আ'লা হযরত রাহঃ'র প্রতি অপবাদের জবাব।পর্ব:-৪১
📚আদ্দৌলাতুল মক্কীয়্যাহ্'র অনুবাদ-
অতপর আ'লা হযরত রাহঃ খালিক আর মাখলুকের ইলমের আলোচনায় বলেন-
📝আল্লাহর পরিপূর্ণ পরিচয় লাভ কারাে পক্ষে সম্ভব নয়ঃ
আমি বলছি-যদি আমরা উক্ত সব বর্ণনা হতে দৃষ্টি বিচ্ছিন্ন করি তবুও অকাট্য প্রমাণ হওয়ার জন্য এ আয়াতই যথেষ্টঃ
(আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বস্তু পরিবেষ্টন করে আছেন)।
কেননা, আল্লাহর জাত সীমাবদ্ধ নয়, সুতরাং তাঁর সৃষ্টির কারাে পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তায়ালাকে তাঁর সত্তার ন্যায় তিনি যেভাবে সেভাবে পরিপূর্ণ পরিচয় লাভ করা। তাই এটা বলা বিশুদ্ধ হবে না। এখন আল্লাহ তায়ালার পরিচয় লাভ হয়ে গেছে, যার পরে তাঁর পরিচয়। লাভের প্রয়ােজন নেই। কারণ, যদি এমন এতাে তাহলে এ জ্ঞান আল্লাহর সত্তাকে পরিবেষ্টনকারী হয়ে যেতাে, তখন আল্লাহ তায়ালা তার পরিবেষ্টনে এসে যেতো।
- তিনি এ থেকে পবিত্র যে, তাকে কোন বস্তু পরিবেষ্টন করতে পারে। বরং তিনি সব বস্তুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন। আল্লাহর পরিচয় লাভকারী নবী, ওলী, সালিহ ও মুমিনগণের পরস্পর মর্যাদাগতভাবে যে পার্থক্য তা তাঁর পরিচয় লাভের ভিত্তিতেই।
যে যত বেশী আল্লাহর পরিচয় লাভ করেছেন, তিনি ততই নৈকট্যবান ও উচ্চ মর্যাদায় আসীন হয়েছেন। সুতরাং অনন্তকাল পর্যন্ত তাদের জ্ঞান উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পেতেই থাকবে, কিন্তু কখনাে তার জ্ঞান পরিবেষ্টনে সক্ষম ও শক্তিশালী হবেনা বরঞ্চ সীমাবদ্ধ জ্ঞানই লাভ করবে। আর সব সময় তাঁর পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে অসীমতাই অবশিষ্ট থেকে যাবে। প্রমাণিত হলাে যে, আল্লাহ তায়ালার সকল জ্ঞান পরিপূর্ণ বিস্তারিতভাবে কোন সৃষ্টির পক্ষে পরিবেষ্টন করার দাবী যুক্তি ও শরীয়ত উভয় দৃষ্টিতে অসম্ভব। বরং সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল জ্ঞান যদি একত্রিত করা হয় তাহলে জ্ঞানসমূহের সমষ্টির সাথে আল্লাহর জ্ঞানের প্রকৃতপক্ষে কোন সম্পর্কই হবে না। এমনকি একটি বৃষ্টি ফোটাকে দশ লাখ ভাগে বিভক্ত করে তার সাথে দশ লাখ সমুদ্রের যে সম্পর্ক, তাও হতে পারে না। কেননা, বৃষ্টি ফোটার এ অংশও সীমাবদ্ধ। আর সমুদ্রের পানি নিঃশেষ হয়ে যাবে, সমুদ্র শুষ্ক হয়ে যাবে। কেননা এর পানি সীমাবদ্ধ। কিন্তু অসীম হতে সসীমের যত মহান অসীম অংশের উদাহরণই নেয়া হােক না কেন, তা সর্বাবস্থায় সসীমই থাকবে। আর তাতে সব সময় অসীমতা বাকী থেকে যাবে। সুতরাং কখনাে কোন সম্পর্ক হাসিল হতে পারে না।
👉এরপর তিনি রাহঃ বলেন-
📚এ উজ্জ্বল ব্যাখ্যাসমূহ প্রত্যক্ষ করেন। এটাও বারংবার এ অধ্যায়ে এসেছে যে, মাখলুকের জ্ঞান অসীম কর্মকে পরিবেষ্টন করতে পারে না। এখন প্রতারকদের প্রতারণার পরিমাণ অনুমান করুন, যারা আমার বিরুদ্ধে এ উক্তির অপবাদ রটিয়েছে যে, সৃষ্টির জ্ঞান অসীম জ্ঞানসমুহ পরিবেষ্টনকারী, সুতরাং যে সৃষ্টির জন্য অসীম কর্মের মধ্য থেকে একটি - জ্ঞান অর্জিত হওয়াকেও সুস্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা খন্ডন করেছে সে কিভাবে সকল অসীম। কর্মসমূহ পরিবেষ্টনের উক্তি করবে?
💥হায়রে আফসােস! যদি তারা এ কথা বলতাে যে, আমার পুস্তিকায় নেই তাহলে এ মাসয়ালার 'অস্বীকৃতির জন্য প্রতিবাদ হতাে স্বীকৃতির জন্য নয়। সুতরাং ঐ সময় এর সম্পর্ক যদি হতাে, তাহলে শুধু অপবাদই হতাে। কিন্তু আমিতাে বেশ কয়েক স্থানে এর নিষেধ সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। সুতরাং আমার দিকে এর সম্পর্ক করা অপবাদ, হটকারিতা, একগুয়েমী ও কঠোর শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই যে, এগুলাে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী ওহাবীদের কারসাজী। কেননা, তারাতাে এ ধরণের অনেক অপবাদ রটনায় অভ্যস্ত এবং এটাই তাদের উত্তম পুঁজি। সুতরাং এ পুস্তিকা সৃষ্টির জ্ঞান কর্মের সাথে অসীম হওয়ার পরিবেষ্টন সম্পর্কে যে বক্তব্য প্রদান করেছে এর স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। আর এটা দূর থেকে আহবান এবং তার ঐ অভিযােগের খন্ডন যা সে কল্পনা করেছে। বরং যার চিন্তা-ভাবনা সে নিজেই করেছে। আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।
👁🗨 আশ্চর্য এ থেকে, যে এটা শুনেছে। অতঃপর রাসূলে পাক (ﷺ)-এর জ্ঞান_হাস করার জন্য হাদীসে শাফায়াত দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছে--“অতঃপর আমি মাথা উত্তোলন করবাে এবং স্বীয় প্রতিপালকের হামদ ও গুণকীর্তন এমন প্রশংসা ও স্তুতিবন্ধনা দ্বারা করবাে, যদ্বারা আমার প্রতিপালক আমাকে অবগত করাবেন।” অতঃপর (১৬ পৃঃ) বলেন-“এটা প্রমাণিত যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে তাই জ্ঞাত করবেন, যার জ্ঞান তাঁর নিকট ইতােপূর্বে ছিলােনা। আর এটা উপরােক্ত বেষ্টনীকে বাতিল করে দেয়।
💫আল্লাহর উপর এধরণেরই আমাদের ঈমান। এদিকেই হযরত খিজির (আঃ) এক বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন, যা তিনি হযরত মুসা (আঃ) কে বলেছিলেন, যে সময় পাখী সমুদ্র থেকে ঠোট ভরে এক বিন্দু পানি নিয়েছিলাে। যা হােক এ প্রকার জ্ঞান আল্লাহর জন্যই খাস্।
💢বাকী রইলাে অন্য তিন প্রকার, অর্থাৎ ইলমে মুতলাক ইজমালী (জ্ঞানের শর্তহীন সামগ্রিকতা) মুতলাক ইলমে
সে নিশ্চয়ই পূর্বে আমার এ উক্তি শ্রবণ করেছে যে, আল্লাহ তায়ালার জাত সীমাহীন, তাঁর সিফাত (গুণাবলী) অসীম এবং তাঁর প্রত্যেক গুণও অসীম। সুতরাং অসীম কর্মের সাথে মাখলুকের জ্ঞানের নিঃসন্দেহে কোন সম্পর্কই নেই। অতএব, রাসূলে পাক (ﷺ) পরকালে আল্লাহ তায়ালার অন্য সিফাত সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া যাঁর জ্ঞান ইতিপূর্বে ছিলােনা, উল্লেখিত বেষ্টনীতে কি তিরস্কার হতে পারে? অতএব, তার এ উত্থাপিত আপত্তির জবাব এটাই দেয়া হলাে, যদি তােমার উদ্দেশ্য এই হয় যে, তিনি সে সময় এমন কালাম দ্বারা বাক্যালাপ করবেন যা আল্লাহ তায়ালার জাত ও তাঁর মুল সিফাতের প্রমাণ বহন করে তাহলে এটা বিশুদ্ধ নয় এবং এতে অহেতুক দীর্ঘালাপই করেছেন মাত্র। এটাতাে প্রমাণিত মাসয়ালা। এর ব্যাখ্যা আমি পূর্বে করেছি। আর এর দ্বারা তােমার উদ্দেশ্য যদি অন্যকিছু হয়, তাহলে উপরােক্ত বেষ্টনী বাতুলতা প্রমাণিত হয়ে যায়।
👀সুতরাং দেখুন ঐ ব্যক্তিকে, যার ধারণা যে, আল্লাহ তায়ালা স্বীয় সকল গুণাবলীর সাথে - যা প্রথম দিন থেকে সংঘটিত হয়েছে, আর-যা শেষ দিবস পর্যন্ত হতে থাকবে, এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত, সীমাবদ্ধ এবং লাওহ-ই মাহফুজে লিপিবদ্ধ রয়েছেন। আর এর বহির্ভূত জাত ও সিফাতের মৌলিকতা মাত্র। সুতরাং যখন নবীয়ে করীম (ﷺ) তাঁর হলাে জাত ও সিফাত সম্পর্কিত কোন নতুন জ্ঞান পরকালে পান, যে সম্পর্কে তিনি দুনিয়াতে জানতেন না; তাহলে তা দু’অবস্থা থেকে মুক্ত নয়। হয়তঃ তিনি আল্লাহ তায়ালার জাত ও সিফাতের রহস্য সম্পর্কে জানলেন। কেননা, তা ‘লাওহ-ই মাহফুজের বহির্ভূত অথবা তার জ্ঞান দুনিয়াতে ঐ বস্তুসমূহ পরিবেষ্টনকারী ছিলাে না, যা লাওহ-ই মাহফুজে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আর সে এটা জ্ঞাত হয় নি যে, লাওহে সীমাবদ্ধ জ্ঞান সসীম, আর জাত ও সিফাতের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞান অসীম। তাতে আম্বিয়ায়ে কিরামের জ্ঞানসমূহ অনন্তকাল পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে থাকবে। আর তাঁদের কখনাে কোন অবস্থাতেই সসীম ছাড়া অসীমের জ্ঞান হাসিল হবে না। আর অসীম কখনাে সসীম হবে। সুতরাং যে সব বিষয় থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়তার কোনটিই আবশ্যক হয়নি এবং অবােধ্যতার দরুণ চোখের উপর পর্দাই পড়েছে। আল্লাহর কাছে উভয় জাহানের নিরাপত্তা কামনা করি।
🌴ইজমালী (সামগ্রিক শর্তহীন জ্ঞান) এবং ৮ তাফসীলী (বিস্তারিত জ্ঞান) এগুলাে আল্লাহর সাথে খাস নয়। বরং যদি আমরা সামগ্রিক জ্ঞানকে বস্তুহীন শর্তের ভিত্তিতে ধরে নিই অর্থাৎ যেখানে একটি বিষয়ের জ্ঞান অন্য বিষয় থেকে সম্পূর্ণ স্বাতন্ত্র হবে না, তখন ইজমালি জ্ঞানের উভয় প্রকার আল্লাহ তায়ালার জন্য অসম্ভব হবে এবং বান্দাদের সাথেই খাস হওয়া অপরিহার্য হয়ে যাবে।' ‘সামগ্রিক শর্তহীন জ্ঞান বান্দাদের জন্য অর্জিত হওয়া যুক্তিগত ও দ্বীনের প্রয়ােজনাদির অন্তর্ভুক্ত। এ জন্য যে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি (আল্লাহ প্রত্যেক বস্তু সম্পর্কে জ্ঞাত) প্রত্যেক বস্তু সম্পর্কে জ্ঞাতি বলতে আমরা আল্লাহর সকল জ্ঞানই বুঝেছি এবং তা সবই সামগ্রিকভাবেই জেনে। নিয়েছি। সুতরাং যে নিজের বেলায় তা অস্বীকার করেছে সে ঈমান এবং এ আয়াতকেই অস্বীকার করেছে এবং স্বয়ং নিজের কুফরকেই মেনে নিয়েছে। আল্লাহর কাছে পানাহ্। "
🍇আদ্দৌলাতুল মক্কীয়্যাহ্ থেকে এত বিষদ আলোচনা উপস্থাপনের মূল মাকসাদ হলো যাতে ওনার ঐদুটি কথা যা যথাক্রমে ফাতাওয়ায়ে রযভিয়ার ২৭ও ২৯তম খন্ডের বরাতে সমাচার নামক সিরিয়াল আপলোডকারী লোক অভিযোগের তীর ছোড়ার অপচেষ্টা চালিয়ে একটিকে অপরটির স্ববিরোধী হওয়ার প্রচারণা চালিয়েছে।
🍄এপর্যন্ত উদ্ধৃত করার পর একথা জানা হয়ে গেলো যে, আল্লাহ্ পাকের কাছে যে প্রতিটি জররার ইলম রয়েছে,এটার মূল মাকসাদ, এবং নবীরﷺ জররার ইলম রয়েছে এতদূভয়ের পার্থক্য কি!আদ্দৌলাতুল মক্কীয়্যাহ্'র বিষয়বস্তুর আরেকটি বিষদ বিবরণ সম্বলিত কিতাব হলো খালিসুল ই'তিকাদ।সুতরাং যারা এদুটি কিতাব অধ্যায়ন করে নেবেন তারাই ফিতনা থেকে বেচে যাবেন।কিতাবদ্বয়ে স্রষ্টা এবং সৃষ্টির ইলমের পার্থক্য এবং উভয়ের ইলমের অসীমতা এবং সসীমতাকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে অন্তর একবার সেটায় লুটিয়ে পড়লে কল্যাণের আলোকধারা তিনি পেয়ে গেলেন,আর ফিতনাকারীর ফিতনাকে অতি উত্তম পদ্ধতিতে তিনি পরাজিত করলেন।
আমি কুরআনী,এবং এর তাফসীরী দালায়েলগুলো আগেই তুলে ধরেছি,এরপর গত পর্ব থেকে আ'লা হযরতের আদ্দৌলাতুল মক্কীয়্যাহ্ কিতাব থেকে শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার উদ্ধৃতি পেশ করে এসেছি।সুতরাং খালিকের জন্য জররা এবং মাখলুকের জন্য জররা;উভয় জররার পরিপূর্ণ একটা আলোচনা আমরা পেয়ে গেলাম।অতপর বুঝে নিলাম ইলমধারীর ইলমি সমালোচনা আর ইলমহীন হিংসুকের প্রচারণা কোনটা কল্যাণ আর অকল্যাণ!
👁আগের আলোচনায় আবার ফিরে আসলাম:-
👘এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো হাদীসে পিছন থেকেও দেখতে পাওয়ার বিষয়টার ভিন্ন ব্যাখ্যা কেনো দেয়া হবে?কোনো হাদীসের মুতলাক বিষয়বস্তুকে মুকাইয়্যাদ করতে হলে তার জন্য উপযুক্ত কারণ উপস্থিত থাকা জরুরী।যদি কোনো কুরআনী নস কিংবা হাদীসের নস ওক্ত বিষয়বস্তুর বিপরীত হয়,এবং এটার মুতলাক হুকুমও প্রয়োগ করার সুযোগ থাকেনা তখনই আসে ভিন্ন ব্যাখ্যার প্রসঙ্গ।যাতে বৈপরীত্য দূরীভূত হয়ে যায়।কিন্তু দেয়ালের পিছনের ইলমকে নফী করে হাদীস বলে যা বর্ণিত হয়েছে তার দ্বারা সহীহ হাদীস এবং কুরআনী নুসুসকে পরিত্যাগ করার কি কারণ?
ওক্ত কথাটির কি কোনো সনদ আছে?কারো যদি সনদ জানা থাকে তাহলে উপস্থাপন করা হোক উপযুক্ত প্রমাণ সহকারে।
তাদের মূল পূজি ইমাম সাখাভীর রাহঃ আল-মাকাসিদুল হাসানাহ্।কিন্তু মাকাসিদে ইমাম সাখাভী রাহঃ ৯৩৪নং হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন কিন্তু তিনি ওনার শায়খ ইবনে হাজার রাহঃ'র মত দিয়েই শুরু করেছেন।সেখানে দেখা যাচ্ছে ইমাম ইবনে হাজার রাহঃ বলছেন এর কোনো ভিত্তি নেই।এবং এটাও উল্লেখ করা হলো যে,ইবনে হাজার তালখিস কিতাবে বলেছেন,রাসুলﷺ সামনে পিছনে সমান দেখেন।বুখারী-মুসলিম সহ অন্যান্য হাদীসের মোকাবিলায় এটাতো কোনো দলিল হতেই পারেনা।
🌋একই ভাবে ইমাম আযলুনী রাহঃ ও এটাকে ওনার কাশফুল খাফায় ২১৭৫নং হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে হাজারের মতামতই উল্লেখ করেছেন।কিন্তু দুই মুসান্নিফ এটাকে বর্জন কিংবা গ্রহণ কোনোটাই করেননি।কেউ এটার কোনো সনদও উল্লেখ করেননি,কোনো কিতাবের সূত্রও উল্লেখ করেননি।উভয় কিতাবের পুরো ইবারত পড়ার পর আমার যতটুকু বুঝে এসেছে ওনারা সরাসরি গ্রহণ কিংবা বাতিল না করলেও যা উল্লেখ করেছেন তা নেতিবাচক।অবশ্য যদি আমার বুঝার কোনো ভূল নাথাকে।কারো যদি ভিন্ন কিছু বুঝে আসে তাহলে জানিয়ে দিয়ে উপকার করবেন।
🔯এছাড়াও আল্লামা মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহঃ পরিস্কার বলে দিয়েছেন এটা ভিত্তিহীন।তবে উপরোক্ত দু'কিতাবসহ যেখানে এসেছে পিছনে দেখাটা নামাযের সাথে খাস।সেটাও ওনি বাতিল করে দিয়েছেন।এবং বলেছেন এটা নামাযে নির্দিষ্ট নয়,এবং শুধু হুযুরের জাহেরী হায়াতের সাথেও নির্দিষ্ট নয়।বরং সর্বাবস্থায় তিনি সামনে কিংবা পিছনে,অন্ধকারে বা আলোতে সমান দেখেন।যা আগের পর্বে উল্লেখ করেছি।
🌈ইতোমধ্যে কুরআনী দালায়েল গুলো,যাতে এসেছে গায়বের ইলম খোদা ভিন্ন অন্যকারো নেই,তার দ্বারা কেমন ইলম বুঝানো উদ্দেশ্য তা আলোচিত হয়েছে।সেখান থেকে এটাও পরিস্কার হয়ে গিয়েছে আ'লা জররার ইলম কারো জন্য সাব্যস্ত করলে অকাট্য কুফর হওয়ার কথা কিসের উপর বলেছেন!
এবং আদ্দৌলাতুল মক্কীয়্যাহ্'র উদ্ধৃতির দ্বারা হুযুরেরﷺ জররার ইলমও সাবেত হয়ে গেল।
⭐আবারো মক্কীয়্যাহ্ থেকে উদ্ধৃতি
📘পূর্বাপর সব বস্তুর জ্ঞান রাসূলে পাক (ﷺ) -এর জ্ঞানের কিয়দাংশ মাত্র।
আর আমরা সত্যপন্থী (আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা) জানি, আদিকাল থেকে যা সংঘটিত হয়েছে এবং অনন্তকাল পর্যন্ত যা সংঘটিত হবে এর বিস্তারিত বর্ণনা
যা আমি উল্লেখ করেছি, তা আমাদের প্রিয় নবী (ﷺ) -এর জ্ঞানের সম্মুখে নিতান্ত নগণ্যই। আল্লাহ তায়ালার এ আয়াতই এর পক্ষে দলীল।
তিনি ইরশাদ করেন,
علمك ما لكن تعلم-وكان فضل الله.
“তিনি আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা কিছু আপনি জানতেন না, আপনার উপর আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।”
📜আমি বলবাে-এ আয়াতে কারীমার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় হাবীব (ﷺ) -এর উপর ইহসান করেছেন যে, যা কিছু তিনি জানতেন না, আল্লাহ তা তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। আর এ ইহসান প্রদর্শনকে (১) এমন কথা দ্বারা সমাপ্তি . করেছেন যা এ মহা অনুগ্রহের মর্যাদা এবং মহান নি’মাতের মহত্বের প্রমাণ বহন করে।
মুহাম্মদ (ﷺ) -এর উপর আল্লাহর এ অনুগ্রহ, এ মহান নিমাতের মর্যাদার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ যে, প্রকৃতপক্ষে কোন বাদশাহ স্বীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মর্যাদাময় বস্তু দ্বারা ব্যতীত অনুগ্রহ করে না। তাহলে শাহেনশাহে কায়েনাত (রাব্বল আলামীন) কিভাবে তাঁর মহান, সম্মানিত, মর্যাদাময় ও স্বীয় প্রধান খলিফা (মুহাম্মদ (ﷺ) )-এর প্রতি কি ধরনের অনুগ্রহ করবেন? অতঃপর তা কেমন হবে যখন স্বীয় ইহসান ও অনুগ্রহরাজি এমন ব্যক্তির দ্বারা সমাপ্ত করবেন যা তাঁর মহানত্ব প্রকাশের সুস্পষ্ট প্রমাণ হয়?
ইরশাদ করেছেন,
وكان الله عليك عظيما.
“তােমাদের উপর আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে”।
🔎জেনে রাখুন যে, (পূর্বাপর প্রত্যেক কিছুর জ্ঞান) উল্লেখিত মর্মার্থ সহকারে যার প্রতিটি একক পরিপূর্ণ ও বিস্তারিতভাবে ‘লাওহ-ই মাহফুজে বর্তমান রয়েছে। কেননা, আখিরাততাে কিয়ামতের পরেই সংঘটিত হবে। আর দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের বহির্ভূত হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার পবিত্র জাত ও গুণাবলীসমূহ, যা না ‘লাওহ-ই মাহফুজে রক্ষিত, না কলমে। আর আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, “আপনি বলুন, দুনিয়ার পুঁজি নিতান্তই নগণ্য।”
🗳সুতরাং যা আল্লাহ তায়ালা অতি নগণ্য বলেছেন, তা সে মহান সত্ত্বার সাথে কিভাবে সম্পর্ক রাখবে? যাকে আল্লাহ মহান বলেছেন এবং যার শান ও মাহাত্ম্য বৃদ্ধি করেছেন, সাথে সাথে তাঁর (হুজুর সৈয়দ আলম (ﷺ) ) জ্ঞানকে অনন্তকালের পরের বস্তুসমূহ পর্যন্তও বৃদ্ধি করেছেন। যেমন-হাশর, নশর, হিসাব নিকাশ এবং তথায় যে পূণ্য ও শাস্তি রয়েছে। এর বিস্তারিত এতটুকু পর্যন্ত যে, লােকেরা জান্নাত ও জাহান্নামে নিজ নিজ ঠিকানায় পৌছা এবং এর পরের অনেক | কথা যতটুকু আল্লাহ তায়ালা বলতে ইচ্ছে (সব বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ্ তায়ালা হুজুর (ﷺ) কে অবগত করেছেন) আর হুজুর সৈয়দে আলম (ﷺ) নিশ্চয়ই জাত ও গুণাবলী সম্পর্কে ততটুকু জেনে নিয়েছেন। যার পরিমাণ সে মহান আল্লাহই অবগত আছেন যিনি তাঁর এ পুরস্কার স্বীয় মুস্তফা (ﷺ) (নির্বাচিত রাসুল)কে দান করেছেন। সুতরাং প্রমাণিত হলাে যে, সকল ভবিষ্যত ও অতীতের জ্ঞান যা ‘লওহ-ই মাহফুজে লিপিবদ্ধ রয়েছে তা হুজুর (ﷺ) -এর জ্ঞানের একটি ছােট অংশমাত্র। তাঁর জন্য তা অনেক বেশী নয় যে, তা হাসিল হওয়া অসম্ভব হবে।
এ কারণে (১) যমানার ইমাম আল্লামা বুসীরী (رحمه الله تعالي) (আল্লাহ তায়ালা তাঁর বরকতের দ্বারা আমাদের উপকারিতা দান করুন) হুজুরে সৈয়দে আলম (ﷺ) এর কাছে আরজ করেছেন, “আপনার বদান্যতার সম্মুখে দুনিয়া ও এর বস্তুসমূহ। একাংশ, আপনার জ্ঞানের সম্মুখে লওহ ও কলমের জ্ঞান এক টুকরা।”
📁এবং শীর্ষ স্থানীয় আলিম, বাহরুল উলুম, আবুল আয়াশ আবদুল আলী মুহাম্মদ লকনবী (رضى الله تعالي عنه) হাশিয়া শরহে মীর জাহিদ লিরিসালাতিল কুতুবিয়াহ’ গ্রন্থের খােতবায় ‘তাসার ও তাসদীক-এর বর্ণনায় রাসুলে সৈয়দে আলম (ﷺ) -এর প্রশংসা এভাবেই করেছেন-যার বক্তব্য-“তাঁকে কতেক এমন জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হয়েছে যা শ্রেষ্ঠতম কলম পরিবেষ্টন করতে পারে নি। আর লওহে আওফিও তা পরিবেষ্টন করতে সক্ষম নয়, আর কাল প্রথম দিবস থেকে এমনি না সৃষ্টি করতে পেরেছে, না শেষ দিবস পর্যন্ত এমনি সৃষ্টি হবে। সুতরাং আসমান ও জমীনে এর কোন জোড়া নেই।
📂এখানে ইমাম (رضى الله تعالي عنه) (মিন) উল্লেখ করেছেন, যদ্বারা আংশিকই বুঝায় এবং প্রত্যেক রােগা অন্তরে ক্লেশ ও ক্রোদের পাহাড় নিক্ষেপ করে। তাদের বলুন যে, তােমরা স্বীয় ক্রোধে মৃত্যু বরণ করাে! আল্লাহ্ তায়ালা হৃদয়ের কথা ভাল করেই জানেন ।
📥আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী (رحمه الله تعالي) “জুবদাহ শরহে বুরদাহ' গ্রন্থে এক পংক্তির ব্যাখ্যায় বলেন, এর মর্মার্থ হলাে ‘লাওহের জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য সে পবিত্র নকশা ও অদৃশ্য আকৃতিসমূহ যা তাতে প্রমাণ করা হয়েছে। আর কলমের জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ জ্ঞান যা আল্লাহ তায়ালা যেভাবে ইচ্ছে তাতে গচ্ছিত রেখেছেন। আর এ সংযােগ নগণ্য সম্বন্ধের কারণেই। আর লওহ ও কলমের জ্ঞান হুজুরে সৈয়দে আলম (ﷺ) -এর জ্ঞানের একাংশ হওয়ার কারণ এ যে, তার জ্ঞানের অনেক শ্রেণী বিভাগ রয়েছে। (সম্পূর্ণ-পরিপূর্ণ) (খন্ডিত) (মূলতাত্বিক) (সূক্ষ্ম ও রহস্যাবৃত) (জ্ঞান-বিজ্ঞান) যা আল্লাহ তায়ালার জাত ও সিফাতের সাথে সম্পর্কিত। লওহ ও কলমের জ্ঞান রাসুলে পাক (ﷺ) -এর লিপিবদ্ধ জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এক পংক্তি এবং হুজুরের জ্ঞানের সমুদ্রসমূহ থেকে একটি নহর (স্রোতধারা)। এতদসঙ্গে এর জ্ঞানতাে হুজুর (ﷺ) এর বরকতময় অস্তিত্বের মাধ্যমেই।
সুতরাং এখন সত্য উদ্ভাসিত হয়েছে, আর মিথ্যা দূরিভূত হয়েছে। এখানে বাতিলেরা ক্ষতিতেই রয়েছে। (সকল প্রশংসা সমগ্র জাহানের প্রতিপালকের নিমিত্তে)।
👙গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/groups/859141864513661?view=permalink&id=988167598277753

0 মন্তব্যসমূহ