Ticker

6/recent/ticker-posts

আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৪

 

🆚আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫৪


#মুহাম্মদ_আলমগীর।


🎚খাতামুন্নবী নিয়ে আহলে সুন্নাতের আকীদা হলো আমাদের নবী মুহাম্মদ মোস্তাফাﷺহলেন শেষ নবী।তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।কুরআনে করীমের আয়াত, এবং বুখারী,মুসলিম,তিরমিযী সহ অসংখ্য হাদীসের কিতাবে বহু হাদীস রয়েছে যেগুলো দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে যায় যে,নবুয়তের যুগ শেষ হয়ে গেছে।

উপমহাদেশে দেওবন্দী-ওহাবীদের একজন গুরু।বানিয়ে দেওবন্দ মাওলানা কাসেম নানুতুবী নামক একজন একটি কিতাব লিখেছে।নাম দিয়েছে তাহযিরুন্নাস।ওক্ত কিতাবে বিভিন্ন রকমের তা'বিলের মাধ্যমে এমন এক আকীদার জন্ম দেয়া হয়েছে,যা খতমে নবুয়্যতের বিপরীত।

আর একারণে আ'লা হযরত ইমাম শাহ্ আহমদ রেযা বেরলভী রাহঃ মক্কা মদীনার উলামাদের সামনে তার কিতাবের এবারত উপস্থাপন করে ওনাদের রায় জানতে চান।ওনারা তা পড়ার পর তার উপর কুফুরীর ফতোয়া আরোপ করেন।


⌨কিন্তু শতাধিক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এখন তাদের মূল শাখা বালাকোটি ওহাবীয়তের এক মুখপাত্র তার জাতভাই দেওবন্দী-ওহাবীদের ঐসব গুরু,যাদের নাপাক আকীদার কারণে উলামায়ে আহলে সুন্নাতগণ তাদেরকে কাফির ঘোষণা করেছেন।ঐমুখপাত্র সেসব গুরুদের নাপাক আকীদার পক্ষ হয়ে তাদের তিনজন লোক নিয়ে অনলাইনে উলামা সংলাপের নামে আ'লা হযরত ইমাম শাহ্ আহমদ রেযা খান বেরলভী রাহঃকে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে বলেছে যে,আ'লা হযরত নাকি এবারত বুঝেননি,এবং নাবুঝেই খেয়ানত করেছেন।আর সম্পূর্ণ খেয়ানতের মাধ্যমে নাকি এমন ফতোয়া দিয়েছেন,এবং সেটা ভুল।আর তাদের গুরুর খতমে নবুয়ত অস্বীকারকে বলেছে যে,এটা খতমে নবুয়তের পক্ষে।

🖨তাদের দাবী হলো তিন জায়গার এবারতকে জুড়ে দিয়ে একটি ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের গুরুকে তোহমত দেয়া হয়েছে।এবং এও বলেছে যে,আ'লা হযরতের পিতা নাকি তাদেরকে কাফির মনে করতেননা!কিন্তু আল্লামা নকী আলী খান রাহঃ দেওবন্দী গুরুদের যেসব কুফুরী কথা রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে জানতেন এবং জানার পরও তাদেরকে কাফির মনে করতোননা,এটার প্রমাণ কি তারা দিতে পারবে?পারলে প্রমাণ হাযির করার আহবান রইলো।

বাকি রইলো তিনজায়গার এবারত- কিন্তু সে এবারতেতো পরিস্কার খতমে নবুয়তের বিরোধী বক্তব্য।তাহলে পরিস্কার শব্দের এবারতকে এক জায়গায় আনাটা ভুল কি হলো?আমরাওতো বলিনা যে, এগুলো একজায়গার অনুবাদ!


এরপর তারা দাবী করেছে,ইমাম জালাল উদ্দীন সূয়ূতী রাহঃ,এবং আল্লামা রুমি রাহঃও নাকি একই কথা বলেছেন।তাই তাদেরকেও নাকি কাফির বলতে হবে!নাউযুবিল্লাহ্!

কিন্তু ওনাদের বক্তব্য কি সেটা তারা উল্লেখ করেনি।

🎙কথা হলো- ওনারা যদি এমন কোনো কথা বলেন যাতে মনে হয় যে,ওনারা খতমে নবুয়তের বিপরীত বলেছেন,মূলত বিষয় তেমন মোটেও নয়!কারণ উনারা কেউ খতমে নবুয়তের বিপক্ষে বলেননি,কোনো আসার ওনারা ওনাদের কিতাবে বর্ণনা করা আর কাসেম নানুতুবীর মতো পরিস্কার শব্দে একথা বলা যে, "খাতেমুন্নবীয়্যীন অর্থ শেষ নবী এটা হলো অজ্ঞ তথা সাধারণ মানুষের কথা।জ্ঞানীদের কাছে এটার অর্থ তিনি আসল নবী,বাকীরা আরেযী,এবং যমানার আগে পরে হওয়াতে কোনো ফযিলত নেই।তাই খাতামুন্নবীয়্যিনের অর্থ শেষ নবী এটা কিভাবে শুদ্ধ হতে পারে?" নাউযুবিল্লাহ্!দেখুন তাহযিরুন্নাস ৪-৫পৃ.সুতরাং উভয় কথা একবরাবর নয়!ওনারা খাতেম হওয়াকে অস্বীকার করেননি,কিন্তু কাসেম নানুতুবী একদিকে বলছে,তিনি শেষ নবী,আবার আরেক দিকে বলছে-হুযুরের পরও নবী আসলে,বা হযুরের যামানায়ও নবী আসলে তাতে খাতেম হওয়াটা বাকি থাকে।এবং খাতেমুন্নবী মানে শেষ নবী এটা নাকি সহীহ নয়।


🎤এরপর আবার ২১পৃষ্ঠায় লিখেছে-"যদি হুযুরের যামানায়ও কোথাও কোনো নবী থাকে,তাহলেও হুযুরের খাতিম হওয়াটা বাকি থাকে।"নাউযুবিল্লাহ্! 

🎤৪০পৃষ্ঠায় লিখেছে- "যদি হুযুরের পরেও কোনো নবী এসে যায়,তাতেও খাতেমিয়তে মুহাম্মদীতে কোনো পার্থক্য আসবেনা।"নাউযুবিল্লাহ্! 

🎤৮ম পৃষ্ঠায় আরেকটি খতরনাক নাপাক কথা লিখেছে- "নবী উম্মত থেকে শুধু ইলিমের কারণে নবী এগিয়ে থাকেন।বাকি রইলো আমল।আমলের ক্ষেত্রে উম্মত কখনও নবীর বরাবর হয়ে যায়!বরং কখনও উম্মত আমলে নবী থেকে এগিয়ে যায়!"নাউযুবিল্লাহ্! 


এখানে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো-যখন কুরআন এবং সহীহ,মশহুর,মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে,আমাদের নবীই শেষ নবী।তাহলে এখানে নানুতুবীর তাহরিফের কারণটা কি?

আরেকটি কথা হলো-যদি উর্দূ ভাষাভাষীরাই উর্দূর আসল মতলব না বুঝে থাকেন,যেমনটি তারা বলেছে।তাহলে তারা বাংলা ভাষাভাষী হয়েও কিভাবে তা বুঝলো?


মিশরের আল-আযহারের শিক্ষক।আল্লামা খালিদ সাবিত!তিনি প্রথমে ছিলেন আ'লা হযরতের একজন কট্টর বিরোধী।তিনি শুনেছিলেন ইমাম সম্পর্কে নেতিবাচক নানারকম কথা।আর এটাও হয়েছিলো দেওবন্দী-ওহাবী ও তাবলীগীদের দ্বারা!এখানে জানিয়ে রাখি খালিদ সাবিত তখন তাবলীগ জামাতের সাথে সম্পর্ক রাখতেন।এবং এটার সুবাদে তিনি ভারতেও এসেছিলেন।কিন্তু পরবর্তীতে ইমামের বিভিন্ন কিতাব পড়ে নিজের ভুল বুঝতে পারেন।এবং ইমামকে নিয়ে লিখেন - ইনসাফুল ইমাম।

আর খালিদ সাবিতও ওনার কিতাবের ৩১-৩২পৃষ্ঠায় কাসেম নানুতুবীর এই খতমে নবুয়ত বিরোধী এবারতের কথা তুলে ধরেছেন।


কাসেম নানুতুবীর এই নাপাক কথাটাকেই পরবর্তীতে কাদিয়ানীরা পাকিস্তান পার্লামেন্টে তাদেরকে কাফির ঘোষণাকালীন এই তাহযিরুন্নাসকেই দলিল হিসেবে তুলে ধরেছিলো যে,দেখো তোমাদের লোকওতো বলেছে,নবী আসা সম্ভব!

আমি আলোচনাকে আর বাড়ালামনা।এবার দেখি কুরআন-হাদীসের দলিল।


সূরা আহযাব,আয়াতনং-৪০, আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-

مَا کَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ  اَحَدٍ مِّنۡ رِّجَالِکُمۡ وَ لٰکِنۡ رَّسُوۡلَ اللّٰہِ وَ خَاتَمَ  النَّبِیّٖنَ ؕ وَ  کَانَ اللّٰہُ  بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ﴿۴۰﴾ 

মুহাম্মদ  তোমাদের পুরুষদের মধ্যে  কারো  পিতা   নন;   হাঁ,   আল্লাহ্‌র   রসূল,   এবং   সমস্ত   নবীর  মধ্যে সর্বশেষ। আর আল্লাহ্‌ সবকিছু জানেন।


 সহীহ বুখারী শরীফের কিতাবুল মানাকিব,বাবু-

باب خاتم النبيين صلى الله عليه وسلم: 

হাদীস নং -৩৫৩৪-৩৫৩৫

«3534» حدثنا محمد بن سنان حدثنا سليم حدثنا سعيد بن ميناء عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((مثلي ومثل الأنبياء كرجل بنى دارا فأكملها وأحسنها، إلا موضع لبنة، فجعل الناس يدخلونها ويتعجبون، ويقولون لولا موضع اللبنة)). . 

মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমার ও অন্যান্য নাবীগণের অবস্থা এমন, যেন কেউ একটি ভবন নির্মাণ করলো আর একটি স্থান শূন্য রেখে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে গৃহটিকে সুন্দর সুসজ্জিত করে নিল। জনগণ (উহার সৌন্দর্য দেখে) মুগ্ধ হল এবং তারা বলাবলি করতে লাগল, যদি একটি ইটের স্থানটুকু খালি রাখা না হত (তবে ভবনটি কতইনা সুন্দর হত!)


«3535» حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا إسماعيل بن جعفر عن عبد الله بن دينار عن أبي صالح عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إن مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بيتا فأحسنه وأجمله، إلا موضع لبنة من زاوية، فجعل الناس يطوفون به ويعجبون له، ويقولون هلا وضعت هذه اللبنة قال فأنا اللبنة، وأنا خاتم النبيين)). 

কুতায়বা ইবনু সা'ঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নাবীগণের অবস্থা এরূপ, এক ব্যাক্তি যেন একটি ভবন নির্মাণ করল; ইহাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক কোনায় একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন ইহার চারপাশে ঘুরে বিস্ময়ের সহিত বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হল না কেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমিই সেই ইট। আর আমিই সর্বশেষ নাবী।

বাকী আলোচনা পরবর্তীতে আসবে ইনশাআল্লাহ্‌!


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ