Ticker

6/recent/ticker-posts

আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৯

 

🆚আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৯


#মুহাম্মদ_আলমগীর।


তাদের ঐ বাজে কথার জবাবে যা তারা ধোঁকার আশ্রয় নিয়ে বলে,আল্লাহ্ মিথ্যা বলতে নাপারলেতো বান্দা থেকে কোনো একবিষয়ে কমে গেলেন!নাউজুবিল্লাহ্!

আমি বলতে চাই-মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী এবিষয়ের খন্ডনটা সুন্দর ভাবে করেছেন-


কর্তার ‘অপরাগতা’ তখনই প্রকাশ পাবে, যখন তার مفعول বা কর্মবাচ্যে প্রভাব গ্রহণ করার মত যোগ্যতা থাকে, কিন্তু কর্তার মধ্যে প্রভাব বিস্তারের শক্তি বা যোগ্যতা থাকে না। আর যদি কর্তার মধ্যে যোগ্যতা থাকে, কিন্তু কর্মবাচ্য প্রভাব গ্রহণ করতে না পারে, তাহলে এ ত্রুটিটা কর্মবাচ্যের নিজেরই, কর্তার নয়। যদি কেউ আলোর মধ্যে নিকটের কোন বস্তু না দেখে তাহলে সে অন্ধ। কিন্তু যদি অন্ধকারের মধ্যে অথবা বহু দূরের কোন বস্তু দেখতে না পারে তাহলে সে অন্ধ নয়। কেননা এখানে তার কোন দোষ নেই; বরং সেটা ওই বস্তুরই ত্রুটি, যা দেখার উপযোগী নয়। অনুরূপ, দোষ-ত্রুটি ইত্যাদির ওই শক্তি বা যোগ্যতা নেই যে, আল্লাহ্র কুদরত বা শক্তির মধ্যে প্রবেশ করবে। সুতরাং এ ত্রুটি হচ্ছে দোষ-ত্রুটি ইত্যাদিরই, আল্লাহ্'র নয়। যদি এরই নাম অপরাগতা হতো, তাহলে হে দেওবন্দী, কওমী, হেফাজতীরা! মহান আল্লাহ্ তো তোমাদের ভাষায়, আরো অনেক দোষ-ত্রুটির শক্তি রাখেন না; যেমন মৃত্যুবরণ, চুরি ইত্যাদি।


মনে রাখা চাই-

‘আল্লাহর তথাকথিত মিথ্যা বলা’ شىء (শাই) নয়। কেননা, তা محال (মুহাল) অর্থাৎ অসম্ভব। অবশ্য বান্দাদের মিথ্যা বলা شىء (শাই)। মহান আল্লাহ অবশ্যই মিথ্যা সৃষ্টি করার শক্তি ও মতা রাখেন; তবে নিজে এ মিথ্যা বলা দ্বারা বিশেষিত নন। কেননা, সমস্ত দোষত্রুটিও আল্লাহ্রই মাখলূক্ব বা সৃষ্টি। কিন্তু আল্লাহ্ এসব দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র। আয়ব বা দোষ-ত্রুটি সৃষ্টি করা এবং জানা দোষ নয়। অবশ্য দোষ সম্পাদন করাই হলো আয়ব বা দোষ।


এখন যদি খবর হিসেবে প্রশ্ন আসে, তাহলে আমরা বলবো-

خبرمطلق বা ‘সাধারণ খবর’ হলো جنسসংজ্ঞায় বাক্যের ব্যাপক অংশ), আর ‘আল্লাহর খবর’ হলো সেটার একটা نوع বা শ্রেণী। এ نوع (শ্রেণী)’র মধ্যে আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত হওয়া (نسبت)টি হলো فصل (স্বতন্ত্র্য নির্দেশক বস্তু)’র মতো। এ فصل দ্বারা نوع বা শ্রেণীর উপর যে বিধান বর্তায় বা জারী হয়, তা نوع -এর জন্য যাতী বা সত্তাগত হয় আর جنس (বা ওই ব্যাপক শব্দ)-এর জন্য হয় عارضى বা পরো হয়। যেমন- যদি বলা হয় اَلْاِنْسَانُ حَيْوَانٌ نَاطِقٌ (মানুষ বাক্শক্তি সম্পন্ন প্রাণী), তবে এখানে ناطق বা ‘বাকশক্তি সম্পন্ন’ সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী (এ نوع বা) ‘ইনসান’-এর জন্য যাতী বা সত্তাগত (প্রত্য) হলো, কিন্তু حيوان (প্রাণী)’র জন্য عارضى বা পরো হলো। সুতরাং যখন ‘আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত হওয়া’ (نسبت الهى) মিথ্যা হওয়াকে محال (অসম্ভব) করলো, তখন মিথ্যা ‘অসম্ভব হওয়া’ আল্লাহর খবর বা উক্তির জন্য – بالذات (সত্তাগত)ই হলো, আর ‘সাধারণ খবর’ এর জন্য بالعرض (পরো বা কারণ সাপে)ও হলো।

আমার উপরোক্ত আলোচনার ফলে, আল্লাহর অনুগ্রহক্রমে, উভয় আপত্তি দূরীভূত হলো। আর সাব্যস্ত হলো যে, মিথ্যা বলা আল্লাহর জন্য কোন মতেই সম্ভবপর নয়।


বাকী রইলো- দেয়ালের মিথ্যা না বলা এটা তো محال بالغير (মুহাল বিলগায়র) বা পরোক্ষ কারণে নয়; বরং محال عادى (মুহাল আদী) বা স্বাভাবগত ও সৃষ্টিগত কারণেই। সম্মানিত নবীগণ ও ওলীগণের সাথে পাথর ইত্যাদি কথা বলেছে। ভবিষ্যতেও বলবে, সুতরাং তাদের এ সূত্র দ্বারা এ কথা অপরিহার্য হয় যে, মহান আল্লাহর মিথ্যা বলা যদি محال بالغير (মুহাল বিলগায়র) তো দূরের কথা محال عادى (মুহাল আদী)ও না হয়, তবেই আল্লাহর প্রশংসা করা যাবে, অন্যথায় নয়; সুতরাং এ সূত্র বা যুক্তিও ভ্রান্ত।


আর তাদের ঐকথা- আল্লাহ্ চাইলে আবু লাহাব-হামানকে দোযখ দেয়ার কথা বললেও শাস্তি নাদিয়ে বেহেশতেও দাখিল করতে পারেন।

এটা একেবারেই বাতিল কথা!

এতে আল্লাহর সাথে মিথ্যার কি সম্পর্ক?  কারণ প্রথমত- সমস্ত শাস্তি প্রদান তো মহান আল্লাহর ইচ্ছার ওপরই নির্ভরশীল। যদি তিনি চান শাস্তি দেবেন, যদি ইচ্ছা করেন মাফ করে দেবেন। পবিত্র ক্বোরআনে মহান আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন- وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذَالِكَ لِمَنْ يَّشَاءُ (৪:১১৬) অর্থাৎ ‘‘এবং শির্ক-এর নিম্নপর্যায়ের যা কিছু রয়েছে তিনি যাকে চান মা করবেন।’’ এ আয়াতে শির্ক ব্যতীত সমস্ত শাস্তিকে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর মাওকুফ করে দিয়েছেন। সুতরাং যে পাপীর মা হবে, তা এ আয়াতের ঘোষণা অনুসারেই হবে।সুতরাং ওয়াদা ভঙ্গ হলো কোথায়?

দ্বিতীয়ত- দোষ-ত্রুটি মাপ করা তাঁর অনুগ্রহ স্বরূপ; মিথ্যা নয়। আর এটা মিথ্যা হলেই তো আয়ব বা দোষ হতো।


পৃথিবীর প্রত্যেক জিনিস সৃষ্ট হওয়া মহান আল্লাহর ইচ্ছার ওপরই নির্ভরশীল। আল্লাহ্ ঘোষণা করেছেন- فَعَّالٌ لِمَا يُرِيْدُ (৮৫:১৬) অর্থাৎ ‘‘তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই সম্পন্ন করেন।’’ তিনি আরো এরশাদ করেন- عَلَى مَا يَشَاءُ قَدِيْرٌ (আল্ ক্বোরআন) অর্থাৎ তিনি যা ইচ্ছা করেন তার ওপর তিনি শক্তি রাখেন।’’ মক্কার কাফিরদের ওপর আযাব আসা, যেহেতু এটাও পৃথিবীর একটি জিনিস, সুতরাং মহান রব এটা করতেও সক্ষম। সেই امكان (ইমকান) ও ক্বুদরতের আলোচনা তোমাদের উপস্থাপিত দ্বিতীয় আয়াতের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু যখন পৃথিবীর কোন জিনিসের সাথে মহান আল্লাহর ইচ্ছার সম্পর্ক হয়ে যায়, তখন তার বিপরীত হওয়া محال بالذات (মহাল বিয্যাত) বা সত্তাগতভাবে অসম্ভব হয়। এর আলোচনা প্রথমোক্ত আয়াতে করা হয়েছে। সুতরাং সারমর্ম এ হলো যে, মক্কার কাফিরদের ওপর আযাব আসা আর না আসা খোদ তাদের অবস্থা অনুসারে উভয়ই সম্ভব। কিন্তু এ অনুসারে যে, যেহেতু আযাব না আসার বিষয়ে মহান আল্লাহ্ ওয়াদা করেছেন এবং তা তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে হওয়া محال بالذات (মুহাল বিয্যাত) হলো, সেহেতু এ অবস্থায় আযাব আসা محال بالذات (মুহাল বিয্যাত বা সত্তাগতভাবে অসম্ভব) হলো।

 كان (তা‘আদ্দুদ-ই ইমকান) বা সম্ভবনার আধিক্য এক বিষয়; আর امكان تعدد (ইমকান-ই তা‘আদ্দুদ) বা আধিক্যের সম্ভাবনা আরেক বিষয়। সুতরাং তাদের প্রতি এ শাস্তি পাঠানোর মধ্যে امكان (ইমকান)’রই تعدد হলো, تعدد (তা‘আদ্দুদ)’র امكان (ইমকান) হলো না। পবিত্র ক্বোরআন বুঝার জন্য যেমন আক্বল (বিবেক) ও জ্ঞানের প্রয়োজন, তেমনি দ্বীন-ধর্মেরও প্রয়োজন; কিন্তু দেওবন্দীদের মধ্যে এ তিনটি বিষয়েরই অভাব পরিলক্ষিত হয়।আমরা তা দ্বারা এটাও বুঝলাম যে, তারা (দেওবন্দীরা) এখনো পর্যন্ত امكان كذب (ইমকান-ই কিযব)’র মাসআলাটাই বুঝলো না।

কে এটা বলছে যে, পৃথিবীর কোন কোন জিনিস ممكن (মুমকিন) বা সম্ভবনাময় আর কোন কোনটি نا ممكن (না-মুমকিন) বা অসম্ভব?

বস্তুত: পরস্পর বিপরীত প্রত্যেক জিনিস (نقيضين ضدين) ‘মুমকিন’ (বা হওয়া সম্ভবময়)। তবে উভয়কে একই সময়ে একত্রিতকরণ محال بالذات (মুহাল বিয্যাত) বা মৌলিকভাবে অসম্ভব। অনুরূপ,خبر الهى (খবর-ই ইলাহী বা আল্লাহ্ প্রদত্ত সংবাদ)-এর সাথে خلف (খল্ফ) বা ব্যতিক্রম হওয়া محال بالذات (মুহাল বিয্যাত)। এটাই হচ্ছে امكان كذب (ইমকান-ই কিযব) বা মিথ্যার সম্ভবনা বা সত্তাগতভাবে অসম্ভব সম্পর্কিত মাসআলা।


কলেবর নাবাড়িয়ে ইমকানে কিযব'র আলোচনা এতটুকুতেই শেষ করলাম!আল্লাহ্ হিদায়াত দাতা! তিনি বলেন-

 یُضِلُّ بِہٖ کَثِیۡرًا ۙ وَّ یَہۡدِیۡ بِہٖ کَثِیۡرًا ؕ وَ مَا یُضِلُّ بِہٖۤ  اِلَّا الۡفٰسِقِیۡنَ


🔄গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=239455644569565&id=100055153927069


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ