Ticker

6/recent/ticker-posts

আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব। পর্ব:-৬৪




 🆚আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব। পর্ব:-৬৪


#মুহাম্মদ_আলমগীর।


 ইমাম কাযী আরায (رحمة الله) প্রণীত শিফা শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘নসীমুর রিয়ায’ এর ৩য় খন্ডের শেষে উলে­খিত আছেঃ اَلْاَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ مِنْ جِهَةِ الْاَجْسَامِ وَالظَّوَاهِرِ مَعَ الْبَشَرِ وَبَوَ اطِنُهُمْ وَقَوَاهُمُ الرًُّوْحَانِيَّةُ مَلْكِيَّةٌُ وَلِذَا تَرَى مَشَارِقَ الْارْضَ وَمَغَارِبَهَا تَسْمَعُ اَطِيْطَ السَّمَاءِ وَتَشُمُّ رَائِحَةَ جِبْرَا ئِيْلَ اِذااَرَادَالنُّزُوْلَ اِلَيْهِمْ -‘‘আম্বিয়ায়ে কিরাম (আলাইহিস সালাম) শারীরিক ও বাহ্যিক দিক থেকে মানবীয় বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন, তবে আভ্যন্তরীণ ও রূহানী শক্তির দিক থেকে ফিরিশতাদের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এ কারণেই তাঁরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত সমূহ দেখতে পান, আসমানের চিড়চিড় আওয়াজ শোনেন এবং হযরত জিব্রাইল (আলাইহিস সালাম) তাঁদের নিকট অবতরণের ইচ্ছা পোষণ করতেই তাঁর সুঘ্রাণ পেয়ে যান।’’ 


ইমাম কুস্তালানী (রঃ) مواهب গ্রন্থের ২য় খন্ডের ৩৮৭ পৃষ্ঠায় ২য় পরিচ্ছেদে زيارة قبره شريف শীর্ষক বর্ণনায় লিখেছেনঃ وَقَدْ قَالَ عُلَمَاءُنَا لَا فَرْقَ بَيْنَ مَوْتِهِ وَحَيَاتِهِ أَعْنِي فِي مُشَاهَدَتِهِ لِأُمَّتِهِ وَمَعْرِفَتِهِ بِأَحْوَالِهِمْ وَنِيَّاتِهِمْ وَعَزَائِمِهِمْ وَخَوَاطِرِهِمْ، وَذَلِكَ عِنْدَهُ جَلِيٌّ لَا خَفَاءَ فِيهِ -‘‘আমাদের সুবিখ্যাত উলামায়ে কিরাম বলেন যে, হুজুর (ﷺ) জীবন ও ওফাতের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তিনি নিজ উম্মতকে দেখেন, তাদের অবস্থা, নিয়ত, ইচ্ছা ও মনের কথা ইত্যাদি জানেন। এগুলো তাঁর কাছে সম্পূর্ণরূপে সুস্পষ্ট, কোনরূপ অস্পষ্টতা ও দুর্বোধ্যতার অবকাশ নেই এখানে।’’ 


ইমাম কুস্তালানীঃ মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়াঃ ৪/৫৮০ পৃ. মাকসুদঃ ১০, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ} 


হাকীমুল উম্মত আল্লামা মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী বদায়ূনী, আশরাফী,গুজরাটি রাহঃ'র বিখ্যাত কিতাব "জাআল হক" এর হাযির-নাযির অধ্যায় থেকে কিছু উদ্ধৃতি নকল করছি- মাদারেজুন নবুওয়াত’ গ্রন্থের ৪৫০ পৃষ্ঠায় ২য় খন্ডের ৪র্থ ভাগের حيات انبياء শীর্ষক পরিচ্ছেদে উলে­খিত আছেঃ

 اگر بعد ازاں گويند كه حق تعالي جسدشريف راحالتے وقدرتے بخشيده است كه درهر مكانے كه خواهد تشريف بخشد خواه بثال بمثالے خوه بعينيه خواه بر آسمان خواه برز مين خواه درقبر ياغيروعے صورتے داردبا جو دثبوت نسبت – خاص بقبردر همه حال 

অর্থাৎ- এরপর যদি বলা হয় যে, আল্লাহ তা’আলা হুজুর (ﷺ) এর পবিত্র শরীরে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি করছেন ও এমন এক শক্তি দান করেছেন যে, রাসূল (ﷺ) যেখানে ইচ্ছা করেন সেখানে স্বশরীরের বা অনুরূপ কোন শরীর ধারণ করে অনায়াসে গমন করতে পারেন, কবরের মধ্যে হোক বা আসমানের উপর হোক, এ ধরনের কথা সঠিক ও বাস্তবসম্মত। তবে, সর্বাবস্থায় কবরের সাথে বিশেষ সম্পর্ক বজায় থাকে। 


তিনি এটাও নকল করেন- 

শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (رحمة الله) স্বরচিত ‘মাদারেজুন নবুয়াত’ গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে লিখেছেনঃ

 ذكر كن اور اودرود بفرست بروے عليه السلام وباش در حال ذكر گويا حاضر است پيش تو در حالت حيات ومى بينى تو اورا متادب باجلال وتعظيم وهيبت وحياو بدانكه وے عليه السلام مى بيند وحى شنود كلام تراز ير اكه وے عليه السلام متصف است بصفات اله ويكے از صفت الهى انست كه انا جليس من ذكرنى -

‘‘হুজুর (ﷺ)কে স্মরণ করুন, তাঁর প্রতি দরুদ পেশ করুন, তাঁর যিকির করার সময় এমনভাবে অবস্থান করুন, যেন তিনি আপনার সামনে জীবিতাবস্থায় উপস্থিত আছেন, আর আপনি তাঁকে দেখছেন। আদব, মর্যাদা ও শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ন রেখে ভীত ও লজ্জিত থাকুন এবং এ ধারণা পোষণ করবেন যে, হুযুর পুর নুর আলাইহিস সালাম আপনাকে দেখছেন; আপনার কথাবার্তা শুনছেন। কেননা তিনি খোদার গুণাবলীতে গুণান্বিত। আল্লাহর একটি গুণ হচ্ছে ‘আমি (আল্লাহ) আমার স্মরণকারীর সঙ্গে সহাবস্থান করি।’ {শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভীঃ মাদারিজুন নবুয়তঃ ২/৬২১ পৃ.} 


আল্লামা আহমদ ইয়ার খান রাহঃ নকল করেন- আশিআতুল লুমআত’ গ্রন্থের কিতাবুস সালাত’ এর ‘তাশাহুদ’ অধ্যায়ে ও মাদারেজুন নবুয়াত’ গ্রন্থ ১ম খন্ডের ১৩৫ পৃষ্ঠায় ৫ম অধ্যায়ে ‘হুজুর (ﷺ)- এর ফযায়েল এর বর্ণনা প্রসেঙ্গ শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (رحمة الله) বলেছেনঃ 

وبعضے عر فاگفته اند كه ايں خطاب بهت سريان حقيقت محمد يه است در ذرائر مو جودات وافاد ممكنات پس انحضرت در ذات مصلياں موجود وحاضر است پس مصلي رابايد كه ازيں معنى اگاه باشد وازيں شهودغافل نه بوتا انوار قرب واسرار معرفت منور وفائز گردد

 অর্থাৎ- কোন কোন ‘আরিফ’ ব্যক্তি বলেছেন ‘তাশাহুদে’ ‘আসসালামু আলাইকুম আইয়ুহাননবী’ বলে নবী (ﷺ) কে সম্বোধন করাার রীতির এ জন্যই প্রচলন করা হয়েছে যে, ‘হাকীকতে মুহাম্মদীয়া’ (মুহাম্মদ (ﷺ) এর মৌল সত্ত্বা) সৃষ্টিকূলের অণু-পরমাণুতে, এমনকি সম্ভবপর প্রত্যেক কিছুতেই ব্যাপৃত। সুতরাং, হুজুর (ﷺ) নামাযীগণের সত্ত্বার মধ্যে বিদ্যমান ও ‘হাযির’ আছেন। নামাযীর এ বিষয়ে সচেতন হওয়া, বা এ বিষয়ের প্রতি অমনোযোগী না হওয়াই বাঞ্ছনীয়, যাতে নামাযী নৈকট্যের নূর লাভে ও মা’রেফাতের গুপ্ত রহস্যাবলী উন্মোচনে সফলকাম হতে পারে। 


প্রসিদ্ধ ‘মজমাউন বারাকাত’ গ্রন্থে শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (رحمة الله) বলেছেনঃ

 وى عليه السلام بر احوال واعمال امت مطلع است بر مقر بان اوز حاضرين گاه خود مفيض وخاضر وناظر است -

‘‘হুজুর (ﷺ) নিজ উম্মতের যাবতীয় অবস্থা ও আমল সম্পর্কে অবগত এবং তাঁর মহান দরবারে উপস্থিত সকলেই ফয়েয প্রদানকারী ও ‘হাযির-নাযির’।’’ 


শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (رحمة الله) سلوك اقرب السبل بالتوجه الى سيد الرسل নামক কিতাবে বলেনঃ

 باچنديں اختلاف وكيرت مذاهب كه در علماء امت هست يك كس رادريں مسئله خلافى نيست كه آں حضرت عليه السلام بحقيقت حيات بے شائبه مجاز وتوهم تايل دائم وباقي است وبر اعمال امت حاضر وناظر است ومر طالبان حقيقت راومتو جهان انحضرت رامفيض ومربى (ادخال اسان) -

‘‘উলামায়ে উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন মতাদর্শ ও বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, হুজুর (ﷺ) প্রকৃত জীবনেই (কোনরূপ রূপক ও ব্যবহারিক অর্থে যে জীবন, তা নয়) স্থায়ীভাবে বিরাজমান ও বহাল তবীয়তে আছেন। তিনি উম্মতের বিশিষ্ট কর্মকান্ড সম্পর্কে জ্ঞাত ও সেগুলোর প্রত্যক্ষদর্শীরূপে বিদ্যমান তথা ‘হাযির-নাযির’। তিনি হাকীকত অন্বেষণকারী ও মহান দরবারে নবুয়াতের শরণাপন্নদের ফয়েযদাতা ও মুরুব্বীরূপে বিদ্যমান আছেন।’’ {শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভীঃ মাকতুবাতে বর হাশিয়া আখবারুল আখিয়ারঃ পৃ. ১৫৫} 


শাইখ মুহাদ্দিস দেহলভী (رحمة الله) ‘শরহে ফুতুহুল গায়ব’ গ্রন্থের ৩৩৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ 

اما انبياء عليهم اسلام بحيات حقيقي دنيا وى حى وباقى ومتصرف انددريں جاسخن نيست -

‘‘নবীগণ (আলাইহিস সালাম) পার্থিব প্রকৃত জীবনেই জীবিত, শাশ্বত জীবন সহকারে বিদ্যমান ও কর্মতৎপর আছেন। এব্যাপারে কারো দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ নেই।’’ 


🔁গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=312592050589257&id=100055153927069

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ