Ticker

6/recent/ticker-posts

রাসুলে করীমﷺ'র দেয়ালের পিছনের ইলম নেই!(নাউযুবিল্লাহ্!)

 


আ'লা হযরতের উপর অপবাদের জবাব। পর্ব-৩৯


রাসুলে করীমﷺ'র দেয়ালের পিছনের ইলম নেই!(নাউযুবিল্লাহ্!)


আল্লাহ্‌ এমন নাপাক আকীদা থেকে আমাদের হিফাজত করুন!

✏জররার ইলম আল্লাহ্‌র জন্য,আবার নবীর জন্যও!একজায়গায় বলা হয়েছে আল্লাহ্‌ ছাড়া কারো জন্য সাব্যস্ত করা অকাট্য কুফর, আরেক জায়গায় তা নবীরﷺ জন্য তার স্বীকৃতি!(ফতোয়ায়ে রযভিয়ার ২৭ ও ২৯তম খন্ডের বরাতে)

✒পেছন থেকে দেখাটা শুধু নামাযে খাস!নামাযের বাইরে নয়!(নাউযুবিল্লাহ্!)

✏কুরআন-হাদীস থেকে দলিল বাতিলরাও দিয়ে থাকে।

(অবশ্য এটা তার অজান্তেই তারই উপর পতিত হলো।কারণ সে এমন এক দলিল দিলো,যার গ্রহণযোগ্যতা নাই।)


আমি এপর্বে যা উপস্থাপন করবো তা সমাচারের একাধিক পর্বের জবাব হবে ইনশাআল্লাহ!

প্রথমে বলে দিই!দেয়ালের পেছনের ইলম নেই এটা হলো একটা জাল বর্ণনা মাত্র!শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দীস দেহলভী রাহঃ এটা উল্লেখ করার পর মাদারিযুন্নবুয়াতে বলেছেন এটা জাল রেওয়ায়াত!এবং আশিয়াতুল্লুমআতে এটা স্রেফ হাদীসের বিশ্লেষণ উপস্থাপনে উল্লেখ করেছেন,আল্লাহ্‌ পাকের জাতী ইলমের আলোচনায়!এটাকে তিনি দলিল হিসেবে উল্লেখ করেননি!অন্যদিকে ইমাম কুস্তুলানী রাহঃ ওনার বিশ্ববিখ্যাত কিতাব 'আল মাওয়াহিবুল্লদুনিয়া বিল মিনাহিল মুহাম্মদীয়াﷺ' কিতাবের ২য় খন্ড, ৩য় মাকসাদে এটাকে সনদ বিহীন হাদীসের একটি অংশ বলেছেন।মাওয়াহেবের হুযুরের চোখ মেবারকের আলোচনা অংশ দেখুন।

সুতরাং এটাকে পূজি করে যে আহম্মক লোক আপন হিংসা চরিতার্থ করেছে,সে রাসুলে পাকেরﷺ নামে মিথ্যাচার করেছে!আর বুখারীর হাদীসে হুযুরেরﷺ নামে মিথ্যা রচনাকারীর ঠিকানা জাহান্নাম বলে হুযুরﷺ আপন জবানে ঘোষণা করেছেন।

এছাড়াও এ কথাটির কোনো সনদও নাই।অথচ সনদবিহীন একটি কথাকে সহীহ সনদের অসংখ্য হাদীসের বিরুদ্ধে উপস্থাপন করে নবীর শানে কেমন গোস্তাখী করা হলো!!!

এরপর!এটা এমন এক কথা যা কুরআনী আয়াত এবং  অসংখ্য সহীহ হাদীসের বিরোধী,যেগুলো সহীহ বুখারী,সহীহ মুসলিমসহ অনেক হাদীসের কিতাবে এসেছে!

আয়াতে কুরআন এবং সহীহ হাদীসের বিরোধী একটি কথাকে আমরা মেনে নেবো কেনো?

👉এখানে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন-

শায়খ মুহাক্কিক রাহঃ সহ আরো কেউ উল্লেখ করলে যদি অপরাধ না হয়, তাহলে এই ওহাবী লোক উল্লেখ করলে কেনো গুনাহ হবে?

এর উত্তর হলো-

শায়খ মুহাক্কিক সহ যারা উল্লেখ করেছেন তারা এটা নবীর শান অস্বীকার করায় উল্লেখ করেননি,বরং আলোচনা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন আবার হকও বাতলে দিয়েছেন।ওনারা ওটাই গ্রহণ করেছেন যা শানে রিসালাতকে প্রমাণ করে,বিপরীত বিষয় পরিত্যাগ করেন।আর এই লোক নবীর শান অস্বীকার করতেই এবং একজন মুজাদ্দিদকে অপমান করতেই এটা উল্লেখ করেছে!সুতরাং ইবলিস আনা বলায় লানতের উপযোগী হলো,আর মানসুর হাল্লাজ আনা বলায় রহমতের উপযোগী হয়েছেন!পার্থক্য পরিস্কার!আনা বলা ফিরাউনকে পানিতে দলবল সমেত ডুবিয়ে মারলেও সুবহানী বলায় বায়েজীদ বোস্তামীকে সুলতানুল আরিফিন বলে ডাক দিয়েছেন।ফুল থেকে ভিমরুল মধু খায়, তার কামড়ে রয়েছে বিষ!মৌমাছিও একই ফুল থেকে মধু আহরণ করে,কিন্তু সেটায় শেফা রয়েছে!আশা করি বুঝা গেছে।


ঐ সনদ বিহীন  এবং জাল হাদীসের অংশটি হলো-

‌ما أعلم ما خلف جداري هذا‏.

‌দেয়ালের পিছনের ইলম আমার নেই।


🗑এটা নিয়ে সামনে এগোনোর আগে একটি চমকপ্রদ কথা উল্লেখ করতে চাই।সেটাও সমাচার আপলোডকারী বালাকোটি ওহাবী সাহেবই সমাচারের একটি পর্বে বয়ান করেছিলো।সেটা দিয়ে আগে শুরু করা যাক।

"সৈয়দ আহমদ রায় বেরলভীর কোনো এক মুরীদ নাকি মদ খাওয়ার আয়োজন করেছিলো।বেচারা মদ খাওয়ার জন্য বাথরুমে ঢুকে যায়।ওদিকে সৈয়দ আহমদ সাহেবের তা জানা হয়ে যায়।দেরী নেই,বাথরুমে এসে হাযির!"

কতইনা চমৎকার হলো!আমার আর দলিলের কি দরকার?দলিলতো খোদ সুন্নির আলখেল্লা পরিধানকারী ওহাবী সাহেবই দিয়ে দিয়েছে!তবে এরউপর ভিত্তি করে আমি কয়েকটি কথা বলতে চাই-

১.কোথায় সৈয়দ সাহেব,আর কোথায় মুরীদ!সৈয়দ সাহেবের কিকরে জানা হয়ে গেলো যে,ওমুক জায়গায় তার অমুক মুরীদ রয়েছে?

২.সে মদ খাওয়ার আয়োজন করেছে?

৩.সে মদ খেতে পায়খানার ভিতর ঢুকেছে?

৪.সুতরাং তাকে মন্দ কাজ থেকে বাধা দেয়া দরকার?

চমৎকারিত্বের শেষ হলোনা-

৫.সৈয়দ সাহেব বাথরুমে এসে হাযির!তা কেমনে???

যখন নবীরﷺ কাছে দেয়ালের পিছনে কি আছে সে ইলম নেই,তাহলে 👉সৈয়দ সাহেবের কিভাবে এমন ইলম এলো যে,

👁মুরীদের খবর হয়ে গেলো,

🍹সে কিকরছে তাও জানা হয়ে গেলো!

🚽কোথায় সেটা জানা হয়েগেলো।

🏄আবার ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিতও হয়ে গেলো!!!

এখানে দু'টি পয়েন্ট-

১.🗒বিরাট দূরত্ব থেকে গায়েবের খবর জেনে নেয়া।

২.📋ঘটনাস্থলে হাযির হওয়া।

আহম্মক এবার আপনা জালেই আটকা পড়লো।

সৈয়দ আহমদ এতদূরের খবর জানতে পারলে,দেয়ালের পিছনে কি আছে সেটা আমাদের আকাﷺ কেনো জানবেননা?তবে কি সৈয়দ আহমদ নবীর থেকে বেশি কিছু....?!?

ঐওহাবীর দাবী হলো নবী হাযির- নাযির হওয়া এটা কারো আকীদা ছিলোনা।কিন্তু সৈয়দ আহমদকে সে হাযির-নাযির মেনে নিলো!!!এটা কেমন আকীদা হলো?

কথা নাবাড়িয়ে বাকীটা আপনাদের বিচারের আদালতে সমর্পন করলাম।


এবার মূল আলোচনায় আসি-

উল্লেখিত হাদীস নামের কথাটি উল্লেখের পর-

‌ইমাম সাখাভী রাহঃ ওনার মাকাসিদুল হাসানার ৫৭১পৃ. ৯৩৪নং হাদীস হিসেবে,এবং ইমাম আযলুনী রাহঃ ওনার কাশফুল খাফার ২য় খন্ডের ১৭৬পৃ. ২১৭৫নং হাদীস, ইমাম আলী কারী রাহঃ ওনার আসারুল মারফুয়ার ৩০০নং হাদীস হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন-(ইবারত ইমাম আযলুনীর)

‏ قال الحافظ ابن حجر لا أصل له، لكنه قال في تلخيص تخريج الرافعي عند قوله في الخصائص ويرى من وراء ظهره كما يرى من قدامه‏:‏ هو في الصحيحين وغيرهما عن أنس وغيره

‌ইবনে হাজার রাহঃ বলেন,এহাদীসের কোনো ভিত্তি নেই।আমি বলি, ইবনে হাজার আসকালানী রাহঃ তালখিসে বলেন, রাসুলﷺ সামনে পিছনে সমান দেখেন।আর এর সারসংক্ষেপ হযরত আনাস রাঃ হতে বুখারী,মুসলিম সহ অসংখ্য হাদীসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম কুস্তুলানী রাহঃ ও এটা উল্লেখ করেছেন।তিনি লিখেছেন-


‌وأجيب بأنَّ الأحاديث الأُوَل ظاهرها ينطق ذلك بحالة الصلاة، ويحمل المطلق منها على المقيد, وأما إذا ذهبنا إلى أن الإدراك بالبصر وهو الصواب فلا إشكال؛ لأن نفي العلم هنا عن الغيب وذاك عن مشاهدة.

وفي "المقاصد الحسنة" للحافظ شمس الدين السخاوي حديث: "ما أعلم ما خلف جداري هذا". قال شيخنا -يعني شيخ الإسلام ابن حجر: لا أصل له. قلت: ولكنه قال في تلخيص تخريج أحاديث الرافعي عند قوله في الخصائص: ويرى من وراء ظهره كما يرى من قدامه. هو في الصحيحين وغيرهما من حديث أنس وغيره، والأحاديث الواردة في ذلك

ইমাম যুরকানী রাহঃ এর ব্যাখ্যায় উল্লখ করেন-

‌أعلمكم من وراء ظهري، وهو مغيب، فيصير المعنى: أعلم المغيبات ولا أعلمها، "فكيف يجتمعان"، فمبنى التناقض على تفسيره بالعلم؛ إذ لو فُسِّرَ عدم التناقض بما وراء الجدار المشار إليه لم يتحقق تناقض، "وأجيب بأن الأحاديث الأُوَل ظاهرها ينطق باختصاص ذلك بحالة الصلاة، ويحمل المطلق منها على المقيد" بحالة الصلاة، فقوله: "لا أعلم ما وراء جداري" معناه: في غير الصلاة، فلا إشكال، "وأما إذا ذهبنا إلى أن الإدراك بالبصر، وهو الصواب، فلا إشكال؛ لأن نفي العلم هنا" في خبر الجدار "عن الغيب، وذاك" الذي هو قوله: "إني لأراكم من وراء ظهري" "عن مشاهدة"، فلم يتواردا على محل، وأيضًا، فعدم رؤية ما وراء الجدار لا ينافي الرؤية بلا حائل، وأورد على حديث الرؤية أيضًا قوله -صلى الله عليه وسلم: "أيكم الذي ركع دون الصف"، فقال أبو بكر: أنا؛ إذ لو كان يرى ما سأل، وأجاب ابن عبد البر بأنَّ قصة أبي بكر كانت قبل أن يفضله الله بهذه الفضيلة، فإن شئونه -صلى الله عليه وسلم- تتزايد دائمًا.

وفي أبي داود عن معاوية ما يدل على أن ذلك كان في آخر عمره، "وفي المقاصد الحسنة" في بيان كثير من الحاديث المشهورة على الألسنة، "للحافظ شمس الدين" محمد بن عبد الرحمن، "السخاوي"، شيخ المصنف، نسبة إلى سخا من أعمال مصر، على غير قياس، "حديث: "ما أعلم ما خلف جداري هذا".

"قال شيخنا -يعني شيخ الإسلام ابن حجر" الحافظ أبو الفضل العسقلاني: "لا أصل له، قلت: ولكنه"، أي: الحافظ نفسه، "قال في تلخيص تخريج أحاديث الرافعي"، الواقعة في شرحه على وجيز الغزالي، في الفقه، "عند قوله في الخصائص: ويرى من وراء ظهره كما يرى من قدّامه. هو" بمعناه "في الصحيحين، وغيرهما من حديث أنس وغيره، والأحاديث الواردة بذلك


কিন্তু সমাচারে ওহাবী লোকটি -

لكنه قال في تلخيص تخريج الرافعي

এই অংশটির অনুবাদ করেছে- "কিন্তু ইবনে হাজার তালখিস সহ অন্যান্য গ্রন্থে এটাকে সহীহ বলেছেন!তাই এখানে ভিত্তি নেই বললে তা "তার বিপরীত হয়ে যাবে!

অথচ উক্ত অংশটির অর্থ হলো-"ইবনে হাজার ওনার তালখিস তাখরিজে রাফিউ কিতাবে বলেছেন........!

কি বলেছেন?এর পরের অংশ হলো-

ويرى من وراء ظهره كما يرى من قدامه‏

রাসুলﷺ সামনে পিছনে সমান দেখেন।

আফসোস!মানুষকে কিভাবে ধোকা দেয়া হলো!

এরপর তার মূল পূজি হলো পরের অংশ-

والأحاديث الواردة في ذلك مقيدة بحالة الصلاة‏.


আর যদি সমাচারের ওহাবী লোক এবং একই ঘরানার লোকদের কথাকে সঠিক বলে মেনে নেয়া হয়,তখন অনিবার্য কথা আসে-পিছনে দেখতে পাওয়া শুধু নামাযেই যদি এটা নির্দিষ্ট হয় তাহলে ইবনে হাজার ওনার ফতহুল বারীর ১ম খন্ড ৫১৫ পৃ. কিতাবুস সালাত, بَاب عِظَةِ الْإِمَامِ النَّاسَ فِي إِتْمَامِ الصَّلَاةِ وَذِكْرِ الْقِبْلَةِ

হাদীস নং-৪১৯এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন-

‌وَقِيلَ كَانَ بَيْنَ كَتِفَيْهِ عَيْنَانِ مِثْلُ سَمِّ الْخِيَاطِ يُبْصِرُ بِهِمَا لَا يَحْجُبُهُمَا ثَوْبٌ 

‌রাসুলﷺ'র দুই কাধে সূঁচের ছিদ্রের মতো দুটি সুক্ষ চোখ ছিলো,যেগুলো দ্বারা তিনি দেখেন।আর পোশাক ঐদুই চোখের আবরণ তৈরী করতে পারতোনা।"

আল্লাহ্‌ পাক তাঁর হাবীবﷺ কে যা-ই দিয়েছেন তা ক্ষণস্থায়ী কিছু নয়!তাহলে যে চোখ দেয়া হলো তার প্রয়োজনই বা কি ছিলো?তিনি ঐ চোখ ছাড়াওতো নামায কিংবা তার বাইরে অদৃশ্য সবই দেখতে সক্ষম ছিলেন।আল্লাহ্‌র ভাণ্ডার কি এতোই কৃপন যে হাবীবকে একটি ক্ষণস্থায়ী সামর্থ্য দেবেন তাও শর্ত সাপেক্ষ?আর কুরআনেওতো হুযুরের ইলমে গায়ব সাব্যস্ত রয়েছে!!

আবার গায়বের অস্বীকৃতির আয়াতও আছে।কিন্তু প্রত্যেক জায়গায় প্রতিটি আয়াত যথাযত সহীহ!কোনটি কোনটির বিপরীত নয়।যখন সত্বাগত গায়বের কথা এসেছে তখন আল্লাহ্‌ ছাড়া তা আর কারো কাছে নেই তা-ই বুঝানো উদ্দেশ্য!আবার যখন মাখুলের কাছে সে ইলম থাকার কথা এসেছে তখন অর্থ হয়েছে আল্লাহ্ তা ওনাদেরকে দিয়েছেন।


 রাসুলﷺ পিছন থেকেও দেখতে পান এহাদীসের  ব্যাখ্যায় আল্লামা মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহঃ ওনার মিশকাতের শরাহ্ মিরআতুল মানাজিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবিহ্, ২য় খন্ড, কিতাবুস সালাত, বাবু তাসবিয়াতুস সাফফির ১ম পরিচ্ছেদ ২য় হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন-

‌اس کی شرح پہلے گزر چکی کہ دیکھنے سے مراد آنکھ سے دیکھنا ہے۔ یہ حضور انور صلی اللہ علیہ وسلم کا معجزہ ہے کہ آپ کی آنکھ آگے پیچھے اور پس پردہ اندھیرے اجیالے میں یکساں دیکھتی ہیں۔حق یہ ہے کہ حضور انور صلی اللہ علیہ وسلم کا یہ معجزہ صرف نماز سے خاص نہیں تھا نہ حیات شریف سے۔وہ حدیث کہ میں دیوار کے پیچھے کی چیز نہیں جانتا بالکل بے اصل ہے جیسا کہ شیخ نے فرمایا اور اصلے نیست اور یہ ہو بھی کیسے سکتا ہے حضرت عیسی روح اﷲ فرماتے ہیں کہ جو کچھ تم گھر میں کھا کر بچا کر آتے ہو میں بتاسکتا ہوں،یہ تو حبیب اﷲ کی آنکھ ہے صلی اللہ علیہ وسلم۔

‌এটার (পেছনেও দেখতে পাওয়ার)ব্যাখ্যা আগেই হয়েছে যে,দেখার দ্বারা উদ্দেশ্য চোখের মাধ্যমে দেখা।এটা হুযুর আনওয়ারﷺ'র মু'জিযাহ যে, ওনার চোখ সামনে পেছনে,পর্দার অন্তরালে,অন্ধকার ও আলোতে সমানভাবে দেখেন।আর সত্য এটাই যে,হুযুর আনওয়ারﷺ'র এই মু'জিযাহ্ শুধু নামাযের সাথেই খাস নয়।এবং না শুধু ওনার জীবদ্দশার সাথে খাস। ঐহাদীস যাতে এসেছে- আমি দেয়ালের পেছনে কি আছে জানিনা।এটা অবশ্যই ভিত্তিহীন,যেমনটি শায়খ মুহাক্কিক দেহলভী রাহঃ বলেছেন যে এটা ভিত্তিহীন।এবং এটা কিভাবে হতে পারে যেখানে ঈসা আঃ এর সম্পর্কে কুরআনে এসেছে যে,যা কিছু তোমরা ঘরে খেয়ে থাকো এবং অবশিষ্ট রাখো আমি  তোমাদেরকে সে গুলোর খবর দিতে পারি।আর এটাতো হাবীবুল্লাহর চোখ।ﷺ


আমি আলোচনাকে সামনে বাড়ানোর আগে ঐবিষয়ে কিছু আলোচনা করবো,যা আল্লাহর জররার ইলম।

সূরা আনআমের ৫০নং আয়াত-

‌قُلۡ  لَّاۤ  اَقُوۡلُ لَکُمۡ عِنۡدِیۡ خَزَآئِنُ اللّٰہِ وَ لَاۤ  اَعۡلَمُ الۡغَیۡبَ وَ لَاۤ  اَقُوۡلُ لَکُمۡ  اِنِّیۡ مَلَکٌ ۚ اِنۡ  اَتَّبِعُ  اِلَّا مَا یُوۡحٰۤی  اِلَیَّ ؕ قُلۡ ہَلۡ  یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَ الۡبَصِیۡرُ ؕ اَفَلَا  تَتَفَکَّرُوۡنَ ﴿۵۰﴾ 

‌আপনি     বলে       দিন,     ‘আমি       তোমাদেরকে একথা    বলি    না    যে,    আমার    নিকট    আল্লাহর    ধন  ভাণ্ডার আছে এবং না একথা বলছি যে, আমি নিজে নিজেই     অদৃশ্য     বিষয়ে      জেনে      নিই      ।     আর     না তোমাদেরকে এটা বলছি যে, আমি ফিরিশ্তা হই । আমি তো  সেটারই  অনুসারী, যা আমার  নিকট ওহী আসে।   ‘আপনি    বলুন,   ‘তবে  কি  সমান  হয়ে  যাবে অন্ধ ও চক্ষুষ্মান? তবে কি তোমরা গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করো না ?’ 

এ আয়াতের তাফসীরে ইমাম নিশাপুরী রাহঃ তাফসীরে নিশাপুরীতে লিখেছেন-

يَحْتَمِلْ اَنْ يَّكُوْنَ وَلاَ اَعْلَمُ الْغَيْبَ عَطْفًا عَلَى لاَاَقُوْلُ لَكُمْ اَىْ قَلَ لاَّ اَعْلَمُ الْغَيْبَ فَيَكُوْنُ فِيْهِ دَلاَلَةٌُ عَلَى اَنَّ الْغَيْبَ بِالْاِسْتِقْلاَلِ لاَيَعْلَمُهُ اِلاَّاللهُ.


-‘‘এ আয়াতের অর্থ এও হতে পারে যে, لَااَعْلَمُ বাক্যটি সংযোজক অব্যয় واو এর মাধ্যমে لَااَقُوْلُ لَكُمْ বাক্যটির সহিত সম্পর্কযুক্ত। এতে বলা হয়েছে হে মাহবুবﷺ আপনি বলে দিন যে আমি গায়ব জানি না। তখন গায়ব বলতে সত্ত্বাগত ইলমে গায়বই বোঝা যাবে, যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো আয়ত্বে নেই।’’(৬/১১০পৃ.)

আরো বলা হয়েছে-

‌اَىْ قَلْ لاَاَعْلَمُ الْغََيْبَ فَيَكُوْنُ فِيْهِ دَلاَلَةٌُ عَلَى اَنَّ الْغَيْبَ بِاِسْتِقْلاَلٍ لاَ يَعْلَمُ اِلاَّ اللهُ

-‘‘বলুন, ‘আমি গায়ব জানি না’ এখানে ‘গায়ব’ বলতে সত্ত্বাগত ও স্বয়ং সম্পূর্ণরূপে ‘গায়ব’ জানার কথাই বোঝানো হয়েছে, যেভাবে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।’’

তাফসীরে খাযেনে’ এ আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে-

وَاِنَّمَا نَفَى عَنْ نَفْسِهِ الشَّرِيْفَةِ هَذٍهِ الْاَشْيَاءَ تَوَاضُعًا لِلَّهِ تَعَالَى وَاِعْتِرَافًا لِلْعُبُوْدِيَةِ فَلَسْتُ اَقُوْلُ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ وَلاَ اَدَّعِيْةِ

-‘‘হুযুর আলাইহিস সালাম নিজের পবিত্র সত্ত্বা সম্পর্কে এ সকল বিষয়ের অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন। এটা এ জন্য যে, এতে আল্লাহর নিকট তাঁর অনুনয়- বিনয় ও স্বীয় বন্দেগীর স্বীকারোক্তি প্রকাশ পায়। অর্থাৎ রাসূলﷺ বলেছেনঃ আমি ওসব ব্যাপারে কিছু বলছি না, এবং কোন কিছুর দাবীও করছি না।’’

{ইমাম খাযেনঃ লুবাবুত তা’ভীলঃ ২/১৮০ পৃ.}


তাফসীরে ‘আরাইসুল বয়ানে’ উল্লে­খিত আছে-

وتواضع حين اقام نفسه مقام الانسانية بعد ان كان اشرف خلق الله من العرش الى الثرى واطهر من الكرو بين والروحانيين خضوعا لجبروته وخشو عا لملكوته

-‘‘হুযুরﷺ নিজের সত্ত্বাকে মানুষের নির্ধারিত স্তরে রেখে বিনয়ভাবে প্রকাশ করেছেন। অথচ রাসূলﷺ হচ্ছেন ‘আরশ থেকে পাতাল পর্যন্ত সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। ফিরিশতা এমনকি ‘রূহানীয়ীন’ নামক ফিরিশতাগণের চাইতেও অধিক পবিত্র। আল্লাহর মহান প্রতাপ ও প্রতিপত্তির সামনে অনুনয়-বিনয় ও তাঁর মহান ইলমে গায়বের দাবী সম্পর্কেই অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ রাসুলﷺ বলেছেন- “আমি ইলমে গায়বের অধিকারী বলে দাবী করছি না।”


তাফসীরে কবীরে’ একই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে-

اَىْ لاَاَدَّعِىُ كَوْنِىْ مَوْصُوْفًا بِعِلءمِ اللهِ وَبِمَجْمُوْعِ هَذَيْنِ الْكَلاَمَيْنِ حَصَلَ اَنَّهُ لاَيَدَّعِىُ الْاِلَهِيَّةَ

-‘‘আমি আল্লাহর জ্ঞানে গুণান্বিত হওয়ার দাবী করি না। আয়াতের দু’অংশকে একত্রিত করলে সারমর্ম হয়, হুযুরﷺ খোদা হওয়ার দাবী করেন না।’’

{ইমাম ফখরুদ্দীন রাজীঃ তাফসীরে কবীরঃ ৪/৫৩৮ পৃ.}


তাসফীরে রূহুল বয়ানে’ এ একই আয়াতের তাফসীরে আছে-

عَطْفً عَلَى عِنْدِىْ خَزَائِنُ اللهِ وَلاَمُذَكِّرَةٌُ لِلنَّفِىْ اَىْ وَلاَ اَدَّعِىُ اَنِّىْ اَعْلَمُ الْغَيْبَ مِنْ اَفْعَالِهِ تَعَالَى عَلىَ اَنَّهَا عِنْدِىْ وَلَكِنْ لاَّ اَقُوْلُ لَكَمْ فَمَنْ قَالَ اِنَّ نَبِىَّ اللهِ لَايَعْلَمُ الْغَيْبَ فَقَدْ اَخْطَاءَ فِيْمَا اَصَابَ

অর্থাৎ- عِنْدِىْ خَزَ ائِنَ اللهِ বাক্যটির সাথেই وَلاَ اَعْلَمُ الْغَيْبَ বাক্যটির সম্বন্ধ রয়েছে। এবং لاَ অক্ষরটি এখানে অতিরিক্ত অস্বীকৃতির স্মারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ আমি আল্লাহর কার্যকালাপ সমূহের অদৃশ্য বিষয়াদি জানার এ বলে দাবী করি না যে, আল্লাহর ধনভান্ডার সমূহ তো আমার কাছে আছে, কিন্তু আমি তা’ বলি না।’ সুতরাং, যে ব্যক্তি বলে যে,

হুযুরﷺ গায়ব জানতেন না, সে এ আয়াতের গুঢ় মর্মার্থ অনুধাবনে ভুল করেছে, যদিও সে বাহ্যিক দিক থেকে আয়াতের শাব্দিক অর্থ ঠিকই করেছে।’’

{আল্লামা ইসমাঈল হাক্কীঃ রুহুল বায়ানঃ ৩/৪৫ পৃ.}

হাকীমুল উম্মত আল্লামা মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহঃ ওনার বিখ্যত কিতাব জাআল হক এর ১ম খন্ড, ৯১পৃ. উল্লিখিত দলিল সহ আরো অনেক দলিল উল্লেখের পর বিশ্লেষণ করেন-

 "একটি সূক্ষ্ম তাৎপর্যঃ এ আয়াতের দু’জায়গায় لاَاَقَوْلُ ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম لاَاَقَوْلُ পর দু’টি বিষয়ের কথা উল্লে­খিত আছে। (১) ‘আমি বলছি না, যে আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার আছে।’ এবং (২) ‘এও বলছি না যে আমি গায়ব জানি’ দ্বিতীয় لاَاَقَوْلُ পর মাত্র একটি বিষয়ের উল্লে­খ আছে। তা হলো ঃ ‘আমি বলছি না যে, আমি ফিরিশতা।’ এর তাৎপর্য হলো প্রথমোক্ত দু’টি বিষয়ে শুধু দাবীর অস্বীকৃতিই জ্ঞাপন করা হয়েছে, কিন্তু কথিত বিষয়টির স্বীকৃতি পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ২য় لاَاَقَوْلُ দ্বারা দাবী ও দাবী করার বিষয় উভয়টি সম্পর্কে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডারও আছে, এবং আমি গায়বও জানি, কিন্তু এগুলো ধারক বলে দাবী করি না।"


সূরাঃ আ’রাফ, আয়াতঃ ১৮৮, পারাঃ ৯ ব্যাখ্যায় ইমাম কাযী আয়ায রাহঃ'র আশশিফা বি তা'রিফি হুকুকিল মোস্তফাﷺ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 

‘নাসীমুর রিয়াদ্ব’ নামক গ্রন্থে এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা শিহাবুদ্দীন খিফ্ফাজী (রহ.) বলেন-

‌قَوْ لُهٌ وَلَوْ كُنْتُ اَعْلَمْ اَلغيْبَ فَاِنَّ الْمُنْفِىَّ عِلْمُهُ مِنْ غَيْرِ وَ اسِطَة وَاَمَّا اِطِّلاَعُهُ عَلَيْهِ الْسَلاَمُ بِاِعْلاَمِ اللهِ تَعَالَى فَاَمْرٌُ مُتَحَقُّقُ بِقَّوْلِهِ تَعَالَى فَلاَ يُظُهِرُ عَلَى غَيْبِهِ اَحَدًا اِلاَّمَنِ ارْتَضَى مِنْ رَّسُوْلِ

‌-‘‘অদৃশ্য বিষয়াদির সমর্থন এ আয়াতের وَلَوْ كُنْتَ اَعْلَمَ الْغَيْبَ পরিপন্থী নয়। কেননা, এখানে মাধ্যম বিহীন অর্জিত অদৃশ্য জ্ঞানকেই অস্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ কর্তৃক জানানোর ফলশ্রুতিতে হুযুর আলাইহিস সালামের গায়ব জানার বিষয়টি যথার্থরূপে প্রতিষ্ঠিত সত্য। কারণ, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- فَلاَ يَظْهَرُ عَلَى غَيْبِهِ (আল্লাহর নিজের অদৃশ্য বিষয়াদি কারো নিকট প্রকাশ করেন না।) এখানে আল্লাহর জানা যাবতীয় বিষয় সম্পর্কিত জ্ঞানের অস্বীকৃতিই জ্ঞাপন করা হয়েছে।’

{ইমাম শিহাবুদ্দীন খিফ্ফাজীঃ নাসীমুর রিয়াদ্ধঃ ৩/১৫০ পৃ.}


‘সাবী’ হাশিয়ায়ে জালালাইনে এ আয়াত প্রসঙ্গে লিখা হয়েছে-

اِنْ قُلْتَ اَنَّ هَذَا يَشْكِلُ مَعَ مَاتَقَدَّمَ مِنْ اَنَّهُ اُطُّلِعَ عَلَى جَمِيْعِ مُغَيِّبَاتِ الدُّنْيَا وَالْاَخِرَةِ فَالْجَوَابُ اَنَّهُ قَالَ ذَالِكَ تَوَاضُعًا

-‘‘যদি আপনারা বলেন, এ আয়াতটি পূর্বোল্লেখিত বক্তব্যের বিপরীত তাহলে এর উত্তর হবেঃ এ উক্তিটা করা হয়েছে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশের নিমিত্তে।’’

{ইমাম সাভীঃ তাফসীরে সাভীঃ ২/১৮৫পৃ.}


 ‘আল্লামা সুলাইমান জুমাল (রহমতুল্লাহে আলাইহে) ‘ফুতুহাতে ইলাহিয়া’ নামক হাশিয়ায়ে জালালাইনের’ ২য় খন্ডের ২৫৮ পৃষ্ঠায় বলেছেনঃ

اَىْ قُلْ لاَّاَعْلَمُ الْغَيْبَ فَيَكُوْنُ فِيْهِ دَلاَلَةٌُ عَلَى اَنَّ الْغَيْبَ بِالْاِسْتِقْلاَلِ لاَيَعْلَمُ اِلاَّاللهُ

অর্থাৎ বলে দিন, আমি গায়ব জানি না। অতএব, আয়াত থেকে ইহাই বোঝা যায় যে, সত্ত্বাগতভাবে গায়বী বিষয়াদি নাজানার কথাই ব্যক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সত্ত্বাগতভাবে খোদা ব্যতীত আর কেউ গায়বী বিষয়াদি জানে না।

{আল্লামা সুলায়মান জুমালঃ ফুতুহাতে ইলাহিয়্যাহঃ ২/২১৭ পৃ.}

গত পর্বের লিঙ্ক:-https://m.facebook.com/groups/158527080857207?view=permalink&id=3461299897246559

চলবে......................


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ