Ticker

6/recent/ticker-posts

আ'লা হযরতের প্রতি অপবাদের জবাব।পর্ব-৪৫


 আ'লা হযরতের প্রতি অপবাদের জবাব।পর্ব-৪৫

দেওবন্দী ওহাবীরা আ'লা হযরতের হাতে যখন নাঙ্গা হয়ে গেলো,তখন তারা চতর বাচানোর চিন্তা বাদ দিয়ে বরং আ'লা হযরতের শানে আক্রমন করার কাজে নেমে পড়ে।এটা করতে গিয়ে তারা এতোটাই উলঙ্গ হয়ে পড়ে,আ'লা হযরত নিজেও তাদের এতোটা উলঙ্গপনা ভাবেননি!

ওরা যখন দেখলো,তাদের সমস্ত জারীজুরী ইমাম আহমদ রেযা বেরলভী রাহঃ ফাস করে দিয়েছেন,তাদের মুখোশটা লুকোনোর শেষ অবলম্বনও আর অবশিষ্ট রইলোনা,তখন তারা ওনার কিতাবের নামে,ওনার নামে এমন সব আজগুবি কাহিনী তৈরী করলো,যা শুনে যে কোনো মানুষ প্রথম ধাক্কাতেই কুপোকাত হয়ে পড়বে।এরপর সে টাল সামলে স্থীর হতে যতটুকু জ্ঞান থাকা দরকার তা না থাকলে পা পিছলানো নিশ্চিত।

কিন্তু এতেও তাদের শেষ রক্ষা হলোনা।তারা ওনার নামে যেসব গল্প বানিয়ে বই আকারে ছাপিয়ে প্রচার করেছে,সেটাই আবার গলার ফাস হয়ে গেছে।কারণ তারা ইমাম আহমদ রেযার কিতাবের নামে যা কিছু ছাপিয়েছে,বাস্তবে যখন ইমাম আহমদ রেযার কিতাব খুলে তার সত্যতা পাওয়া গেলোনা,তখন তাদের পরনোর অবশিষ্ট পোষাকটাও খসে পড়লো,আর তারা পুরোপুরি উলঙ্গ হয়ে পড়লো।


দীর্ঘদিন তারা একই চেষ্টাতে রয়ে গেলো,কিন্তু তা তাদের উলঙ্গপনা বৃদ্ধি করা ছাড়া তাদের আর কিছু অর্জন সম্ভব না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেওবন্দী ওহাবীদের আরেক শাখা বালাকোটি ওহাবীরা তাদের জাত ভাইদের পদাঙ্ক অনুসরন করে নেমে পড়ে সেই পুরোনো দেওবন্দী ওহাবীদের বানানো গল্পকে নতুন লেবেলে বাজারজাত করার কাজে।বালাকোটি ওহাবীরা একটা মুখোশ পরে বহু যুগ থেকে সরলপ্রাণ মুসলমানদের ধোকা দিয়ে আসছিলো।সুন্নিয়তের সেই মুখোশটা কখনও কখনও আলগা হয়ে দু'একটা চরিত্র প্রকাশিত হয়ে গেলেও তা অনেকে তেমন খেয়াল করেননি!কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সেটাও আর বেশিদিন ঢেকে রাখা সম্ভব হলোনা।

তারা তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাদের আসল জাত ভাই দেওবন্দী ওহাবীদের বানালো গল্পকে নতুন মোড়কে যেই বাজারজাত করলো,এবং লাইভ ভিডিও শোয়ের আশ্রয় নিয়ে "আমরা কিতাব দেখিয়ে কথা বলি" আস্ফালন ছাড়লো,তখনই তাদের অজান্তেই তাদের সালাফী-ওহাবীয়তটা দাত খেলিয়ে হেসে দিলো।আর তাদের আসল মুখোশটা সামনে চলে এলো।তারা ইমাম আহমদ রেযাকে অপবাদ দিয়ে পাবলিকের মগজ ধোলাই করতে গিয়ে নিজেরাই এখন সে ফাদে আটকে গেলো।


তারা হয়তো ভাবতেই পারেনি যে,তারা কিতাব দেখানোর যে আস্ফালন ছাড়লো তা তাদেরই চতর উদোম করে দেবে কিনা!

‌যাক তাদের ওহাবীয়ত ও সালাফীয়তের যুগ্ন মুখোশটাকে সুন্নিয়তের লেবাসের নীচে চুপিয়ে রাখতে পেরেছিলো বহু যুগ,এখন সেটা আর ঢেকে রাখতে পারলোনা।আমরাও তাদের ধোকা থেকে রক্ষা পেলাম।কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নিজেদের মুর্খতামিও মিথ্যাচার গোপন করা আদৌ যে সম্ভব নয়, সেটা বুঝতে পারার পর থেকে তারা এখন দেওবন্দী ওহাবীও বন্ধু সালাফীদের ও সমর্থন করে চলেছে একেবারে প্রকাশ্যে।

তেমনি এক যাত্রাপালার লাইভশো হলো পীর কর্তৃক মুরীদকে শরীয়ত শিক্ষা দেয়ার ঘটনাকে এতোটাই নোংরা ভাষায় উপস্থাপন করে এমন সব শব্দও অঙ্গভঙ্গিমা দেখালো বালাকোটি ওহাবীয়তের মুখপাত্র ইতরশ্রেণীর প্রাণীটি,শুধু পরিধানে থাকা কাপড়টা খুলতে বাকি ছিলো!একই প্রতিক্রিয়া আরো একাধিক লাইভ ভিডিও শোতে সে খবিস জাহিলে মুরাক্কাবটি করে দেখিয়েছে।


এবার ঘটনাটি উল্লেখ করছি-

মালফুজাতে আ'লা হযরতে আল ইবরিযের একটি বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলো সৈয়দ আব্দুল আযিয আদ্দাব্বাগ রাহঃ একদিন তার মুরীদ আহমদ বিন ইবরাহীম বিন মোবারক আল মালেকী আসসাজালমাসি রাহঃকে একদিন জিজ্ঞেস করলেন-

এক স্ত্রীর জাগ্রতাবস্থায় অন্য স্ত্রীর সাথে সহবাস করার বিষয়ে ফোকাহাগণের রায় কি?তখন আল্লামা সাজালমাসি বুঝে গেলেন যে আসলে এটা দ্বারা ওনারই কর্মের দিকে ইঙ্গীত করা হচ্ছে।ওনি জবাব দিলেন।পরে পীর সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেন হুযুর আপনি কিভাবে জানলেন?তখন আব্দুল আযিয আদ্দাব্বাগ রাহঃ বললেন-পীর কখনও মুরীদ থেকে পৃথক হননা,আমি তোমার ঘরের চতুর্থ চার পায়াতে ছিলাম।

এই ঘটনার কথাই আ'লা হযরত ইরশাদ করেছেন।আর বালাকোটি ওহাবীটি এটাকে এতো জঘন্য ভাষায় উপস্থাপন করলো,আল্লাহই জানেন,কত নোংরা পরিবেশে তার জন্মের কর্ম সম্পন্ন হয়েছে!তার ভাষাটা বলার মতো রুচি আমার নেই।তবে কয়েকটা প্রশ্নতো আছেই!


১.আমাদের সাথে কিরামান কাতেবিন নামক ফিরিশতাদ্বয় সব সময় থাকেন।তারা আমাদের কর্ম লিপিবদ্ধ করেন।এখন আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে মিলিত হই।তাহলে ফিরুশতাদ্বয়ও কি আমাদের কর্মগুলোকে ঐভাবেই দেখেন,যেভাবে বালাকোটি ওহাবীটি ভিডিও লাইভশোতে বললো?

২.এছাড়াও রহমতের ফিরিশতা,নিরাপত্তার ফিরিশতারাও কি তেমনই?

৩.আচ্ছা!আল্লাহ পাকের দৃষ্টিতো সমস্ত মাখলুককে পরিবেষ্টন করে আছেন।এখন আল্লাহর ব্যাপারে কি হুকুম?

৪.মায়ের গর্ভে নিযুক্ত ফিরিশতার বিষয়েও কি একই কথা?

৫.বেহায়া কি আব্দুল আযিয দাব্বাগ রাহঃ,সাজালমাসি রাহঃ,আ'লা হযরত রাহঃ?নাকি স্টুডিওতে যাত্রাপালার লাইভ ভিডিও শো উপস্থাপনকারী বালাকোটি খবিসটি?

প্রশ্ন সংখ্যা বাড়িয়ে তাদের আর নাভিশ্বাস বাড়ালামনা।

ঘটনাটি খোদ আল্লামা আরিফ বিল্লাহ ইমাম সাজালমাসি রাহঃ নকর্তৃক নিজ লিখিত কিতাব- আল-ইবরিয মিন কালামি সৈয়দী আব্দুল আযিয আদ্দাব্বাগ কিতাবের ৩১পৃষ্ঠায়।যা লেবাননের দারুল কুতুব ইলমিয়া থেকে প্রকাশিত।কিতাবটির পৃষ্ঠা দিয়ে দিলাম দেখে নিন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ