🆚আ'লা হযরত রাহঃ'র উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৪৮
🔺আউযু বিরাব্বিন্নাস মিনাল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস!
🚦আইনুল নামক এক গিরগিটি দীর্ঘদিন অনলাইনে আ'লা হযরত ইমাম শাহ্ আহমদ রেযা বেরলভী রাহঃ এবং ওনার মাসলাকের অনুসারীদ উলামাদের নিয়ে শয়তানী যাত্রাপালার ভিডিও লাইভ শো করে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে।আমি এবং অন্যান্য সম্মানিত হযরতগণ তার এসব বোয়াদবীর জবাব দিয়ে আসছিলেন।
বিশেষ করে আমি নিজ অবস্থান থেকে তার এসব বেয়াদবী আর ইতরামীর জবাব দিয়ে আসছিলাম।তার আইডি এবং পেইজে আমি তার মিথ্যাচারের খন্ডনে কমেন্টবক্সে লিখতে থাকি।সে আমার প্রদত্ত দলিলাদীর জবাব দিতে পারেনি কখনই।
👀সম্প্রতি সে সরাসরি আমাকে উদ্দেশ্য করে এক যাত্রাপলার অশ্লিল লাইভ ভিডিও শো আপলোড করে।সে ঐভিডিওতে আমাকে কিছু শোনাতে গিয়ে আবারও সেই পুরোনো বেয়াদবী উপস্থাপন করে।ঐসব পুরোনো মিথ্যাচার,যার জবাব আমি ইতোমধ্যে একাধিকবার দিয়েছি।সে
আবারও ইমাম শা'রানী রাহঃ কে যেনার অপবাদ দিয়েছে এবং যেনার কাজের নির্দেশ দাতা সাব্যস্ত করেছে সাহিবে মাযার সৈয়দ আহমদ আল বদভী রাহঃকে! যিনি ইমাম শা'রানীর আরো ৩৫০বছর আগে ওফাত পেয়ে গেছেন।
সে বার বার আ'লা হযরতকে এই ঘটনায় অপবাদ আরোপের চেষ্টা চালায়।অথচ আ'লা হযরত এটা কোথাও লিখেননি বা বলেননি।বরং ওনার সাহিবযাদা রাহঃ এটা উল্লেখ করেছেন।তাও আবার ঘটনাটি খোদ ইমাম শা'রানী নিজেই নিজ কিতাব তাবকাতুল কুবরায় লিখেছেন।
📼ঐ অশ্লিল ভিডিওতে সে আবারো হায়াতে আ'লা হযরতে বর্ণিত একটি হাদীস যা চিকিৎসা বিষয়ক একটি হাদীস!তা নিয়ে আবারও আমাকে শোনালো, এবং আ'লা হযরতের উপর অপবাদ দিয়ে দাবী করেছে যে,এর দ্বারা নবীর শানে গোস্তাখী করা হয়েছে।অথচ এবিষয়ে তার একাধিক অশ্লিল ভিডিওর খন্ডনে আমি একাধিকবার লিখেছি।
আসলে হায়াতে আ'লা হযরত ওনার লিখিত কোনো কিতাব নয়,বরং ওনার ছাত্র এবং খলিফা মালাকুল উলামা আল্লামা জুফর উদ্দীন বিহারী রাহঃ লিখিত একটি জীবনীগ্রন্থ! সেখানেই হাদীসটি আনা হয়েছে,কিন্তু কোনো আরবী এবারত দেয়া হয়নি,তাই লেড়কি বলতে প্রাপ্ত বয়স্ক নাকি অপ্রাপ্ত বয়স্ক বুঝায় তা পরিস্কার নয়!যদি শিশু সন্তান হয়,তাহলেতো এটা একেবারেই পরিস্কার!এতে আপত্তিরতো প্রশ্নই উঠেনা,আবার যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে থাকে,তাহলেও আপত্তি তোলার আগে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবা উচিৎ!
🔰ফিরোজুল্লুগাতের ১১৫৪পৃষ্ঠায় "লেড়কি" শব্দের যেসব অর্থ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে দুটি অর্থ হলো- 1⃣"কম উমর" অল্প বয়স্কা, 2⃣"না সমজ" অবুঝ!
এদুটি অর্থের উপর যদি লেড়কি শব্দকে প্রয়োগ করা হয়,তাহলে এখানে আপত্তিকারীতো সে,যে-عُتُلٍّۭ بَعۡدَ ذٰلِکَ زَنِیۡمٍ ﴿ۙ۱۳﴾
☣সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো- আমি নাকি কিছু শুনতে চাই,তাই এরকম কমেন্ট করেছি!আসলে বেয়াদব সব সময় নিজের উপরই অন্যকে কিয়াস করে।আমি যতগুলো হাদীসের কিতাবের নাম জানি,সে তার তিনভাগের একভাগের নামও জানে বলে মনে হয়না।তবুও আরো কত অগণিত কিতাব অজানা তা বলা মুশকিল!সে কয়েকটা কিতাবের পাতা পেয়েই এমন লাফালাফি করে,মনে হয় দুনিয়ার সব হাদীস সে জেনে ফেলেছে!
📥আবার একটি হাদীস অনেক কিতাবে এসেছে।উম্মে যাফার সংক্রান্ত, যার বুকে আঘাত করার কথা এসেছে।কিন্তু কেউ এটাকে জাল বলেননি,বরং শুধু সনদ মুরসাল!কিন্তু এই কাজ্জাব এটাকে বলেছে ফাযেলে বেরলভীর স্বরচিত!আবার বলেছে জাল!😎
📦আবার এটা আহকাম সম্পর্কিতও নয় যে, জায়েয-নাজায়েযের প্রশ্ন আসবে।হাদীসটি আমি আনিসুসসারীর ৩৮৮৯পৃষ্টা থেকে তুলে ধরলাম।এটা আমি আগেও উপস্থাপন করেছি।
ইমাম ইবনে হাজার ফতহুল বারীতে উল্লেখ করার সময় কি নবীর শানে বেয়াদবী হবে এটা বুঝেননি?ইমাম আইনি উমদাতুল কারীতে উল্লেখ করেছেন, তিনিও কি আদব আর বেয়াদবী কোনটা বুঝেননি?হাদীসটি ইমাম আব্দুর রাজ্জাকের আল-ইস্তিয়াব থেকে বর্ণনা করা হয়েছে,তিনিও কি আদব আর বেয়াদবীর পার্থক্য বুঝেননি?শুধুমাত্র আইনুল কাজ্জাবই এটা বুঝেছে?🤔
🗒আর হায়াতে আ'লা হযরতে বর্ণিত হাদীসটি যদি পুরোপুরী এটার সাথে নাও মিলে,তথাপিও শাওয়াহেদতো পাওয়া গেলো,যে বুকে আঘাত করা হয়েছে।আর বুক বলতে কন্ঠনালীর পর থেকে একেবারে নাভীর উপরে পর্যন্ত ধরা হয়!
📇আর মুসনাদে আহমদের যে হাদীসে ছেলের কথা এসেছে, আর হায়াতে আ'লা হযরতে লেড়কীর কথা বলা হয়েছে,সেটি আমি এখনও পরিস্কার জানতে না পারলেও এটা বলা সম্ভব নয় যে,এটা একই!বরং দু'টো ভিন্ন রেওয়ায়াত হওয়াটা সম্ভব!কারণ একজন ইমাম আহমদ রেযা ইলমের মহাসমুদ্র! অন্যজন সে মহাসমুদ্র থেকে মুক্তা আহরণকারী।আইনুল কাজ্জাবের মতো কারো থেকে দু'এক পৃষ্ঠা ডেলিভারী পাওয়া লোক নন।
🗑সে আমাকে ভেল্কি দেখানোর চেষ্টা চালালো এই বলে "আবার যদি শুরু করি......."!আসলে সে কি করতে পারে তা আমরা অনেক আগেই বুঝে গেছি,কিন্তু তার গোড়া নিয়ে যদি আমি আবার শুরু করি,মুখ লুকোনোর জায়গা থাকবেনা।তাদের পীর সৈয়দ আহমদ রায় বেরলভী যেনাকারিনী পতিতা নারীর ঘরে দাওয়াত খেয়েছে,যেনার কাজে পাওয়া টাকা হাদীয়া হিসেবে নিয়েছে।এরকম অনেক যেনাকারিনী পতিতার ঘরে দাওয়াত খাওয়ার দলিল আমাদের কাছে মওজুদ আছে,তাও তাদেরই লিখিত কিতাব থেকে।
📕আপাতত আল্লামা ফযলে রাসুল বদায়ূনী রাহঃ'র সায়ফুল জব্বার কিতাবের ৭২-৭৩পৃ.যেনাকারিনী নারীর দাওয়াত গ্রহণ,তার যেনার কর্মে পাওয়া টাকা হাদীয়া নেয়ার প্রমাণ দেখুন।
সুতরাং যারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে পীরগিরী করে পেটের ধান্ধা করেছে,মানুষকে ধোকা দিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে,বৃটিশের পক্ষে ফতোয়া দিয়েছে তারা আবার অন্যের দিকে মিথ্যা তোহমত দিয়ে আঙ্গুল কিকরে তোলে?
সৈয়দ আহমদকে বৃটিশরাই সীমান্তে পাঠিয়েছে গুপ্তচর বানিয়ে,বৃটিশরা তাকে খাদ্য দিয়েছে,হুন্ডির টাকা পাইয়ে দিয়েছে!
🏮আর এরা উল্টো বলছে আ'লা হযরত নাকি বৃটিশের পক্ষে ছিলেন!হিন্দুস্তানকে দারুল ইসলাম বলেছেন!
দারুল ইসলামতো তাদের গুরুর খলিফা কারামত আলী জৌনপুরীও বলেছে,সেবিষয়ে সে কিছু বলেনা কখনই।এছাড়াও আরো অনেকে দারুল ইসলাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন।এমনকি তার জাত ভাই দেওবন্দীগুরুরাও দারুল ইসলাম ফতোয়া দিয়েছে,যাদেরকে কুফুরীর ফতোয়া থেকে বাচানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল ৫ই ডিসেম্বর সে তথাকথিত উলামা সংলাপের আয়োজন করেছে!আর দারুল হরব নাকি দারুল ইসলাম সেটা তার গোবরে মস্তিষ্কে ঢুকবে কিভাবে,তারতো শিক্ষাগত যোগ্যতা স্রেফ আলিম পর্যন্ত পড়া?
🐑ছাগল দিয়ে জমি চাষ করা গেলে যেমন গরুর প্রয়োজন থাকতোনা,তেমনি মার্কিন মুল্লুকে অবস্থানকারী মেথর দিয়ে হাদীস বিশ্লেষণ করা সম্ভব হলেতো আর এত এত পরিশ্রম করে লেখা পড়া শিখে মুহাদ্দিস হওয়ার প্রয়োজন নেই।
আজকের আলোচনা এতটুকুতে শেষ করলাম।ইনশাআল্লাহ্! আগামীতে আরো আলোচনার আশা রাখি।আল্লাহ্ তাওফিক দাতা!
🔃গতপর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/groups/sunnishongramoikkaparishad/permalink/1498570296998262/


0 মন্তব্যসমূহ