Ticker

6/recent/ticker-posts

আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৫

 আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৫


আগের পর্বে আপনারা কুরআন ও বুখারীর হাদীস দেখেছেন যে,আমাদের নবীই আখেরী তথা শেষ নবী।

এবার মুসলিম শরীফের হাদীস দেখুন-

কিতাবুল মাসাজিদ,

باب أي مسجد وضع في الأرض أول: 


«1195» وحدثنا يحيى بن أيوب وقتيبة بن سعيد وعلي بن حجر قالوا حدثنا إسماعيل- وهو ابن جعفر- عن العلاء عن أبيه عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((فضلت على الأنبياء بست أعطيت جوامع الكلم ونصرت بالرعب وأحلت لي الغنائم وجعلت لي الأرض طهورا ومسجدا وأرسلت إلى الخلق كافة وختم بي النبيون)).

ইয়াহইয়া ইবনু আইউব, কুতায়বা ইবনু সাঈদ আলী হুজর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে ছয়টি জিনিস দ্বারা অন্য নাবীদের (নবীদের) উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে ১. আমাকে ব্যাপক তথ্যপূর্ণ ও অর্থবহ বাণী দান করা হয়েছে; ২. আমাকে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে; ৩. আমার জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়েছে; ৪. আমার জন্য মাটিকে পবিত্রকারী ও মসজিদ বানানো হয়েছে; ৫. আমাকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে; ৬. আমার দ্বারা নবুওয়াতের সমাপ্তি করা হয়েছে।


মুসলিম শরীফের কিতাবুল ফাযাঈল,

باب ذكر كونه صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين:


 «6099» حدثنا عمرو بن محمد الناقد حدثنا سفيان بن عيينة عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((مثلي ومثل الأنبياء كمثل رجل بنى بنيانا فأحسنه وأجمله فجعل الناس يطيفون به يقولون ما رأينا بنيانا أحسن من هذا إلا هذه اللبنة. فكنت أنا تلك اللبنة)). 

আমর আন-নাকিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার তুলনা এবং অন্য নবীগণের তুলনা সে ব্যক্তির অবস্থার সাথে তুলনীয়, যে একটি প্রসাদ নির্মাণ করল এবং সে তা সুন্দর ও সুদৃশ্য করল। পরে (তা দর্শনে আগত) লোকেরা তার চারদিকে ঘুরে দেখতে লাগল (এবং) বলতে লাগল যে, এর চাইতে সুন্দর কোন প্রাসাদ আমরা দেখিনি। তবে এ একটি ইটের স্থান অসমাপ্ত রয়েছে। (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ) আমি হলাম সে ইটখানি।

«6100» وحدثنا محمد بن رافع حدثنا عبد الرزاق حدثنا معمر عن همام بن منبه قال هذا ما حدثنا أبو هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. فذكر أحاديث منها وقال أبو القاسم صلى الله عليه وسلم: ((مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل ابتنى بيوتا فأحسنها وأجملها وأكملها إلا موضع لبنة من زاوية من زواياها فجعل الناس يطوفون ويعجبهم البنيان فيقولون ألا وضعت هاهنا لبنة فيتم بنيانك)). فقال محمد صلى الله عليه وسلم: ((فكنت أنا اللبنة)).

আমর আন-নাকিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার তুলনা এবং অন্য নবীগণের তুলনা সে ব্যক্তির অবস্থার সাথে তুলনীয়, যে একটি প্রসাদ নির্মাণ করল এবং সে তা সুন্দর ও সুদৃশ্য করল। পরে (তা দর্শনে আগত) লোকেরা তার চারদিকে ঘুরে দেখতে লাগল (এবং) বলতে লাগল যে, এর চাইতে সুন্দর কোন প্রাসাদ আমরা দেখিনি। তবে এ একটি ইটের স্থান অসমাপ্ত রয়েছে। (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ) আমি হলাম সে ইটখানি।

 «6101» وحدثنا يحيى بن أيوب وقتيبة وابن حجر قالوا حدثنا إسماعيل- يعنون ابن جعفر- عن عبد الله بن دينار عن أبي صالح السمان عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بنيانا فأحسنه وأجمله إلا موضع لبنة من زاوية من زواياه فجعل الناس يطوفون به ويعجبون له ويقولون هلا وضعت هذه اللبنة- قال- فأنا اللبنة وأنا خاتم النبيين)). 

ইয়াহইয়া ইবনু আইউব, কুতায়বা ও ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার দৃষ্টান্ত এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের দৃষ্টান্ত সে ব্যক্তির দৃষ্টান্তের ন্যায়, যে একটি আট্টালিকা বানাল এবং তা সুন্দর ও সুদৃশ্য করল। তবে তার কোণগুলোর কেন এক কোণে একটি ইটের জায়গা ছাড়া। লোকেরা তার চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল আর তা দেখে বিস্মিত হতে লাগল এবং পরস্পর বলতে লাগল, ঐ ইটখানি স্থাপন করা হল না কেন? (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আমি-ই সে ইটখানি আর আমি নবীগণের শেষ নবী।

«6103» حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة حدثنا عفان حدثنا سليم بن حيان حدثنا سعيد بن ميناء عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((مثلي ومثل الأنبياء كمثل رجل بنى دارا فأتمها وأكملها إلا موضع لبنة فجعل الناس يدخلونها ويتعجبون منها ويقولون لولا موضع اللبنة)). قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((فأنا موضع اللبنة جئت فختمت الأنبياء)). 

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার দৃষ্টান্ত এবং নাবীগণের দৃষ্টান্ত সে ব্যক্তির দৃষ্টান্তের ন্যায়, যে একটি গৃহ নির্মাণ করল এবং সে তা সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ করল কিন্তু একথানি ইটের জায়গা ব্যতীত। লোকেরা তাতে প্রবেশ করতে লাগল এবং তা দেখে বিস্মিত হতে লাগল এবং বলাবলি করতে লাগল, যদি এ একথানি ইটের জায়গা খালি না থাকত (তবে কতই না ভাল হতো)! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি হলাম সে ইটের জায়গায়। আমি আগমন করলাম এবং নবীগণের ধারাক্রম সমাপ্ত করলাম।


এতগুলো হাদীস শুধু একারণে দেয়া হলো যে,কেউ যেনো কাউকে ধোকা দিতে নাপারে!কারণ তথাকথিত উলামা সংলাপ-২এ বার বার চেষ্টা করা হয়েছে যেনো তাদের হযরতের এই কুফুরী ব্যাখ্যাকে জায়েয করা যায়!আইনুল কাজ্জাব এবং তার জাতভাই দেওবন্দীদের সেই ধোঁকা নাশক এই হাদীসগুলো।


কোনো একটি বিষয়কে তাবিল করতে হয় তখন,যখন কোনো একটি সুস্পষ্ট নসের বিপরীতে এমন কোনো সুস্পষ্ট নস থাকে,যা দৃশ্যত পূর্বের নসের বিপরীত হয়!আবার সেটাও হওয়া চাই যথাযত!অথচ কাসেম নানুতুবী সুস্পষ্ট কুরআনী আয়াত,এবং সহীহ হাদীসের বিপরীতে একটি আসারের এমন তাবিল দাড় করিয়ে দিলো,যা সমস্ত উম্মতের ইজমারই বিপরীত!

কুরআনী নস আর সহীহ হাদীসের নস দ্বারা যখন একথা প্রমাণিত হয়েই গেলো যে,আমাদের আকাﷺ হলেন শেষ নবী,তাঁর পর নবুয়তের সমস্ত ধারাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে,এবং উম্মতের সকল ইমাম উলামাগণ যখন একথার উপরই ইজমা করেছেন,তখন কোনো আসারের এমন মনগড়া তাবিলের প্রয়োজনটাইবা বাকী রইলো কোথায়?


আর উক্ত আসারেরইবা মূল্য কতটুকু?যখন বুখারী,মুসলিমের হাদীস দ্বারা ফায়সালা হয়ে গেছে?অথবা তিরমিযী শরীফ সহ অসংখ্য মুতওয়াতির,মশহুর,সহীহ হাদীস দ্বারা যা সাব্যস্ত;একটি আসার,যার অগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে!তার ভিত্তিতে এমন কুফুরীপূর্ণ ব্যাখ্যার অবকাশ কোথায়?উসুলে হাদীসের নীতিমালা অনুযায়ী সহীহ হাদীসের বিপরীত রিওয়ায়াত এমনিতেই পরিত্যাজ্য!

যা পরিত্যাজ্য তা দিয়ে কি কারণে মুতওয়াতিরের ভিন্ন ব্যাখ্যা কেনো দেয়া হবে?মুতওয়াতিরের বিপরীত কথাতো সর্বসম্মতিতে কুফুরী!তাহলে ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ'র ফতোয়ার উপর আপত্তিকারী কি এটাই দাবী করতে চায় যে,তাদের গুরুরা এহুকুমের বাইরে?


আমি অধম ইমাম কাযী আয়ায রাহঃ'র আশশিফা,ইমাম কুস্তুলানী রাহ'র মাওয়াহিবুল্লদুনিয়্যাহ,এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইমাম যুরকানী রাহঃ'র শরহুল মাওয়াহিব,এবং ফতোয়ায়ে,আলমগীরী,ফতোয়ায়ে হাদীসীয়াহ্,ফতোয়ায়ে শামী,দুররুল মোহতার,মারাকিল ফালাহ্ ইত্যাদী কিতাবে কুফর সংক্রান্ত আলোচনা দেখেছি!নবীর শানের খেলাফ বলাটা কুফুরী!ইসলামের মৌলিক বিষয়ের মনগড়া ব্যাখ্যাও কুফুরী!সুতরাং কাসেম নানুতুবীর ব্যাখ্যাটাও যেহেতু কুরআন-হাদীস,ইজমায়ে উম্মতের খেলাফ!তাই তার উপরও কুফরের হুকুম সম্পূর্ণ সঠিক!


আইনুল কাজ্জাব একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছে যে,ফাযিলে বেরলভী রাহঃ বলেছেন "আব্দুল কাদের জিলানী নবী হতেন!"

আসলে ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ বলেছেন, "যদি নবুয়তের দরজা খোলা থাকতো,তাহলে শায়খ আব্দুল কাদীর জিলানী রাঃ নবী হতেন!"

এখানে আবারও বলে রাখি,ইমাম আহমদ রেযা বলেছেন "যদি নবী আসা সম্ভব হতো,বা নবুয়তের দরজা খোলা থাকতো!"আর তিনি এটা কোনো মনগড়া কথাও বলেননি,আবার এটাতে খতমে নবুয়তের স্বীকৃতি পরিস্কার,কিন্তু অস্বীকৃতির বিন্দুও নেই!যেমনটা কাসেম নানুতুবীর লেখায় পরিস্কার শব্দে খতমে নবুয়তের অস্বীকৃতি আছে!সে বলেছে- যদি তারﷺ এর যামানায়ও যদি কোথাও কোনো নবী এসেও যায়!"

এবং লিখেছে-"যদি তার যামানার পরেও যদি কোনো নবী এসে যায়!"

এখানে সে পরিস্কার শব্দে সম্ভাবনা আরোপ করে দিয়েছে!কিন্তু ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ সম্ভাবনাকে প্রথমে নাকচ করে দিয়েছেন!কারণ তিনি শর্তযুক্ত শব্দ দ্বারা বলেছেন যে, "যদি নবী আসা সম্ভব হতো!"যাতে পরিস্কার বোঝা যায় যে,নবী আসা সম্ভব নয়!এবং "যদি নবুয়তের দরজা খোলা থাকতো...!"এতেও পরিস্কার শব্দে নবী আসার সম্ভাবনাকে অস্বীকার করা হয়েছে।

বিপরীতে কাসেম নানুতুবী শুরুটাই করেছে খতমে নবুয়তকে অস্বীকার করে!সে বলেছে "খাতেমুন্নবী" মানে শেষ নবী এটা মূর্খদের ধারণা...।"যেমনটি আগের পর্বে উল্লেখ করেছি।


এছাড়া ইমাম আহমদ রেযা শায়খ জিলানীর বেলায় যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্ভাবনাময় কথা বললেও একই কথা আরো অনেক অলির বেলায় আউলিয়ায়ে কিরাম এবং উলামাগণ বলেছেন!যেমন আবুল হাসান সাজালীর বেলায়ও অনুরুপ বলা হয়েছে।খোদ শায়খ আব্দুল কাদীর জিলানী রাঃ'র নিজ উক্তি ইমাম শাতনূফী রাহঃ ওনার বাহজাতুল আসরার ওয়া মা'দিনুল আনওয়ার কিতাবে লিখেছেন।শায়খ জিলানী বলেছেন- "নবুয়ত যদি সাধনা করে অর্জন করা যেতো,আমার ভাই আদী বিন মুসাফির তা প্রাপ্ত হতেন!"

তাহলে শায়খ জিলানীকেও কি বলা হবে তিনি ফাযিলে বেরলভীর মতো......!

মূল কথা হলো- কাসেম নানুতুবী সরাসরি খতমে নবুয়তকে ইনকার করে লিখেছে,আর ইনারা নবী আসার সম্ভাবনাকে অস্বীকার করেই এগুলো বলেছেন!সুতরাং ধোঁকাবাজদের মুখ কালো হয়ে গেছে!


আগামী পর্বে আরো আলোচনার আশা করছি!আল্লাহ্ পাক সর্বোত্তম তাওফিক দাতা!


🔄গতপর্বের লিঙ্ক:-

5⃣2⃣:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=204635111384952&id=100055153927069

5⃣3⃣:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=208460591002404&id=100055153927069

5⃣4⃣:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=224041256111004&id=100055153927069


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ