Ticker

6/recent/ticker-posts

আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব। পর্ব:-৬১

 




🆚আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব। পর্ব:-৬১


#মুহাম্মদ_আলমগীর।


ইতোমধ্যে আ'লা হযরত ইমাম শাহ্ আহমদ রেযা বেরলভী রাহঃ'র উপর প্রদত্ত অপবাদগুলোর অধিকাংশেরই জবাব দিয়েছি আমি।আজকের বিষয়টার উপর এর আগে আলাদা কোনো আর্টিকেল আমি লিখিনি।তবে অন্যান্য অপবাদগুলোর জবাবে এবিষয়েও আমি লিখেছি।তবুও আলাদা করে এবিষয়টা নিয়ে লিখছি।


আইনুল কাজ্জাব লোকটা তার সমাচারে "আব্দুল কাদের জিলানী নবী হতেন" এই নিয়ে ভিডিও আপলোড করেছিলো।

আসলে তার আকলে ত্রুটি থাকায় সে স্বাভাবিক একটা কথাকেও ফিতনার দিকে নিয়ে গেছে।

আমি আগেও বলেছি নবী হওয়ার কথাটা তিনি বলেছেন শর্তসাপেক্ষ!

ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ একটি প্রশ্নের জবাবে ওনার আহকামে শরীয়তে এই কথাটা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রশ্নে যা ছিলো তার সারসংক্ষেপ হলো- শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী রাঃ নবী হতেন বলে রাসুলﷺ থেকে কোনো হাদীস আছে কিনা?

ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ প্রশ্নের জবাব এভাবে দিচ্ছেন-

জওয়াব ঃ এই ফকির (ইমাম আহমদ রেযা) সংক্ষিপ্ত- অথচ উপকারী কিছু কথা বলবো- যদিও তা আমার সমর্থনকারী ও বিরূদ্ধবাদী- উভয় গ্রুপের কাছেই পূর্ণ গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। কিন্তু আশা করি, তা ইনসাফের সীমাও অতিক্রম করবেনা। সত্য অনুসরন করাই উচিত এবং আল্লাহ-ই সঠিক রাস্তার পথ প্রদর্শনকারী ।


(খ) -এ বর্ণিত দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব দিয়েই শুরু করিঃ “নবীজীর পরে নবী আগমনের সম্ভাবনা থাকলে নিশ্চিতভাবে বড়পীর সাহেবই হতেন”- এই শর্তযুক্ত বানী বা নবী হওয়ার যোগ্যতার কথাটি হযরত বড়পীর সাহেবের বেলায় প্রযোজ্য হতে পারে । কেননা, এমন শর্তযুক্ত কথা হযরত ওমর (রাঃ) -এর বেলায়ও ছিল । এটা যোগ্যতার প্রশ্ন সম্বাবনাময় । বাস্তবে তা হওয়া জরুরী নয় । হযরত বড়পীর সাহেবের মর্তবা ও পদমর্যাদা ছিল নবুয়তের পদমর্যাদার ছায়া স্বরূপ ৷ বড়পীর . আবদুল কাদের জিলানী (রাঃ) নিজেই বলেছেন যে, “আমার প্রপিতামহ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে কদম তুলেছেন-সেখানেই আমি কদম রেখেছি; কিন্তু নবুয়তের কদম নয় (বরং বেলায়াতের কদম) । কেননা, সেখানে নবী ব্যতিত অন্য কারো হিস্যা নেই"(কাসিদা)


নবী হওয়ার যোগ্যতার ব্যাপারে হযরত ওমর (রাঃ) এর বেলায়ও নিম্নলিখিত হাদীস বর্ণিত হয়েছে لوكان بعدی نبي لكان عمر بن الخطاب

অর্থাৎ “আমার পরে নবী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ওমরই হতো নবী”। (ইমাম আহমদ, তিরমিজি-আকীকা ইবনে আমের (রাঃ) থেকে)। হাদীস শরীফে একথাও উল্লেখ আছে- “হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর নবুয়তের দরজা খোলা থাকলে সাহেবজাদা হযরত ইবরাহীম (রাঃ) সিদ্দীক ও নবী হতেন” (ইবনে আছাকির এবং মাওয়ারদী হযরত আনাছ ইবনে মালেক সুত্রে)।


অনুরূপভাবে ইবনে হাজর মক্কী (রাঃ) ফতোয়ায়ে হাদীসিয়ায়

উলামাগনের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেছেন-“শরহে মোহাযযাব গ্রন্থে উল্লেখ আছে لوجاز ان يبعث الله في هذه الامة نبيا لكان ابومحمد الجويني

অর্থাৎ“এই উম্মতের মধ্যে আল্লাহ্ যদি কাউকে নবী করে পাঠাতেন, তাহলে সেই যোগ্যতা ছিল শেখ আবু মোহাম্মদ জোওয়াইনীর মধ্যে”।


“সব হাদীস সত্য-কিন্তু সব সত্য কথা হাদীস নয়” । হাদীস হিসাবে গন্য করতে হলে তা অবশ্যই প্রমান ও সনদ ভিত্তিক হতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রাঃ)-এর ক্ষেত্রে নবীজীর পৃথক কোন হাদীস প্রমানিত নেই সত্য- তবে কোন উলামা বা অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন কোন ওলী-আল্লাহ্ যদি ঐরূপ উক্তি করে থাকেন তাহলে আবু মোহাম্মদ জোওয়াইনী সম্পর্কে উলামাগনের উক্তির ন্যায়ই তা বিবেচনা করতে হবে।(আহকামে শরীয়ত বাংলা অনুবাদ,পৃ.-১২৩-১২৪)


এখানে উত্তরটা এমনভাবে দেয়া হয়েছে যে,একজন বাচ্চা ছেলেও সহজে বুঝে নিতে পারবে!কিন্তু কাজ্জাব লোকটি এমন ভাব দেখালো যেনো দুনিয়া উল্টে গেছে।ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।আর বলেছেন- শায়খ জিলানীর ব্যাপারে রাসুলের কোনো আলাদা হাদীস নেই।তবে নবী হওয়ার সম্ভাবনাটা কোনো অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন অলির মুখ থেকে বের হলে তা উপরে বর্ণিত হাদীস এবং ফতোয়ায়ে হাদীসিয়ায় বর্ণিত উক্তির মতোই বিবেচনা করতে হবে।এর আগেই রাসুলের হাদীস থেকে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাঃ এবং হুযুরেরﷺ সাহেবযাদা ইবরাহীম রাঃ'র শর্তারোপিত নবুয়তের আলোচনা করেছেন।

"যদি নবুয়তের দরজা খোলা থাকতো" উক্তিটি সব কথার ব্যাখ্যা হয়েগেছে।এখানে নবুয়তের অবশিষ্টাংশ আর কিছুই বাকী থাকেনি।কিন্তু কাজ্জাবের কথা শুনুন!

এতটা হাস্যকর কথাবার্তা আমি এর আগে কমই শুনেছি।কারণ কিতাবে খুবই পরিস্কার ভাষায় কথাটার ব্যাখ্যা দেয়া আছে।এখান থেকে আপত্তিকর কোনো নুকতা বের করাটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তার্কিকেরও সম্ভব নয়।কিন্তু কাজ্জা লোকটি অন্ধ,বধীরের চাইতে নিকৃষ্ট এক পন্থা বেচে নিলো!তার আকলকে শয়তান কব্জা করে নিয়েছে।


এজাতীয় কথা আরো অনেক আউলিয়ায়ে কেরামগণের বেলায়ও অন্যান্য অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন আউলিয়া ও উলামাগণ বলেছেন।আবুল হাসান শাজালীর ক্ষেত্রেও এমন উক্তি এসেছে।

এখন আসুন খোদ গাউসে পাক ইমাম শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু''র আপন জবানে কি বলেছেন একটু দেখি:-


বাহজাতুল আসরার ওয়া মা'দিনুল আনওয়ার কিতাবে ইমাম জারীর লাখমী শাতনূফী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু

শায়খ আদী ইবনে মুসাফির উমুভী (রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর জীবনীতে লিখেছেন:-


"وكان شيخ الاسلام محی الدین عبدالقادر رضي الله عنه ینوه بذكره ويلنی عليه کٹراوشهدله بالسلطنه وقال لوكانت النبوة تناله بالمجاهدة لنالهاالشیخ عدي بن  مسافر واقام في اول امره رضي الله عنه فی الغارات والجبال والصحاري مجرد سايحایاخذ نفسه بانواع المجاهدات مددامديرة وكانت الحيات والهوام والسباع تالفه فیها"

"শায়খুল ইসলাম মুহিউদ্দীন আবদুল কাদির জীলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আন্হ তাঁর কথা উল্লেখ করতেন এবং তাঁর খুব প্রশংসা করতেন। তাঁর সালতানাতের পক্ষে সাক্ষ্য দিতেন এবং এটাও বলতেন, “যদি নুবূয়ত আধ্যাত্মিক সাধনা দ্বারা অর্জিত হতে পারতো, তাহলে নিশ্চয়ই তা আদী ইবনে মুসাফির পেয়ে যেতেন।"

বাহজাতুল আসরার, পৃ.১৪৫


এখন কার প্রতি অনৈসলামিক আকীদার আঙ্গুল তুলে অপবাদ দেয়া হবে?

খোদ রাসুলে করিমﷺকে?খোদ গাউসে পাককে?ইমাম ইবনু হাজার হায়তামী রাহঃকে?নাকি আল্লাহর অলিগণকে?

আবারও বলি! কারো আকলের কমজোরিতার জন্য কোনো ইমাম বা মুহাদ্দিস কিংবা আল্লাহর অলি দায়ী নন,বরং তার বিবেক এবং শয়তানী অন্তরই দায়ী।


🔁গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=255736369608159&id=100055153927069


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ