🆚আ'লা হযরত রাহঃ'র উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫১
ততকালীন ভারত বর্ষ দারুল হরব না দারুল ইসলাম ছিল?
এবিষয়টা নিয়ে বালাকোটি-ওহাবীরা পেরেশান করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে দীর্ঘদিন ধরে।তাদের গুরুরাও একই ফতোয়া দিলেও সেটা তারা গোপন করে রাখে,শুধু আ'লা হযরতকে কামান দাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।আগেও জবাব দেয়া হয়েছে,তবুও তাদের ইতরামীর কারণে আবারও জবাব দিলাম!
বৃটিশ কালীন ভারতবর্ষের বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামদের মধ্যে এবিষয় নিয়ে এখতেলাফ বা মতানৈক্য ছিল-- ভারতবর্ষ কি দারুল হরব, না দারুল ইসলাম? এর উত্তরে কোন কোন ওলামায়ে কেরাম বলেছেন দারুল হরব, যেমন- শাহ্ আব্দুল আজিজ মোহাদ্দিসে দেহলভী রহমাতুল্লাহ আলাইহি, তাঁর লিখিত ফতোয়ায়ে আজিজি গ্রন্থে এর উল্লেখ রয়েছে। আবার কোন কোন ওলামায়ে কেরাম বলেছেন দারুল ইসলাম। যেমন আ’লা হযরত শাহ্ আহমদ রেজা খান বেরলভী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তাঁর লিখিত আহকামে শরীয়ত গ্রন্থে এবিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
দেওবন্দ মাদ্রাসার পৃষ্টপোষক মাওঃ রশিদ আহমদ গাংগুহী সাহেবও স্বীকার করেছেন যে, হিন্দুস্থান দারুল হরব না দারুল ইসলাম এবিষয় নিয়ে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামদের মধ্যে এখতেলাফ বা মতানৈক্য রয়েছে। তার ফতোয়ায়ে রশিদিয়া গ্রন্থের ৫০৩ পৃষ্ঠায় বলেন-
ھند کے دار الحرب ہونے میں اختلاف علماء کا ہے تحقیق حال بندہ کی خوب نہیں حسب اپنی تحقیق کے سب نے فرمایا ہے اور اصل مسئلہ میں کسی کو خلاف نہیں اور بندہ کو بہی خوب تحقیق نہیں کہ کیا کیفیت ھند کی ہے فقط واللہ تعالی اعلم رشید احمد عفی عنہ گنگوھی-
অর্থাৎ ‘(মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি সাহেব বলেন) হিন্দুস্থান দারুল হরব হওয়ার বেলায় ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে হিন্দুস্থানের হুকুম কি হবে এ ব্যাপারটি আমার তাহক্বিকে অস্পষ্ট। উলামায়ে কেরামগণ স্বীয় তাহক্বিক অনুযায়ী ফতওয়া প্রদান করেছেন। মূল মাসআলায় কারো কোন দ্বিমত নেই। এ ব্যাপারে আমারও খুব বেশি তাহক্বিক নেই যে, হিন্দুস্তানের ব্যাপারে কি হুকুম প্রযোজ্য হবে।
তবে মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী সাহেব হিন্দুস্থানকে দারুল ইসলাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন। তার লিখিত ‘জখিরায়ে কেরামত’ নামক গ্রন্থের ৩য় খন্ডের ১৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন-
بعضے وہابی لوگ بطمع دنیاوی اس ملک کو دار الحرب کہتے ہیں اور جمعہ میں شبہ دلاتے ہیں اور اس بات میں طرح طرح کا فساد ہے اور ہم نے اس بات کی نسیم الحرمین میں خواب لکھدیا ہے اس ملک کو دار الحرب کہنے میں اپنے امام کی مخالفت ثابت ہوتی ہے یہ ملک بلا شبہ دار الاسلام ہے اور حرمین شریفین کے علماء یہی کہتے ہیں-
অর্থ: কতক ওহাবী লোক দুনিয়াবী স্বার্থে এদেশকে তথা হিন্দুস্থানকে দারুল হরব বলে থাকেন এবং জুময়া পড়ার ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করে থাকেন, তাদের এসব কথার মধ্যে বিভিন্ন ফাসাদ বা বিপর্যয় রয়েছে। এ সম্পর্কে আমি (কেরামত আলী জৈনপুরী) ‘নাছিমুল হারামাইন’ নামক গ্রন্থে সবিস্তার লিখে দিয়েছি। এদেশকে (হিন্দুস্তানকে) দারুল হরব বলার মধ্যে স্বীয় মাযহাবের ইমামের বিরোধীতা প্রমাণিত হয়। এদেশ (হিন্দুস্তান) নিঃসন্দেহে দারুল ইসলাম। হারামাইন শরিফাইন তথা মক্কাশরীফ ও মদিনাশরীফের ওলামায়ে কেরামও অনুরূপ ফতোয়া প্রদান করে থাকেন।
অনুরূপ আল্লামা আব্দুল হাই লাখনভী সাহেবের ‘মাজমুয়ায়ে ফতোয়া’ নামক গ্রন্থে এবং ঢাকা মুহছিনীয়া মাদ্রাসা থেকে প্রকাশিত ‘মাখজানুল ফতোয়া’ গ্রন্থে ভারতবর্ষকে দারুল ইসলাম বলে ফতোয়া প্রদান করা হয়েছে।
এতদসত্বেও মৌং নূরুল ইসলাম ওলীপুরী আ’লা হযরত শাহ্ আহমদ রেজাখাঁন বেরলভী রহমতুল্লাহ আলাইহিকে ইংরেজের দালাল সাজানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে। ভিত্তিহীন এ আজগুবি কথার কোন তথ্য প্রমান না করতে পেরে তার লিখিত “প্রকৃত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিচিতি” নামক বিভ্রান্তিকর পুস্তিাকার - ১৭৯ পৃষ্ঠায় লিখেছে যে- “আ’লা হযরত- ভারতবর্ষকে দারুল ইসলাম আখ্যায়িত করে ইংরেজদের আনুকল্য প্রদান করেছেন।” সুতরাং ওলীপুরীর অলিক ধারণায়- আ’লা হযরত ইংরেজের দালাল। (নাউযুবিল্লাহ্)
যদি ধরে নেয়া যায়- ইংরেজ শাসিত ভারতবর্ষকে দারুল ইসলাম বলার কারনে আ’লা হযরত রহমতুল্লাহ আলাইহি ইংরেজের দালাল সাব্যস্ত হন, তাহলে আল্লামা আব্দুল হাই লাখনভী, মাও: কেরামত আলী জৈনপুরী ও মাখজানুল ফতোয়ার লিখকও ইংরেজের দালাল সাব্যস্ত হবেন। কিন্তু ওলীপুরী এসব আলেমদের বিরুদ্ধে বা প্রতিবাদে টু শব্দ করার সাহস করেনি। কারণ- তাদের বিরোদ্ধে বা প্রতিবাদে কিছু বললে তাদের ভক্তবৃন্ধের রোষানলে পরতে পারেন। প্রমানিত হলো আ’লা হযরত রহমতুল্লাহ আলাইহির সঙ্গে তার ও তার দলের বিদ্বেষের ভিন্ন কোন কারণ রয়েছে। যেহেতু দেওবন্দী ওহাবী মতাবাদের খন্ডনে আ’লা হযরত রাহমাুল্লাহ আলাইহি অনেক কিতাবাদি লিখেছেন। তাঁর উপযুক্ত জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েই তারা আ’লা হযরত রহমতুল্লাহ আলাইহির খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য দেওবন্দী ওহাবীদের এটা একটি স্বড়যন্ত্র। সত্য কথা হলো- আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহ আলাইহি ইংরেজ বিরোধী ছিলেন। হিন্দুস্থানের জনগণকে সুদ থেকে মুক্ত রাখার জন্য এদেশকে দারুল ইসলাম বলে ফতোয়া দিয়ে ছিলেন। যেমন- অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম ও এরূপ ফতোয়া দিয়েছেন। এটা কোন রাজনৈতিক ফতওয়া ছিল না ।
🔁গত পর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=202219141626549&id=100055153927069


0 মন্তব্যসমূহ