Ticker

6/recent/ticker-posts

আ'লা হযরত রাহঃ'র উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫২




 🆚আ'লা হযরত রাহঃ'র উপর অপবাদের জবাব।পর্ব:-৫২


#মুহাম্মদ_আলমগীর


📓প্রথমে আলোচনায় আসা যাক,ফতোয়ায়ে আফ্রিকীয়্যাহ নিয়ে।কিতাবের বাংলা অনুবাদ ৮৯পৃ.একটি প্রশ্নের জবাবে আ'লা হযরত ইমাম শাহ আহমদ রেযা বেরলভী রাহঃ উল্লেখিত বর্ণনার কিছু অংশ নকল করেছেন খতিব বাগদাদী থেকে।আর এটাকেই পূজি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যাত্রাপালার লোক নিজেকে মহাপণ্ডিত বলে জাহিরকারী আমাদের নবী করীমﷺ মাটির সৃষ্টি বলে প্রচারণায় নামে,এবং দলিল দেয় ফতোয়ায়ে আফ্রিকীয়্যাহ থেকে।

👉অথচ ফতোয়ায়ে আফ্রিকীয়্যায় ৬৩নং প্রশ্ন ছিলো-


❔" প্রশ্ন-তেষট্টিতমঃ হাদীস শরীফে রয়েছে, মানুষ যে জমির মাটি দিয়ে সৃষ্ট সে জমিতে দাফন হয়। যায়েদ প্রশ্ন করে তা কিভাবে সম্ভব? মানুষ অন্ধকারে সহবাস করে আর সন্তান গর্ভধারিত হওয়ার কোন সময় জানা নেই। এমতাবস্থায় কিভাবে মাটি মায়ের জরায়ুতে পৌছতে পারে? আমি নগন্য বললাম- আল্লাহ তা'আলা জমি থেকে মাটি নিয়ে বা ফিরিশতার মাধ্যমে ঐ মুহুর্তে জরায়ুতে মাটি পৌছাতে কি শক্তি রাখেন না?

آدم سروتن باب وگل داشت ۔ کوحکم ملک جان و دل داشت

এর জবাব দিতে গিয়ে আ'লা হযরত খতিব বাগদাদীর বর্ণনাটি নকল করেছেন-


⏩উত্তরঃ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

منها خلقنكم وفيها نعيدكم ومنها نخرجكم تارة اخرى

“আমি জমি থেকে তােমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরই মধ্যে পুনরায় তােমাদেরকে নিয়ে যাব এবং সেটা থেকে দ্বিতীয়বার তােমাদেরকে বের করবাে। হযরত আবু নাঈম (রাঃ) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

ফরমায়েছেন,

كانت مولود الاوقد ردعليه من تراب حفرته 

‘প্রত্যেক নবজাতকের ওপর তার কবরের মাটি ছড়ানাে হয়। খতীব সাহেব কিতাবুল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক এ হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন হুযুর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ফরমায়েছেন,

مامن مولود الأوفي سرته من تربته التي خلق منها حتى يدفن فيها واناوابويکرو عمر خلقنا من تربة واحدة فيها تدفن

প্রত্যেক নবজাতকের নাভিতে তার ঐ মাটি থাকে যে মাটি থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এমন কি তাতে দাফন করা হবে। আমি, আবু বকর ও ওমর এমন একটি মাটি থেকে সৃষ্ট যাতে দাফন করা হবে।"


🔽এহলো তাদের অপপ্রচার এবং নাপাক আকীদার পূজি।

🔼মুুহাদ্দিসগণ বিভিন্ন বর্ণনাকে একত্রিত করেন,কিন্তু সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে সনদের উপর। কখনও মতনও বিবেচনায় আসে।

🔆প্রথম কথা হলো বর্ণিত বর্ণনাটির গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু?অথচ জাবের বিন আব্দুল্লাহ্ আনসারী রাঃ'র সহীহ মারফু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে,রাসুলﷺ'র সৃষ্টির উপাদান হলো নূর।তিনি সৃষ্টি হয়েছেন সকল সৃষ্টির আগে,যখন আমাদের মহান রব তাআ'লাﷻ'র পবিত্র সত্বা ব্যতিত আর কিছুরই অস্তিত্ব ছিলোনা তখন।


📶এখানে মনে রাখতে হবে-

১.প্রশ্ন রাসুল নূর নাকি মাটি সেটা ছিলোনা।

২.হাদীস বর্ণনা করেছেন খতিব বাগদাদী,আ'লা হযরত নন।তিনি কেবল প্রশ্নের জবাবের সাথে প্রাসাঙ্গিক হওয়ায় সেটা নকল করেছেন মাত্র।

৩.আ'লা হযরত এরপর কোথাও লিখেননি যে, নবীকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে!

৪.তিনি কেবল আপত্তিকারীর আপত্তির খন্ডন করেছেন যে,আল্লাহ্‌ ফিরিশতার মাধ্যমে পিতার বীর্যের সাথে মাটির মিশ্রণ ঘটিয়ে মায়ের জরায়ূতে পৌছাতে সক্ষম।

৫.দীর্ঘ আলোচনায় নবী করীমﷺ',আবু বকর,ওমর'র কথা আর কোথাও বলেননি।

৬.ওনার উদ্দেশ্যও এটা ছিলোনা,যে রাসুল অন্যান্য ইনসানের মতো মাটি থেকে!এমন কথাও ওনার উদ্দেশ্য ছিলোনা।

৭.হ্যা! বাংলা অনুবাদের ব্রাকেটে প্রদত্ত তত্ব অনুবাদকের আ'লা হযরতের নয়।তবে আমাদের মধ্যে যারাই সে দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন- যেমন- আইয়ূব আলী রিযভী সাহেব,কেউই সেটাকে আ'লা হযরতের বক্তব্য বলেননি,বরং বর্ণনাটির অগ্রহণযোগ্যতার দিকেই ইঙ্গীত করেছেন।


👉অথচ ৬২নং প্রশ্নের জবাবে নবীর নূর নিয়ে আপত্তিকারী যায়েদ নামক লোককে মূর্খ বলেছেন!

এছাড়া সালাতুস সাফা ফি নূরীল মোস্তফা কিতাবে তিনি বিস্তারিতভাবে রাসুলﷺকে নূরে মুজাসসাম হিসেবে দলিলাদীর আলোকে প্রমাণ করেছেন।আমি আজকে সেদিকে যাচ্ছিনা।


👀কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় হলো-তথাকথিত খেয়ানতের বিরুদ্ধে বলে নিজের ঢোল প্রচারকারী লোকটি নিজেই নিজের শিরেনামের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করে নিজেই মিথ্যাচার,খেয়ানত আর ভণ্ডামী করে বুঝিয়ে দিলো আসলেই শয়তান ফিরিশতার সূরতে আসে আর মানুষকে ধোকা দেয়।তার ধোকা থেকে তারাই বাচতে পারে,যাদের উপর রবের রহমতের ছায়া থাকে।


🐕সুতরাং উক্ত যাত্রাপালার লোকটির সকল প্রচেষ্টা মাঠেই মারা গেলো।মার্কিন মুল্লুকে মেথরগিরী করা আর হাদীস বিশ্লেষণ করা একবরাবর নয়!যদিও তাদের গুরুদের কথা হলো এটা সহজ!


📗এবার উক্ত বর্ণনাটির বিষয়ে আসা যাক।


أَخْبَرَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الإِسْمَاعِيلِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْهَرَوِيُّ قَاطِنُ دِمَشْقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْبَغْدَادِيُّ بِمِصْرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ سَهْلٍ أَبُو هَارُونَ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ الْجُشَمِيِّ، عَن عبد الله بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ يُذَرُّ عَلَى سُرَّتِهِ مِنْ تُرْبَةٍ، فَإِذَا طَالَ عُمُرُهُ رَدَّهُ اللَّهُ إِلَى تُرْبَتِهِ الَّتِي خَلَقَهُ اللَّهُ مِنْهَا وَأَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ خُلِقْنَا مِنْ تُرْبَةٍ وَاحِدَةٍ وَفِيهَا نُدْفَنُ

-“হযরত ইবনে মাসউদ (رضي الله عنه) বলেন, রাসূলে পাক (ﷺ) বলেছেন: প্রত্যেক শিশুর নাভিতে সেই মাটি রাখা হয় যেখানে তাকে দাফন করা হবে। তিনি আরো বলেন: আমি, আবু বকর, উমর একই মাটির তৈরী এবং একই জায়গায় দাফন হব।” 

সূত্র:- ১.তারিখে বাগদাদ,ইমাম খতিব বাগদাদী রাহঃ ৩য় খন্ড, ১১৫পৃ.দারুল কুতুব ইলমিয়া,

২.কিতাবুল মাউদুআত,ইমাম জাওযী রাহঃ,১ম খন্ড,৩২৮পৃ.


📖খতিব বাগদাদী বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর লিখেছেন এটি গরীব!লিখেন-

غريب من حديث الثوري عن الشيباني، لا أعلم يروي إلا من هذا الوجه،

-“শায়বানী থেকে সাওরীর বর্ণিত রেওয়াতটি ‘গরীব’ এই সূত্রটি ছাড়া এ বিষয়ে অন্য কোন সূত্র আমার জানা নেই।”

(তারিখে বাগদাদ, ৩য় খণ্ড, ১১৫ পৃ: রাবী নং ১১১৪)


এমন একটি গরীব এবং বানোয়াট বর্ণনা দ্বারা কোনো বিষয় সাব্যস্ত করা যায়না।অথচ আ'লা হযরতের প্রতি অপবাদ দিতে গিয়ে সেটাকেই দলিল বানিয়ে প্রচার করার ব্যথ চেষ্টা চলছে।আ'লা হযরত ভিন্ন একটি প্রসঙ্গের জবাব দিতে গিয়ে শুধু বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন,নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্তও দেননি!


📜আল্লামা শহীদুল্লা বাহাদুর সাহেব লিখেছেন-

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা ইবনে জাওযী (رحمة الله) একে موضوع ‘জাল হাদিস’ বলেছেন।

(ইমাম ইবনে জাওযী: কিতাবুল মাওদ্বুআত, ১ম খণ্ড, ৩২৮ পৃ:; তাফসিরে মারেফুল কোরআন, ৮৫৬ পৃ:, সৌদি সরকারের বিনা মূল্যে দেওয়া ছাপা, তাফছিরে মাজহারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৭৩ পৃ:)।

সূত্র:-প্রমাণিত হাদীসকে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন,১ম খন্ড,পৃ.৪৬০

📃এবর্ণনাটির সনদে একজন মিথ্যাবাদী ও বাতিল বর্ণনাকারী রয়েছে। তার নাম হল: موسى بن سهل بن هارون (মূসা ইবনে সাহল ইবনে হারুন) যেমন ইমাম যাহাবী (رحمة الله) বলেন:

مُوسَى بن سهل بن هَارُون الرَّازِيّ عَن اسحاق الْأَزْرَق بِخَبَر كذب

-“মূসা ইবনে সাহল ইবনে হারুন রাজী বর্ণনাকারী ইসহাক্ব আযরাকী থেকে মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করত।”

(ইমাম যাহাবী: আল মুগনী, রাবী নং ৬৪৯৪)

সূত্র:-শহীদুল্লা বাহাদূর,প্রমাণিত হাদীসকে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন,১ম খন্ড,পৃ.৪৫৬


📜ইমাম জাওযী রাহঃ এটি বর্ণনার পর লিখেছেন-

هذا حدیث لا یصح، محمد واحمدمطعون فیهما وفیه مجاهیل منهم ابوالیسع.

"হাদীসটি সহীহ নয়।মুহাম্মদ মারুজী,আহমদ মাতউন অভিযুক্ত।আবুল ইয়াসা'আ অপরিচিত।

কিতাবুল মাউদুআ'ত,১ম খন্ড,৩২৮পৃ.

কিতাবুল মাউদুআত,১ম খন্ড,পৃ.৩২৮

📘তেমনই আরেকটি বর্ণনা উল্লেখের পর ইমাম জাওযী ৩২৯পৃ.লিখেন-

هذاحدیث موضوع علی رسول اللهﷺ. قال یحی: اصرم کذاب خبیث. وقال البخاری ومسلم والنساٸ:متروک.وقال ابن حبان کان یضع الحدیث علی الثقاة.


🔰এছাড়াও এবিষয়ে যতগুলো বর্ণনা রয়েছে সবগুলোই বানোয়াট।হাদীস বিশারদগণ সেগুলোকে বানোয়াট বলে অবহিত করেছেন।

আল্লামা শহীদুল্লা বাহাদুর সাহেব ওনার প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন গ্রন্থের ১ম খন্ডে এরকম ৯টি বর্ণনাটি এনেছেন এবং প্রত্যেকটির সনদ নিয়ে আলোচনা করেছেন।আগ্রহীগণ ৪৫৮-৪৬৪পৃ. পর্যন্ত দেখে নিতে পারেন।


📄বর্ণনাটির ৩য় রাভী সম্পর্কে ইমাম যাহাবী রাহঃ মিযানুল ই'তিদাল,৭খন্ড, ৪৪৬পৃ.রাভী নং-১০৭৫৬ সম্পর্কে বলেন-

فابوالیسع لایدری من هو، والسند بذالک مضطرب.

"আবুল ইয়াসা'আ কে কিছুই জানা যায়না।আর হাদীসের সনদে বিশৃঙ্খলা রয়েছে।

সূত্র দেয়া হয়েছে।

 ইমাম যাহাবী (رحمة الله) ও হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله) আরো বলেন:

موسى بن سهل بن هارون الرازي عن إسحاق الأزرق بخبر باطل

-“মূসা ইবনে সাহল ইবনে হারুন রাজী ইসহাক্ব আযরাকী থেকে বাতিল রেওয়াত বর্ণনা করত।”

(ইমাম যাহাবী: মিযানুল এতদাল, রাবী নং ৮৮৭৩; ইমাম আসকালানী: লিছানুল মিযান, রাবী নং ৪১৪)

সূত্র:-প্রমাণিত হাদীসকে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন।


📑ইমাম ইবনে হিব্বান মাজরুহীন কিতাবের ১ম খন্ড,২০৫পৃ.রাভী নং-১২২ সম্পর্কে লিখেন-

کان یخالف الثقات فی الرویات.

"তার সকল বর্ণনা বিশ্বস্ত রাভীর বিপরীত।"

অতএব, এই বর্ণনা বাতিল ও ভিত্তিহীন।

ইমাম ইবনুল জাওযী, , কিতাবুদ্দু'আফা ওয়াল মাতরুকুন,১ম খন্ড,৯৬পৃ.২৯০নং রাভীর আলোচনায় লিখেছেন-

قال ابن حبان: ”کان الذی یروی عن شعبة اخر لمخالفته الثقات“ وقال ابو حاتم الرزی: مجهول.

"ইবনে হিব্বান বলেন-তার বর্ণনা বিশ্বস্ত রাভীর বিপরীত।ইবনে আবু হাতিম বলেন-তিনি অপরিচিত।"

📖ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী তাহযিবুত তাহযিব,১ম খন্ড,পৃ.২১২, রাভী নং-৩৯৭ 

এখানে অনুরুপ বলা হয়েছে।পৃষ্ঠা সংযোজন করে দিয়েছি দেখে নিন।

 আকায়েদ শাস্ত্রে কখনোই এরূপ রেওয়াত হুজ্জাত বা দলিল হবে না।

📒ইমাম আবু হাতিম কিতাবুল জারাহ ওয়াত তা'দিল,২য় খন্ড,৩৩৩পৃ. রাভী নং-১২৬৪

তিনি লিখেছেন-

هو مجهول.

🔦আল্লামা শহীদুল্লা বাহাদুর সাহেব,ওনার প্রমাণিত হাদীসকে জাল বানানোর স্বরুপ উন্মোচন কিতাবের ১ম খন্ডে, এবিষয়ক যেসব রিওয়ায়াত নকল করেছেন,এরপর সেগুলোর সনদ বিশ্লেষণ করেছেন।আমি হুবহু সেগুলো এখানে নকল করছি-

এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম যাহাবী (رحمة الله) ও হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله) বলেন: هذا حديث موضوع -“এই হাদিস বানোয়াট বা ভিত্তিহীন।”

(ইমাম যাহাবী: মিযানুল এ’তেদাল, রাবী নং ৯৮০৯; ইমাম আসকালানী: লিছানুল মিযান, রাবী নং ১০৯৬

 ইমাম যাহাবী (ﷺ) উল্লেখ করেন: فقال ابن عدي: البلاء فيه من يعقوب. -“ইমাম ইবনে আদী (رحمة الله) বলেছেন: এর সনদে ইয়াকুব নামক রাবী হল দোষী।”

(ইমাম যাহাবী: মিযানুল ই‘তিদাল, রাবী নং ৯৮০৯; ইমাম আসকালানী: লিছানুল মিযান, রাবী নং ১০৯৬)

আকায়েদ শাস্ত্রে এরূপ রেওয়াতকে হুজ্জাত বা দলিল হিসেবে দাঁড় করানো হাস্যকর ব্যাপার বৈ কিছুই নয়।

মাওলানা কাজী শাওকানী বলেন:

رواه الخطيب عن علي مرفوعًا، وهو موضوع.

-“খতিব বাগদাদী ইহা আলী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেছেন আর ইহা ভিত্তিহীন।

(কাজী শাওকানী: ফাওয়াইদুল মাজমুয়া, হাদিস নং ৩৯)

 ‘কাশফুল হাছিছ’ গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করে লিখেছেন: هَذَا مَوْضُوع -“ইহা ভিত্তিহীন কথা।”

(কাশফুল হাসিস, রাবী নং ৬৫৬)

 ইমাম যাহাবী (رحمة الله) লিখেছেন: هَذَا مَوْضُوع -“ইহা ভিত্তিহীন কথা।”

(ইমাম যাহাবী: মিযানুল ইতিদাল, রাবী নং ৭৪৯০ এর ব্যাখ্যায়)

❏ হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله) বলেছেন: هَذَا مَوْضُوع -“ইহা ভিত্তিহীন কথা।”

(ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী: লিসানুল মিযান, রাবী নং ৫৩৬ এর ব্যাখ্যায়


এর বর্ণনার মাঝে أحمد بن الحسن بن أبان المصري (আহমদ ইবনে হাছান ইবনে আবান মিছরী) রয়েছে। তার ব্যাপারে ইমামদের অভিমত লক্ষ্য করুন:-

قال ابن عدي: كان يسرق الحديث. وقال ابن حبان: كذاب دجال، يضع الحديث على الثقات. وقال الدارقطني: وهو كذاب.

-“ইমাম ইবনে আদী  বলেন: সে হাদিস চুরি করত। ইমাম ইবনে হিব্বান  বলেন: সে মিথ্যাবাদী দাজ্জাল ও বিশ^স্ত রাবী থেকে হাদিস জালকারী। ইমাম দারে কুতনী বলেন: সে মিথ্যাবাদী।”

(ইমাম যাহাবী: মিযানুল এতেদাল, রাবী নং ৩৩০; ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী: লিছানুল মিযান, রাবী নং ৪৮০)

ابن عساكر عن وهب بن وهب عن جعفر بن محمد عن أبيه مرسلاً، ووهب كان يضع الحديث

-“মুহাম্মদ ইবনে আলী বলেন, রাসূলে পাক (ﷺ) বলেছেন:... আমি ও জাফর একই মাটির তৈরী। (ইমাম সুয়ূতী  বলেন) ওহাব ইবনে ওহাব বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে মুরসাল রূপে। আর বর্ণনাকারী ওহাব হাদিস জাল করতো।”

هَذَا مَوْضُوع

-“মুহাম্মদ ইবনে খালাফ মারওয়াজী সম্পর্কে ইমাম যাহাবী উল্লেখ করেন, ইমাম ইবনে মাঈন (رحمة الله) তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। ইমাম ইবনে জাওযী (رحمة الله) তার ‘মাওদ্বুআত’ গ্রন্থে  এরূপ উল্লেখ করেছেন। মূসা ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন- মূসা ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ হতে- তিনি তাদের পিতার সূত্রে মারফ‚ রূপে: আমি হারুন ও আলী একই মাটি থেকে তৈরী। আর ইহা বানোয়াট কথা।”  

(কাশফুল হাসিস, রাবী নং ৬৫৬, ১ম খণ্ড, ২২৭ পৃ:; মুজামে শুয়ূখু তাবারী, রাবী নং ১১২)

📰সর্বেশেষ বলতে চাই,আমার হাতে জরাহ তা'দিলের কিতাবসহ অনেক কিতাবই রয়েছে,যেগুলো থেকে আমি অসংখ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারি,কিন্তু পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি হওয়ার আশংকায় সে দিকে আপাতত গেলামনা।

এছাড়াও এগুলোর বিপরীতেও হাদীস আছে।

আল্লাহ্‌ হেদায়াত করুন।


🔁গত পর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/groups/896051963903007/permalink/1759163114258550/

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ