুমতানি’)-এর কোন সম্পর্ক নেই। (অর্থাৎ আল্লাহ্ তা‘আলার শক্তি ও ইচ্ছা ‘ওয়াজিব’ ও ‘অসম্ভব’ বিষয়াদির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়।) যেমন- আল্লাহ্ তা‘আলার সত্তা ও গুণাবলী হচ্ছে ‘ওয়াজিব’। এ কারণে তা আল্লাহর সৃষ্টি বা ক্বুদরতভুক্ত নয়। অনুরূপ, আল্লাহ তা‘আলার পে ‘মিথ্যা বলা’ এবং যেকোন দোষ-ত্র“টি থাকাও ‘অসম্ভব’। এ কারণে এসব (অশোভন) জিনিষ-এর (কার্যাদি) সাথে আল্লাহ তা‘আলার মতা বা শক্তির কোন সম্পর্ক নেই।
[কান্যুল ঈমান ও খাযাইনুল ইরফান: সূরা বাক্বারা: পৃ. ১২, বাংলা সংস্করণ]
হাকীমুল উম্মত আল্লামা মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহঃতাফসীরে নূরুল ইরফানে লিখেছেন-
এখানে (আলোচ্য আয়াত শরীফ) شئ (শাই) দ্বারা প্রত্যেক সম্ভব কাজই বুঝায়; যা আল্লাহর ইচ্ছাধীন হতে পারে। واجبات (ওয়াজিবাত) ও محالات (মুহালাত) আল্লাহর ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং না মহান আল্লাহ্ স্বয়ং দোষ-ত্র“টি দ্বারা দূষণীয় হতে পারেন; কারণ এটা অসম্ভব, না চিরজীবী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ
(واجب) সত্তা আপন সত্তাকে নিশ্চিহ্ণ করে দিতে পারেন। কারণ, তিনি হচ্ছেন ‘ওয়াজিব’ বা চিরস্থায়ী, চিরজীবী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা।
এ আয়াত থেকে (কোনভাবেই) ‘আল্লাহ্ মিথ্যা বলতে পারেন’ মর্মে বিশ্বাস করা চূড়ান্ত পর্যায়ের বোকামী।
[কান্যুল ঈমান ও নূরুল ইরফান, সূরা বাক্বারা: পৃ. ৮, বাংলা সংস্করণ]
আল্লামা জালাল উদ্দীন আব্দুর রহমান সূয়ূতী রাহঃ তাফসীরে জালালাঈনে উল্লেখ করেন-
اِنَّ اللهَ عَلى كُلِّ شَئٍ (شَاءَه‘) قَدِيْرٌ
অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ্ এমন প্রতিটি বস্তুর উপর শক্তিমান, যা তিনি ইচ্ছা করেন।
এ প্রসঙ্গে এর পার্শ্বটীকায় (নং১১) লিখা হয়েছে- আয়াতে شئ (শাই) শব্দের তাফসীরে তাফসীরকারক মহোদয় شَاءَه বিশেষণটা সংযোজন করেছেন। (অর্থাৎ আল্লাহ্ ওই ‘শাই’ বা জিনিষের উপর শক্তিমান, যা তিনি চান বা ইচ্ছা করেন।) তাও এজন্য যে, এ বিশেষণ দ্বারা ‘শাই’ থেকে ‘ওয়াজিব’ অর্থাৎ আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলীকে বের করে আনবেন। সুতরাং شَئٍ شَاءَه -এর অর্থ দাঁড়াবে- ‘নিশ্চয় আল্লাহ্ যা চান তা-ই তাঁর ইচ্ছা বা মতাধীন হবে।’ আর তা হচ্ছে ‘মুমকিন’ (সম্ভাব্য বস্তু)। [সূত্র. তাফসীর-ই জুমাল]
উল্লেখ্য, মিথ্যা ও ওয়াদা খেলাফের মতো দোষ-ত্র“টি আল্লাহর জন্য ‘মুমকিন’ও নয়, সুতরাং তা তাঁর ইচ্ছাধীনও নয়।
উক্ত আয়াতের তাফসীরে আল্লামা মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহঃ ওনার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ তাফসীরে নঈমীতে লিখেন-
اِنَّ اللهَ عَلى كُلِّ شَئٍ قَدِيْرٌ
(ইন্নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর)। شئ (শাই) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- চাওয়া। আর পরিভাষায়, তাকেই شئ (শাই) বলা হয়, যার সম্পর্ক ‘চাওয়া’র সাথে রয়েছে। এর উর্দু অনুবাদ হলো ‘চীয’ অর্থাৎ জিনিস বা বস্তু। সুতরাং আয়াতের অর্থ হলো আল্লাহ্ প্রত্যেক ‘শাই’ বা জিনিসের ওপর শক্তিমান। এখন দেখুন এ ‘শাই’ বা ‘চীয’-এর অর্থ কি?
ক্বোরআন শরীফে شئ (শাইউন) শব্দটি চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছেঃ
১. ممكن موجود (মুমকিন-ই মাওজূদ) অর্থাৎ বিদ্যমান সম্ভাব্য বস্তু। যেমন- خَالِقُ كُلِّ شَئٍ (১৩:১৬) অর্থাৎ আল্লাহ্ তা‘আলা সম্ভাব্য বিদ্যমান প্রত্যেক জিনিসের স্রষ্টা। কেননা, ‘মাখলূখ’ বা সৃষ্টি বিদ্যমানই হয়; কখনোই বিদ্যমান থাকে না এমন নয়।
২. ممكن (মুমকিন), যার অস্তিত্ব সম্ভব; চাই, বিদ্যমান হোক কিংবা না-ই হোক; যা এ আয়াতের মধ্যে সুস্পষ্ট। কেননা, আল্লাহ্ এমন প্রত্যেক জিনিসের ওপর শক্তিমান, যা তার চাওয়া ও ইচ্ছার মধ্যে আসতে পারে। আর ওইগুলো হচ্ছে অস্তিত্বে আসার ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় বস্তু। এ জন্য যে, واجب (ওয়াজিব বা যার অস্তিত্ব অনিবার্য) এবং محال (মুহাল বা যার অস্তিত্ব অসম্ভব) খোদার ইচ্ছার মধ্যে আসতেই পারে না। সুতরাং তা তাঁর শক্তির অন্তর্ভূক্তও নয়। যেমন- পরওয়ারদেগার নিজের শরীক বানাতে পারেন না। কেননা, তা অসম্ভব। তিনি নিজে দূষণীয় গুণাবলী দ্বারা বিশেষিতও হতে পারেন না। কেননা, এটাও محال (মুহাল) বা অসম্ভব। তাঁর স্বীয় ذات (যাত) বা সত্তা ও صفات (সিফা-ত) বা গুণাবলী তাঁর মতাধীন নয়। কেননা, তা হলো واجب (ওয়াজিব)। সুতরাং আয়াতের شئ (শায়ইন) শব্দ থেকে محال (মুহা-ল) বা ‘অসম্ভব’ ও ‘ওয়াজিব’ উভয়ই খারিজ।
৩. معلوم (মা’লূম) বা জ্ঞাত। যেমন- وَكَانَ اللهُ بِكُلِّ شَئٍ عَلِيْمًا (৪৮:১৬)অর্থাৎ আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে জ্ঞাতা। এখানে অবশ্যই شئ (শায়ইন)’র মধ্যে واجب (ওয়াজিব), محال (মুহাল), ممكن (মুমকিন)-সবই অন্তর্ভূক্ত। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা এ সব কিছুই জানেন।
৪. موجود (মওজূদ) বা বিদ্যমান; তা, واجب (ওয়াজিব) হোক কিংবা ممكن (মুমকিন)। যেমন- قُلْ اَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللهُ (৬:১৯) অর্থাৎ আপনি বলুন! সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষ কার? আপনিই বলে দিন, ‘আল্লাহর’। অনুরূপ, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ اِلاَّ وَجْهَه (২৮:৮৮) অর্থাৎ প্রত্যেক বস্তু ধবংসশীল; কিন্তু তাঁরই সত্তা; অর্থাৎ তাঁর সত্তা (চিরস্থায়ী)।
এ দু’টি আয়াতের মধ্যে شىء (শায়উন)’র অর্থ موجود (মওজূদ)। মহান আল্লাহ্ এ শেষোক্ত আপন সত্তাকে পৃথক করে চিরস্থায়ী বলে ঘোষণা করেছেন। উল্লেখ্য, যদি شئ (শাইউন)’র এ অর্থগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা না হয়, তাহলে সঠিক অর্থ চয়নে বহু সমস্যা সৃষ্টি হবে। আলোচ্য আয়াতে ‘শাই’-এর দ্বিতীয় অর্থ (অর্থাৎ ‘মুমকিন’)ই প্রযোজ্য।
দেওবন্দীরা এবং তাদের অনুসারীরা এ আয়াত থেকে বুঝেছে যে, ‘আল্লাহ্ মিথ্যা কথাও বলতে পারেন; কেননা, মিথ্যা বলাও নাকি شئ (শাই)। আর প্রত্যেক ‘শাই’ বা জিনিসের ওপর আল্লাহ্ শক্তিমান। অথচ এটা তাদের মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। এর বিস্তারিত আলোচনা নিম্নে লক্ষ করুন-
‘ইমকানে কিয্ব’ বা আল্লাহর পক্ষে মিথ্যা বলা’ সম্ভব কিনা-
(মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী বলেন-)
.......................................মিথ্যা বলা- সর্বপ্রকার দোষের মধ্যে সর্ব নিকৃষ্ট দোষ। (সমস্ত অপবিত্র কর্মের মূল।) এর কতিপয় কারণ রয়েছেঃ
১. মানুষ মিথ্যার সাহায্য ছাড়া কোন পাপ করতেই পারে না। যদি কেউ সত্য বলার প্রতিজ্ঞা করে, তাহলে সে ইনশা-আল্লাহ্ সর্বপ্রকার পাপ থেকে এমনিতেই তাওবা করে নেবে। দেখুন- চোর, শরাবী, ব্যভিচারী তখনই এ জাতীয় কাজগুলো করতে পারে, যখন সে প্রথম থেকেই মিথ্যা বলার জন্য তৈরী হয়ে যায়। আর এ ধারণা নিয়ে থাকে যে, যদি আমি ধরা পড়ে যাই, তাহলে সাথে সাথে অস্বীকার করে বসবো। যদি প্রথম থেকে সত্য বলার জন্য ওই লোকেরা প্রতিজ্ঞা করে নেয়, তাহলে তারা এ জাতীয় অপকর্ম করতেই পারে না।
২. অন্য যে কোন পাপ কুফর নয়; তবে মিথ্যা বলা কুফর ও শিরকের পর্যায়ে পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যেমন- মুশরিকরা বলে, রব বা প্রতিপালক দু’জন তথা একাধিক। (না‘ঊযুবিল্লাহ্) এটা ডাহা মিথ্যা কথা ও কুফরী (শির্ক)। ‘ঈসায়ীরা বলে থাকে যে, হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম রবের পুত্র। তারাও মিথ্যাবাদী এবং কাফির। একজন মদ্যপায়ী ও জুয়াড়ী এ সব অন্যায় কাজকে হারাম জেনে এবং বুঝেও করে থাকে। তখন সে পাপী; কিন্তু কাফির নয়। কেননা, সে মিথ্যা বলছে না, কিন্তু সে যখন বলে দিলো যে, এ সব কাজ হালাল, তখন সে মিথ্যা বললো এবং কাফির হয়ে গেলো। একটি বিষয় মানতে হবে যে, অনেক বড় থেকে বড়তর গুনাহ্ও কুফর নয়, কিন্তু মিথ্যা বলা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কুফর। ইসলামী শরী‘আত যেসব কাজকে কুফর সাব্যস্ত করেছে, যেমন- পৈতা বাঁধা, মাথায় ঝুঁটি রাখা ইত্যাদিও কুফর; কেননা এগুলো দ্বীনকে অস্বীকার করারই আলামত। সুতরাং সেখানেও প্রকারান্তরে মিথ্যা বলার কারণে কুফর হলো।
৩. ক্বোরআন করীমে কোন পাপীর ওপর অভিশাপ দেয়া হয়নি, কিন্তু মিথ্যুকের ওপর অভিশাপ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেন- لَعْنَتُ اللهِ عَلَى الكَاذِبِيْن (৩:৬১) অর্থাৎ মিথ্যুকদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ।
স্মর্তব্য যে, যালিম ও কাফিরদের ওপর যে অভিশাপ এসেছে তা তাদের মিথ্যা বলার কারণেই এসেছে। কেননা, কুফর ও শিরকের মধ্যে ‘মিথ্যা’ অবশ্যই নিহিত আছে। ক্বোরআনে এখানে ظالمين (যা-লিমীন) দ্বারা কাফিরদের বুঝানো হয়েছে। সুতরাং স্বীকার করতে হবে যে, মিথ্যা বললে মানুষ অভিশাপের উপযুক্ত হয়।
৪. মিথ্যুক মানুষ সাধারণত বাজে লোক হয়ে থাকে। আর বাজে লোক সরকারী প্রশাসনের উপযুক্ত হয় না। সুতরাং মিথ্যা বলা সর্বপ্রকার দোষের মধ্যে অত্যন্ত জঘন্য। আল্লাহ্ তা‘আলা এটা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।
এরপর আরেটু অগ্রসর হয়ে বলেন-
মহান আল্লাহ্ মিথ্যা বলা থেকে পবিত্র হওয়ার প্রমাণসমূহ
প্রথম প্রমাণঃ যেহেতু মিথ্যা বলা দূষণীয়; বরং সর্বপ্রকার দোষের মধ্যে জঘন্য আর মহান রব সর্ব প্রকার ‘আয়ব’ বা দোষ থেকে পবিত্র, সেহেতু তিনি মিথ্যা বলা থেকেও পবিত্র।
স্মর্তব্য যে, যেভাবে অন্যান্য দোষ আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্যও নয় এবং সম্ভবও নয়, যেমন চুরি, ব্যভিচার ইত্যাদি, এগুলো তাঁর জন্য সত্তাগতভাবেই সম্পূর্ণ অসম্ভব, সেভাবে তাঁর পক্ষে মিথ্যা বলাও সত্তাগতভাবেই অসম্ভব।
দ্বিতীয় প্রমাণঃ যখন দু’টি ‘একক’ নিয়ে একটি ‘সমগ্র’ গঠিত হয়, তখন এ দু’টির মধ্যে প্রত্যেক হুকুম অপরটি অনুসারে হবে। যেমন- ‘খবর’ (সংবাদ)-এর দু’টি দিক থাকে- সত্য অথবা মিথ্যা। সুতরাং আল্লাহ্ প্রদত্ত খবরাদির মধ্যে যদি মিথ্যারও অবকাশ থাকে, তাহলে তাঁর সত্যবাদী হওয়া ওয়াজিব বা নিশ্চিত থাকলো না; মিথ্যার অবকাশের কারণে সত্যের নিশ্চয়তা দূরীভূত হয়ে যায়।
তৃতীয় প্রমাণঃ আল্লাহর সব গুণই ‘ওয়াজিব’। যদি তাঁর পে মিথ্যা বলার অবকাশ থাকে তাহলে প্রশ্ন জাগবে যে, ওই ‘মিথ্যা বলা’ খোদার গুণ হবে কি না? যদি মিথ্যা বলা আল্লাহর গুণ হয়, তাহলে তাও ‘ওয়াজিব’ হওয়াই উচিত হবে। আর যদি তার গুণ না হয় তাহলে এর ‘ইমকান’ বা সম্ভাবনার অর্থই বা কি?
চতুর্থ প্রমাণঃ ‘কালাম-ই সাদিক্ব’ বা ‘সত্য বলা’ মহান আল্লাহরই গুণ। যদি খোদার ‘মিথ্যা বলা’ ‘মুমকিন’ (সম্ভব) হয়, তবে ‘সত্য বলা’ও ‘ওয়াজিব’ থাকে না। এতে এটাই অনিবার্য হবে যে, আল্লাহর গুণ ‘মুমকিন’ (সম্ভাব্য/নশ্বর)-ই হলো, যা চিরস্থায়ী, চিরঞ্জীব আল্লাহর জন্য শোভন নয়।
পঞ্চম প্রমাণঃ মিথ্যা বলার তিনটি কারণ হতে পারে- ক. অজ্ঞতা, খ. অপারগতা, গ. দুষ্টামী বা ভ্রষ্টতা।
কোন ব্যক্তি কোন বিষয়ে (অবাস্তব) সংবাদ পেলো। আর তা লোকদের মধ্যে বর্ণনা করে দিলো। সুতরাং এ ব্যক্তি তার অজ্ঞতাবশতঃই মিথ্যা কথাটা বলে ফেললো। যায়দ প্রতিজ্ঞা করলো, ‘‘আমি একমাস পর ঋণ পরিশোধ করে দেবো।’’ কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তার হাতে টাকা আসলো না এবং সে তার প্রতিজ্ঞায় মিথ্যুক হয়ে গেলো। এ মিথ্যা তার অপারগতাবশত হলো। অনুরূপ, কারও মিথ্যা বলা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলো, কোন কারণ ছাড়াই সে মিথ্যা বলতে থাকে। এ মিথ্যা বলা তার নাফ্সের ভ্রষ্টতার কারণে হলো। কিন্তু আল্লাহ্ তা‘আলা এ তিন ধরনের কারণ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। সুতরাং মিথ্যা বলা থেকেও তিনি পবিত্র। তাই এ ধরনের বিশ্বাস মোটেই উচিত নয়।
ষষ্ঠ প্রমাণঃ কোন ব্যক্তি বা বস্তু আল্লাহর সমতুল্য হতে পারে না। আল্লাহর শান ও মান-মর্যাদা সর্বোচ্চ ও সর্বোন্নত। আর আল্লাহ্ ব্যতীত যদি অন্য কোন অত্যন্ত নেক্কার মানুষের কথাই বলি, তবে তার পক্ষে ‘মিথ্যাবলা’ (মুমকিন বিয্যাত) অর্থাৎ সত্তাগতভাবে সম্ভব হলেও তা محال بالغير (মুহাল বিলগায়র) অর্থাৎ অন্য কোন বাহ্যিক কারণে (যেমন- অত্যন্ত নেক্কার মানুষ হবার কারণে) অসম্ভব। অর্থাৎ এমন সৎ লোকেরা কখনোই মিথ্যা বলেন না। যদি মহান আল্লাহ্র ‘মিথ্যা বলাও’ এ ধরণের হয়ে থাকে, তাহলে মা‘আ-যাল্লাহ্! (আল্লাহরই আশ্রয়) এ গুণের দিক দিয়ে ওই ভাল মানুষগুলোও তাঁর সমকক্ষ হয়ে গেলেন।’
সপ্তম প্রমাণঃ যে কালাম বাণীতে মিথ্যার অবকাশ থাকে ওই কালাম (বাণী) শ্রবণকারীর নিকট কোন গুরুত্ব রাখে না। তা তার মধ্যে কোন প্রভাবও ফেলবে না। যদি আল্লাহর কালাম ও সংবাদের মধ্যে মিথ্যার সম্ভাবনা থাকে, তবে তাঁর কোন সংবাদ বা খবরের মধ্যে ইয়াক্বীনই থাকলো না। আর ‘ইয়াক্বীন’ (يقين) ছাড়া ঈমানই অর্জিত হয় না। সুতরাং কোন দেওবন্দী ও তার অনুসারী ‘ইমকানে কিযব’-এর মাসআলা (আল্লাহকে মিথ্যা বলতে সক্ষম) মেনে নিয়ে মু’মিনই হতে পারে না। কেননা, তাদের অন্তরে খোদার বাণী বা খবরের মধ্যে মিথ্যার ‘ইমকান’ বা সম্ভাবনাই আসবে। আর সেই ইয়াক্বীন, যা তার ঈমানের জন্য প্রয়োজন, তা অর্জিতই হবে না।
অষ্টম প্রমাণঃ যেভাবে অন্যান্য দোষ اُلُوْهِيَّة (উলূহিয়্যাত) বা ‘ইলাহ্’ হওয়া’র বিপরীত, অনুরূপ, মিথ্যাও এর বিপরীত। দেখুন তাফসীর কাবীর, তাফসীর রূহুল বয়ান ও অন্যান্য ইলমে কালামের গ্রন্থাদি।
নবম প্রমাণঃ কোন কোন জিনিস বান্দাদের জন্য পূর্ণতা আনে; কিন্তু রবের জন্য তা দোষ। যেমন পানাহার করা ও ইবাদত করা। এগুলো মহান আল্লাহর জন্য সত্তাগতভাবেই অসম্ভব। সুতরাং মিথ্যা বলা ও ওয়াদা খেলাফ করা বান্দাদের জন্য প্রথম নম্বরের দোষ। সুতরাং তা আল্লাহর জন্য কিভাবে সম্ভব হবে?
দশম প্রমাণঃ দেওবন্দীদের মধ্যেও ‘মানতিক্ব’ বা তর্কবিদ্যা জানার মত লোক থাকতে পারে। তারাও হয়তো এ মাসআলাকে (আল্লাহর পক্ষে মিথ্যা বলা সম্ভব হওয়া ইত্যাদি) গ্রহণ করেনি। বস্তুতঃ বিজ্ঞ তর্কশাস্ত্রবিদরা এ মাসআলাকে রদ্ বা খণ্ডন করেছেন। সুতরাং মাওলানা আবদুল্লাহ্ টুনকী ও শাহ্ ফযলে হক্ব খায়রাবাদী এ ধরনের মাসআলার খণ্ডনে প্রমাণ্য কিতাব লিখেছেন। দেওবন্দীদের প্রসিদ্ধ তর্কবিদ মাওলানা আবদুল ওয়াহিদ সাম্বলী সাহেব একথা বলতো যে, ‘‘আমাদের মুরুব্বী আলিমদের এ মাসআলার মধ্যে বড় ভুল হয়ে গেছে।’’ এতে বুঝা যায় যে, এ মাসআলাটি নিতান্তই নিরর্থক। তাফসীরে নঈমী, ১ম খন্ড,পৃ.
🔄গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=236908198157643&id=100055153927069


0 মন্তব্যসমূহ