✂আ'লা হযরতের রাহঃ উপর অপবাদের জবাব।পর্ব-৪২
🤔ফাযেলে বেরলভীর নবীগণের শানে গোস্তাখী(!!???!!!),নবীগণ তাঁদের স্ত্রীগণের সাথে কবরে "শব বাশী" তথা রাত যাপন করেন।
👁কোনো একটি উদ্ধৃতির কারণে কাউকে দোষারোপ করার আগে দেখতে হয় যে,এটা বক্তার নিজের কথা, নাকি কোনো সূত্র আছে?যদি বক্তার নিজ একক কথা হয় তখন দেখতে হয় বক্তা কে?বক্তা যদি এমন কেউ হণ যার কাছে শরীয়ত-তরীকতের ইলম আছে,তখন দেখতে হয় তার প্রদত্ত বক্তব্যের উপর উলামা সমাজ আপত্তি তুলেছেন কিনা।যদি না তুলেন তাহলে বুঝতে হবে একথাটার কোনোনা কোনো ভিত্তি আছে।আর যদি বক্তার নিজস্ব উদ্ধৃতি না হয় তখন সেটা যদি মন্দও হয় তার জন্য তাঁকে দোষারোপ করা যায়না।আর বক্তার উদ্দেশ্যকেও বিবেচনায় নিতে হয়।
🕷কিন্তু হিংসা আর বিদ্ধেষবসতঃ কারো দিকে তীর নিক্ষেপতো আমানতদারীতা নয়।বরং সেটা জঘন্য খেয়ানত।সেটাই হলো বানাওটি আকীদা!
👉এযাবত ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ'র উপর যেসব নিকৃষ্ট অপবাদ চাপানো হয়েছে, এটা তার একটি।
হাদীস শরীফে এসেছে, যখন তুমি লজ্জাহীন হয়ে যাও,তখন যা ইচ্ছা বলে যাও।
আমি সমাচারের ঐলোককে প্রায় তিন বছর আগে থেকে বলে এসেছি, যার যে বিষয়ে জানা নেই ;সে ঐবিষয়ে রসনা চালিত করার অর্থই হলো নিজেকে অপমানিত করা।"শব বাশী" শব্দের অর্থ রাত্রি যাপন করা।এখন রাত্রীযাপন মানেই কি বিবিদের সাথে সহবাস করা?রাত্রীযাপনের কি আর কোনো অর্থ নাই?এসব মূর্খ বদগুমানি লোক গুলো যখন মুখে যা আসে তা-ই বলে বসে।কখনও ইমাম শা'রানীকে "যাও আপন প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ করো" এটাকে যেনার কর্ম বলে অপবাদ দেয়।কখনও হাদীসে বর্ণিত উম্মে যাফারের "বুকে আঘাত করে" এটাকেও খোদ নবীয়ে দো'আলমﷺ'র শানে জঘন্যভাবে গোস্তাখী করতে গিয়ে "বালিকার বুকে হাত দিলেন..............😥🤔😋!!!! অপবাদ দেয়া হয়।এরকম অনেক ঘৃণ্য উপমা ঐ সুন্নির লেবাসে লুকিয়ে থাকা ওহাবী লোকটি তৈরী করেছে।আসলে-
المرء یقیس علی نفسه
মানুষ নিজের উপরই অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিয়াস করে।
এজন্য লজ্জাকে বলা হয়েছে ঈমানের অঙ্গ!
আলহামদুলিল্লাহ! আমি ইমাম যুরকানী রাহঃ'র শরহে যুরকানী আলাল মাওয়াহিবের ৪র্থও ১০ম মাকসাদ দেখেছি।আম্বিয়ায়ে কিরাম বিশেষ করে আমাদের আকাﷺ'র হায়াতে বরযখিয়ার উপর এত বিস্তৃত বিষদ আলোচনা তিনি করেছেন,যা পাঠ করলে হৃদয় বিগলিত হয়ে যায়।কিন্তু আমি এসব কথা কেনো বলছি।ঐব্যক্তি যে এসব কিতাব কখনও দেখেনি সে এসবের মর্ম কিকরে বুঝবে?হিংসা আর বিদ্ধেষ তাকে অন্ধও বধির করে ফেলেছে।সত্য উপলদ্ধি করার মতো শক্তি তার নাই।
🗒উপরে বর্ণিত অপবাদটি দেয়ার আগে মুর্খ লোকটি একবার কারো থেকে জিজ্ঞেস করে নিলেইতো হয়ে যেতো।দেওবন্দী গুরুদের পুরোনো দূর্গন্ধযুক্ত কথা উদ্ধৃত করার আগে ভেবে নেয়া উচিৎ ছিলো এগুলোর জবাব কেউ আগেই দিয়েছেন কিনা,অথবা পরে এটার কারণে তার-ই মুখে চুনকালি পড়বে কিনা!!!
📝ইমাম যুরকানী রাহঃ শরহুল মাওয়াহিবের ৮ম খন্ড, ৩৫৮পৃ.(দারুল কুতুব ইলমিয়া,লেবানন,বৈরুত) ৪র্থ মাকসাদে উদ্ধৃত করেছেন-
📚نقل السبکی فی طبقاته عن ابن فورک انه علیه السلام حی فی قبره رسول الله أبدالابدعلی الحقیقة لاالمجازلحیاته فی قبره یصلی فیه بأذن واقامة.
قال ابن عقیل ویضاجع ازواجه ویستمتع بهن اکمل من الدنیاء وحلف علی ذلک وهو ظاهرلامانع عنه-
"ইমাম সুবকি রাহঃতাঁর 'তবকাতুল কুবরা' কিতাবে ইবনে ফোরক* এর বরাতে বর্ণনা করেন যে, রাসুলে পাকﷺ আপন রওজা শরীফে রুপক নয় বরং হাকীকী তথা প্রকৃত জীবন নিয়ে জীবিত রয়েছেন।তিনিﷺ রওজা পাকে আযান ও ইকামত সহকারে নামায আদায় করছেন।
ইবনে আকীল রাহঃ বলেন, এমনকি তিনিﷺ দুনিয়ায় যেভাবে আপন পণ্যবান স্ত্রীগণের সাথে একসাথে বসবাস করতেন ও রাত যাপন করতেন,অনুরুপ কবরেও তা পারেন; বরং দুনিয়াবী অবস্থার চাইতে আরো বেশি পারেন।
ইবনে শপৎ করে বলেন যে,এসমস্ত বিষয়গুলো তাঁরﷺ জন্য অসম্ভব নয়।"
(কিতাবে মূল পৃষ্ঠা এড করে দেয়া হয়েছে।)
✒উপরে প্রদত্ত উদ্ধৃতি দেখুন;ইমাম যুরকানী ইমাম সুবকীর তাবকাত থেকে,ইমাম সুবকী ইবনে ফোরক থেকে,যিনি বিখ্যাত সূফী দার্শনিক।এবং উদ্ধৃতি ইবনে আকীল রাহঃ'র।এবার অপবাদটা কোথায় গিয়ে পড়লো?
যারা এটা বর্ণনা করেছেন, তারা সবাই কি রাসুলের শানে গোস্তাখী করেছেন?কোনটা গোস্তাখী,কোনটা সম্মান ওনারা কি তা জানতেননা?
💡ইমাম আহমদ রেযা রাহঃকে অপবাদ দিতে গিয়ে অনিবার্য যা সামনে এসেছে-
🏹ইমাম যুরকানী রাহঃ,যিনি ইমাম সুবকি রাহঃ থেকে নকল করেছেন,তাঁর উপরও একই গোস্তাখীর হুকুম প্রযোজ্য কিনা?
🔪ইমাম সুবকী রাহঃ,যিনি ইবনে ফোরক রাহঃ থেকে নকল করেছেন,তাঁর উপরও একই হুকুম প্রয়োগ হবে কিনা?
🗡ইবনে ফোরক রাহঃ'র উপরও একই গোস্তাখীর হুকুম লাগানো হবে কিনা?
🔫ইমাম ইবনে আকীল রাহঃ,যার বর্ণনা উদ্ধৃত করা হয়েছে,তাঁর উপর গোস্তাখীর হুকুম প্রয়োগযোগ্য কিনা?
এখানে প্রশ্নতো আমি উপস্থাপন করেছি,এখন বালাকোটি ওহাবীরা জবাবে- 🎙হ্যা বললেও বিপদ তাদের উপরই আপতিত হবে, আবার যদি জবাবে- 🎤না বলে বসে,তাহলে তারাই ফেসে যাবে।📍মাঝখানে অন্য কোনো পথ অবলম্বন সম্ভব নয়,✈হ্যা কিংবা ✈না।
❓কোনো মিথ্যুক বেয়াদব খবিস থেকে ওনাদের আদব শিখতে হবে?ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ যদি ইমাম যুরকানী রাহঃ'র কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেন তাকি গোস্তাখী করলেন?
🛫আর শত শত বছর পরও এবিষয়ে আর কেউ কোনো বিরুপ সমালোচনা করলেননা,অথচ বালাকোটি ওহাবী এবং তাদের জাত ভাই দেওবন্দী-ওহাবীরাই কেবল এটা নিয়ে পাড়া মাতানোর চেষ্টা করেছে।তাও শুধু এই কারণে যে,তারা ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ'র ইলমের কাছে অসহায় কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।যখন আর কোনো পথ পেলোনা,তখন ওনার চরিত্রে কালিমা লেপন করতে ব্যর্থ চেষ্টায় লিপ্ত হলো।
⛵আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আম্বিয়ায়ে কিরামগণ ওনাদের মাযার শরীফে জীবিত নাকি মৃত?
🚡এর উত্তর ইমাম জালাল উদ্দীন সূয়ূতী রাহঃ ওনার ইম্বাহিল আযকিয়া ফি হায়াতিল আম্বিয়ার শুরুতে খুব সুন্দর করে লিপিবদ্ধ করেছেন-
فأقول : حیاة النبي صلى ﷲ علیھ وسلم في قبره ھو وسائر الأنبیاء معلومة عندنا علما قطعیا لما قام عندنا من الأدلة في ذلك وتواترت [بھ] الأخبار، وقد ألف البیھقي جزءا في حیاة الأنبیاء في قبورھم ، فمن الأخبار الدالة على ذلک
📖সুতরাং আমি বলছি প্রিয়নবী (ﷺ) এবং অন্যান্য নবীরাসূলগণের নিজ নিজ রওযা শরীফে জীবিত থাকার বিষয়টি আমাদের সকলের নিকট সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত ও সর্বজন স্বীকৃত। কেননা এ বিষয়ে আমাদের নিকট অনেক দলীল ও প্রমাণ বিদ্যমান এবং এ ক্ষেত্রে প্রমাণিত দলীলগুলো ‘মুতাওয়াতির’ পর্যায়ের। অর্থাৎ যেগুলো এত অধিক সংখ্যক রাভী (বর্ণনাকারী) বর্ণনা করেছেন, যাতে কোন ধরনের সন্দেহের অবকাশ থাকে না।
📜আর ইমাম বাইহাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিও নবীগণ আলায়হিস্ সালাম নিজেদের রওযা শরীফে জীবিত থাকার প্রমাণ স্বরূপ একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন। পুস্তিকাটির নাম হল:
حَیاَة الْانَْبِیآءِ َُعَلیْھِمُ َّ السلامَُفِىِْ قبُُوُْرِھِمْ
(হায়াতুল আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামু ফী ক্বূবূরিহিম।)
ما أخرجھ مسلم عن أنس عن النبي صلى ﷲ علیھ وسلم قال : أَتَیْتُ — وفي روایة : مررت - عَلىَ مُوسَى لیَْلَةً أسُرْيِ بيِ ْعندَ الْكَثِیبِ ََالْأَحْمَرِ وَھُوَ قَاَئمٌِ یصَلي فيِ قَبْرِهِ. (٢)
{٢.رواه مسلم ( ۲۳۷۵ )}
📔ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহতে সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “যে রাত্রিতে আমাকে ইসরা ও মি’রাজ করানো হলো, ওই রাত্রিতে আমি এলাম, অন্য এক বর্ণনায় আছে আমি, হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর কবর শরীফের পাশ দিয়ে গেলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম লাল বর্ণের টিলার পাশে স্বীয় কবর শরীফে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন।”
📘وأخرج أبو داود والبيهقي عَنْ أوس بن أوس ، قال : قال رسول اللهِ صلى الله عليه وسلخ من أفضل أيّامكم يوم الجمعة ، فيه خلق آدمُ ، وفية النفخة ، وفية الصعقة ، فأكثروا على من الصلاة فيه ، فإن لاتكم معروضة " علي ، فقال رجل : يا رسُول الله ، كيف تعرض صلاتُنَا عَلَيْكَ وَقَد أرمت ؟ - يَعْنِي بَلِينَ - فَقال : إن الله حرمَ عَلَى الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء ( 6 )
📗أخرجھ أحمد ٤/٨(١٦٢٦٢. َّ والدارِمِي (١٥٧٢) و॥"أبو داود॥" ١٠٤٧ و॥"ابن ماجة॥" ١٠٨٥
وأخرجھ ابن ماجة (١٦٣٧مرقاة المفاتیح شرح مشكاة المصابیح كتاب الصلاة باب الجمعة.১৩৬১ وقال: رواه أبو داود ، والنسائي ، وابن ماجھ ،والدارمي ،حیاة الأنبیاء في قبورھم للبیھقي, رقم الحدیث-١٠ والبیھقي في " الدعوات الكبیر . "}
🏮ইমাম আবূ দাঊদ এবং ইমাম বাইহাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হযরত আওস ইবনে আওস আস্ সাক্বাফী থেকে বর্ণনা করেন:
“প্রিয় নবী (ﷺ) এরশাদ করেন,
নিশ্চয় তোমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো- জুমার দিন। সুতরাং এদিনে তোমরা আমার প্রতি অধিক পরিমাণে দুরূদ শরীফ প্রেরণ কর। কেননা, তোমাদের দুরূদ শরীফগুলো আমার নিকট পেশ করা হয়। সাহাবীগণ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুম বললেন, ‘‘এয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার নিকট আমাদের সালাত কিভাবে পেশ করা সম্ভব? কেননা আপনি তো ইন্তিকাল করবেন এবং আপনার দেহ মাটি খেয়ে ফেলবে?’’ তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাদের এ ভুল ধারণাকে সংশোধন করে দিয়ে বললেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা হারাম করে দিয়েছেন মাটির উপর নবীগণের দেহ মুবারককে গ্রাস করা।’’
📕وأخرج البیھقي في حیاة الأنبیاء، والأصبھاني في الترغیب عن أنس بن مالك رضي ﷲ عنھ أن النبي صلى ﷲ علیھ وسلم قال: إن أقربكم مني یوم القیامة في كل موطن أكثركم علي َصلاة في الدنیا ، من صلىعلي َّ في یوم الجمعة ولیلة الجمعة مائة مرة قضى ﷲ لھ مائة حاجة ،سبعین من حوائج الآخرة ، وثلاثین من حوائج الدنیا ، ثم یوكل ﷲ بذلك ملكا یدخلھ في قبري كما یدخل علیكم الھدایا. (٩)
📔 رواه ابن منده في " الفوائد " (ص/٨٢)، والبیھقي في " شعب الإیمان " (٣/١١١) ، و"حیاة الأنبیاء" (٢٩) ، ومن طریق البیقھي : ابن عساكر في " تاریخ دمشق " (٥٤/٣٠١) ، وعزاه السیوطي في " الحاوي " (٢/١٤٠) للأصبھاني في " الترغیب." )}
📄ইমাম বায়হাক্বী ‘হায়াতুল আন্বিয়া’তে এবং ইমাম ইস্পাহানী ‘আত্ তারগীব’-এ হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, প্রিয়নবী (ﷺ) এরশাদ করেন,
“যে ব্যক্তি আমার উপর জুমার দিনে ও রাতে একশ’ বার দুরূদ পাঠ করবে এর বিনিময়ে তার একশ’টি চাহিদা পূরণ করা হবে- সত্তরটি তার আখিরাতের চাহিদা ও প্রয়োজন এবং ত্রিশটি তার দুনিয়ার চাহিদা ও প্রয়োজন। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা এর জন্য একজন ফেরেশতা নিয়োগ করবেন, যে আমার নিকট দুরূদসমূহ ওইভাবে পেশ করবে, যেভাবে দুনিয়াতে তোমাদের নিকট উপহার-উপঢৌকন পেশ করা হয়। নিশ্চয় আমার জ্ঞান আমার ইন্তিকালের পরও ওইরূপ সচল বিদ্যমান ও অক্ষুন্ন থাকবে যেভাবে আমার যাহেরী হায়াতে আছে।"
📡তিনি আরো লিখেন-
قال البيهقي فعلى هذا يصيرونَ كَسَائرِ الْحَيَاء , يَكُونُونَ حَيّث يُنْزِلُهُمْ اللَّهُ عَزَ وَجل . "
📃ইমাম বায়হাক্বী বলেন, “উপরোক্ত বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা ইন্তিক্বালের পরও অন্যান্য জীবিতদের ন্যায় জীবিত, আল্লাহ্ তাদেরকে যেখানে অবস্থান করাবেন, তাঁরা সেখানে অবস্থান করতে থাকবেন।”
ثم قال البيهقي ولحيَاة الأنبياء بعدَ مَوتِهم صَلَوَاتُ اللهِ عَليهم شوّاهِدُ مِنَ الأحاديث الصةً حِيحَةٍ مِنْهَا ، فذكر قصة الإسراء في لقيه جماعة من الأنبياء وكلمهم وكلموه . ( ۱۳ )
حياة الأنبياء في قبورهم للبيهقي « ما مكث نبي في قبره أكثر من أربعين رقم الحديث : ه . . .}
📕অত:পর ইমাম বায়হাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বলেন, “নিশ্চয় নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম-এর ইন্তিক্বালের পরও জীবিত থাকার স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়।”
প্রমাণ স্বরূপ তিনি ইসরা ও মি’রাজের ঘটনা এবং এ রাতে নবীগণের সাথে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা এবং নবী করীম (ﷺ)-এর সাথে তাঁদের আলায়হিস্ সালাম কথা বলার বিশুদ্ধ ঘটনা ও রেওয়ায়াতগুলো বর্ণনা করেন।
وأخرج حِديث أبي هريرة في الإسراء وفيه : عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَال رسول اللهِ صلى الله عليه وسلم : ( . . . وَقد رأيتني في جَمَاعَة مِنَ الأنبياء فإذاً مُوسى قائم يُصلى فإذا رجل ضرب جَعَ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ نَوَوَإِذا عيسى ابن مريم عليه السلام قائم يصلي أقرّب النَّاسَ به تشبها عُروهُ بَنْ مسعود الثقفي وإذاً إبراهيم عليه السلآمُ فَايْمُ يُصلّي أشبَهُ النّاس به صاحبُكُمْ - يَعْنِي : نَفسَهُ ـ فَانت الصدَ لَهُ فَأَمَمَتُهُمْ .( 14)
{14. رواه مسلم ( ١٧٢)}
🔦ইমাম বায়হাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি প্রিয় নবীর ইসরা ও মি’রাজের ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে হযরত আবূ হোরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু-এর রেওয়ায়তটি উল্লেখ করেন। তাতে রয়েছে
“আমি আমাকে দেখতে পেলাম একদল সম্মানিত নবীর দলে। আর হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে দেখলাম তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন। দেখলাম তিনি উপমাযোগ্য ব্যক্তি। তাঁর চুল কোঁকড়ানো দেখে মনে হচ্ছিল- তিনি ‘শানুয়া’ সম্প্রদায়ের লোক। আবার দেখলাম হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন। ওদিকে হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালামও দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছেন। তিনি আলায়হিস্ সালাম দেখতে প্রায় আমার মতই। অত:পর নামাযের সময় এল। আর আমি তাঁদের সকলের ইমাম হিসেবে নামায আদায় করলাম।”
وقال : هذا إنما يصح على أن الله رد على الأنبياء أرواحهم وهم أحياء عند ربهم كالشهداء ، فإذا نفخ في الصور النفخة الأولى صعقوا فيمن صعق ثم لا يكون ذلك موتا في جميع معانيه إلا في ذهاب الاستشعار ، انتهى .
📒এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন এ হাদীস শরীফ একথাও প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা নবীগণের প্রতি তাঁদের রূহ ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই তাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে জীবিত, শহীদগণের ন্যায়। অত:পর যখন শিঙ্গায় প্রথম ফুঁক দেয়া হবে তখন তাঁরাও অন্যান্যদের ন্যায় সংজ্ঞাহীন হয়ে যাবেন। এটি কোন দিক থেকেই মৃত্যু নয়; বরং শুধু অনুভূতি শক্তি লোপ পাওয়া মাত্র।
وأخرج أبو يعلى عن أبي هريرة سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " والذي نفسي بيَدِلينزلن عيسى بن مَرْيَمَ تُمْ أَيْنَ قامَ عَلى قبري فَقال : يا مُحَمّد إلأجيبَتَهُ ( 16 )
{١٦. وقد انفرد بروایتھ على ھذا الوجھ سعید المقبري من تلامیذ أبي ھریرة رضي ﷲ عنھ ، واختلف رواة الحدیث عن سعید المقبري: فرواه بھذا اللفظ أبو صخر ( حمید بن زیاد ، ویقال اسمھ : حمید بن صخر ) ، عن سعید المقبري ، عن أبي ھریرة رضي ﷲ عنھ . رواه أبو یعلى في " المسند " (١١/٤٦٢. (ورواه محمد بن إسحاق ، عن سعید المقبري ، عن عطاء (مولى أم صبیة) ، عن أبي ھریرة رضي ﷲ عنھ . رواه الحاكم في " المستدرك " (٢/٦٥١) ، لكن بلفظ: ( ولیأتین قبري حتى ِّ یسلم َ عليََّ ، ولأَرََ َّ ُدن َّ علیھ( وبھذا اللفظ رواه محمد بن إسحاق أیضاً عن سعید المقبري عن أبیھ عن أبي ھریرة رضي ﷲ عنھ . رواه ابن عساكر في تاریخ دمشق (٤٧/٤٩٣)}
📖আবূ ইয়া’লা তাঁর মুসনাদে হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি-
“যে মহান রবের ক্বুদরতের হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ করে বলছি- নিশ্চয় হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম অবতরণ করবেন। অত:পর তিনি যদি আমার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে “হে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা!’’ বলে আহ্বান করেন, তাহলে আমি নিশ্চয় তাঁর আহ্বানে সাড়া দেব। "
وأخرج أبو نعيم في دلائل النبوة عن سعيد بن المُسيّب يَقول : لقد رأيتني ليالي الحرة وما في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم أحدّ غيري ، ما يأتي وقت صلاة إلا سمعت الأذان من القبر.(١٧)
{١٧. الراوي: سعید بن عبد العزیز المحدث: محمد المناوي - المصدر: تخریج أحادیث المصابیح - الصفحة أو الرقم: ٥/٢٣٦ . كرامات أولیاء ﷲ عز وجل للالكائي ذكر فضائل الصحابة وغیرھم ما كان سیاق ما روي من كرامات سعید بن المسیب رحمة ﷲ... رقم الحدیث: ٩٨. شرح أصول اعتقاد أھل السنة والجماعة بو القاسم ھبة ﷲ ابن الحسن بن منصور الطبري كرامات أولیاء ﷲ سیاق ما روي من كرامات سعید بن المسیب رحمة ﷲ علیھ, ما روي من كرامات سعید بن المسیب - رحمة ﷲ علیھ ১২০, تاریخ ابن أبي خیثمة ٤/ ١١٩
📖হযরত আবূ নু‘আয়ম ইস্পাহানী তাঁর “দালায়েলুন্ নুবূয়্যাত”-এ হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন ‘হাররা’-এর রাতগুলোতে আমি মসজিদে নবভী শরীফে আশ্রয় নিলাম। তখন মসজিদে নবভী শরীফে আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। কিন্তু যখনই নামাযের সময় হতো, তখন আমি প্রিয়নবীর (ﷺ) কবর শরীফ থেকে আযান শুনতে পেতাম।
وأخرج زبير بن بكار في " أخبار المدينة " عن سعيد بن المسيب ، قال : الم أزل أسمع الأذان والإقامة من قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم أيام الحرة حتى عاد الناس . ( ۱۸ )
{١٨. انظر: وفاء الوفا ٤/١٣٥٦.}
📖হযরত যুবাইর ইবনে বাক্কার তাঁর ‘আখ্বারুল মাদিনা’তে হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করেন : তিনি বলেন,
আমি ‘হাররা’-এর রাতগুলোতে রাসূলে করীম (ﷺ) এর কবর শরীফে প্রতিটি নামাযের সময় আযান ও ইক্বামত শুনতে পেতাম। যতদিন পর্যন্ত মানুষ মদিনায় ফিরে আসেনি ততদিন পর্যন্ত তা শুনতে পেয়েছি। "
وأخرج ابن سعد في الطبقات عن سعيد بن المسيب أنه كان لازم المسجد أيام الحرة والناس يقتتلون قال : فكنت إذاً حانت الصلاة أسمَعَ أذانا يُخرج مِنَ القبر الشريف " ( ۱۹ )
{١٩. سبل الھدى والرشاد، في سیرة خیر العباد، وذكر فضائلھ وأعلام نبوتھ وأفعالھ وأحوالھ فيالمبدأ والمعاد. المؤلف : محمد بن یوسف الصالحي الشامي}
📚ইমাম ইবনে সা’দ তাঁর ‘আত্ ত্বাবাক্বাত’ নামক কিতাবে হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করেন:
“তিনি হাররা-এর দিনগুলোতে যখন অকাতরে মানুষ হত্যা করা হচ্ছিল তখন মসজিদে নববী শরীফে আত্মগোপন করেন। তিনি বলেন- যখনি নামাযের সময় উপস্থিত হতো তখন আমি কবর শরীফ থেকে আযানের শব্দ বের হতে শুনতাম।'
وأخرج الدارمي في مسنده : عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزيز ، قال : " لمّا كان أيّام الحرة لم يُؤذَنَ في مسجد النبي ثلاثاً ، ولم يُقم وَلَم يُبَرَح سعيد بن المُسيّ المسّجد وكان لا يعرف وقت الصلاة إلا بهمهمّة يَسمَعُهَا مِنْ قبر النبي صلى الله عليه وسلم " ، فَذَكَرَ مَعَنَاهُ . ( 20 )
{٢٠. رواه الدارمي ج ١ : ص ٢٢٨ }
📙ইমাম দারেমী তাঁর ‘মুসনাদে দারেমী’তে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন-
আমাদের নিকট মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ সা‘ঈদ ইবনে আবদুল আযীয r এর সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
“আইয়্যামুল হাররা-এর ঘটনার সময় মসজিদে নবভী শরীফে আযান, ইক্বামত দেয়া হয়নি। হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব এদিন-রাতগুলোতে মসজিদে নবভী শরীফের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছিলেন। তিনি নামাযের সময় সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছেন না (অন্ধকার ও দরজাগুলো বন্ধ থাকার কারণে); কিন্তু যখনি নামাযের সময় হতো তখন প্রিয় নবীর রাওযা শরীফ থেকে একটি অস্পষ্ট শব্দ শুনতে পেতেন।
فهذه الأخبار دالة على حياة النبي صلى الله عليه وسلم وسائر الأنبا
📗উপরোল্লেখিত হাদীস ও বর্ণনাগুলো প্রমাণ করে যে, নবী করীম (ﷺ) এবং অপরাপর নবী-রাসূলগণ আলায়হিস্ সালাম তাঁদের নিজ নিজ কবর শরীফে স্বশরীরে জীবিত।
وقد قال تعالى في الشھداء:وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُون٠(آل عمران. الایة ١٦٩) والأنبیاء أولى بذلك ، فھم أجل وأعظم ، وما نبي إلا وقد جمع مع النبوة وصف الشھادة ، فیدخلون في عموم لفظ الآیة.
📜আল্লাহ তা‘আলা শহীদগণ সম্পর্কে পবিত্র ক্বোরআনে এরশাদ করেছেন: “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে কর না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তারা জীবিকা প্রাপ্ত।
[সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৬৯]
আর নবীগণ আলায়হিস্ সালাম এ ক্ষেত্রে আরও অধিক যোগ্য ও হক্বদার। কেননা তাঁরা আলায়হিমুস্ সালাম শহীদদের থেকে অনেক বেশি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। অন্যদিকে প্রায় সব নবীর মাঝে নুবূয়তের পাশাপাশি শাহাদাতের মর্যাদা এবং গুণাবলীও বিদ্যমান। (খুব কম নবীই আছেন, যাঁরা শাহাদাত বরণ করেন নি,) সুতরাং তাঁরা এ আয়াতের ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত।
وقال القرطبي في التذكرة في حديث الصعقة نقلا عن شيخه : الموت ليس بعدم محض ، وإنما هو انتقال من حال إلى حال (۲۳ )
{٢٣. بدائع التفسیر - ج ٢ - التوبة – الفتح. أحكام القرآن لابن العربي سورة الأنفال فیھا خمس وعشرون آیة الآیة الثانیة قولھ تعالى وإذ یعدكم ﷲ إحدى الطائفتین مسألة الموت لیس بعدم محض ولا فناء صرف) }
📡ইমাম কুরত্বুবী তাঁর “আত্ তায্কিরাহ্” কিতাবে ‘অজ্ঞান হওয়া’ (সা’ক্বাহ্) সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসের আলোকে তাঁর শায়খ থেকে বর্ণনা করেন: “মৃত্যু মানে একেবারে নি:শেষ, নিশ্চিহ্ণ বা অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া নয়, বরং মৃত্যু হলো এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরিত হওয়া।"
ويدل على ذلك أن الشهداء بعد قتلهم وموتهم أحياء يرزقون فرحين مستبشرين وهذه صفة الأحياء في الدنيا ، وإذا كان هذا في الشهداء فالأنبياء أحق بذلك وأولى .
📜তাই প্রমাণ হলো- শহীদগণ তাঁদের কতল ও মৃত্যু হবার পরও তাঁরা নিজেদের রবের নিকট জীবিত, রিযিকপ্রাপ্ত, আনন্দিত ও প্রফুল্ল, যা মূলত: পৃথিবীতে যারা বেঁচে আছে তাদেরই বৈশিষ্ট্য। আর যদি শহীদগণের এ সম্মান ও অবস্থা হয়, তাহলে নবীগণ এর আরও অধিক হক্বদার ও যোগ্য।”
📲গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/groups/464146210440681?view=permalink&id=1462192110636081





0 মন্তব্যসমূহ