Ticker

6/recent/ticker-posts

গুম্বদ নামা

 



শায়খুল ইসলাম আ'লা হযরত ইমাম শাহ্ আহমদ রেযা রাহঃ'র প্রতি অপবাদের জবাব! পর্ব-৩৮


গুম্বদ নামা

গুম্বদ ইসলামী সাংস্কৃতির একটি সুন্দর নিদর্শন।মসজিদ,খানকাহ,মাদ্রাসা,মাযার ইত্যাদীতে গুম্বদের ব্যবহার হয়ে থাকে।তবে অতীতে মুসলমান শাসকরা তাদের প্রশাসনিক বিভিন্ন দালান থেকে  শুরু করে তাদের নিজ মহলেও গুম্বদের ব্যবহার করতেন সব সময়।


যুগে যুগে গুম্বদের সৌন্দর্য উৎকর্ষতা সাধিত হয়েছে।এবং বিভিন্ন দেশ তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখেও গুম্বদের বাহারী নকশা এবং বিবর্তন হয়েছে।

কোনো কোনো সাধক প্রেমিক প্রেমাস্পদের রঙ্গে রঞ্জিত হয়েছেন।

আমার আজকের লেখাটা মূলতঃ গুম্বদের বিবর্তন নিয়ে নয় বরং এমন একটি গুম্বদ নিয়ে যার নকশা নিয়ে সুন্নিয়তের লেবাস পরিহিত একটি বাতিল সম্প্রদায় সব সময় কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকে।


১২শ হিজরীর সময়কালে পৃথিবীতে এমন এক জঘন্য ফিতনার উদ্ভব হয়, যা অতীত যুগের সকল ফিতনার ধারকতো বটেই,তবে আরো বিস্তৃত এবং নিকৃষ্ট নাপাক আকীদার প্রচলন তারা করেছিলো।আর ঐ নাপাক মতবাদ আরব ভূমিতে উদয় হয়ে বৃটিশ কুটকৌশলে সেটা ধর্মীয় আলখেল্লার আড়ালে রাষ্ট্রীয় শক্তি অর্জন করে ফেলে।আর সেখান থেকে ঐ মতবাদ সৈয়দ আহমদ রায় বেরলভী এবং ইসমাঈল দেহলভীর হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে আমদানী হয়।সেখান থেকে আহলে হাদীস এবং দেওবন্দী বালাকোটি রুপ নিয়ে ত্রিমাতৃক ধর্মীয় চদ্মাবরণে মানুষের মনমগজে ফিতনার বিষবৃক্ষের ডাল-পালা ছড়িয়ে মুসলমানকে মুশরিক,কাফির,মুনাফিক,বিদআতী,পূজারী ইত্যাদী অপবাদ দিয়ে হেনস্তা করা শুরু হয়ে যায়।

১২শ বছর পুরোনো ধর্মীয় চেতনায় নতুন বাতিল আকীদা দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা চলতে থাকে। ইসলামী বিশ্ব যখন ক্রান্তিকালে ভ্রান্তির বেড়াজালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায় তখনই হাদীস শরীফের ঘোষণা অনুযায়ী ১৪শ শতাব্দীর মুজাদ্দিদের আবির্ভাব ঘটে।আর তিনি হলেন ইমাম শাহ্ আহমদ রেযা হানফী কাদেরী রাহঃ।


তিনি সকল বাতিল ফির্কার গর্দানে হায়দারী যুলফিকার তরবারী চালিয়ে তাদের সকল নাপাক আকীদাকে আবর্জনার ডিপুতে নিক্ষেপ করে দিশেহারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শের সকল মুসলমানকে ইসলামের শাশ্বত রুপ রেখার পথ দেখালেন।জ্ঞান-বিজ্ঞানের ৭২টি শাখার উপর দেড় হাজারের অধিক গ্রন্থ রচনা করে,বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে,নসিহতের মাধ্যমে মুসলমানকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শে লালিত হওয়ার পথ বাতলে দেন।

তৎকালীন বৃটিশ শাসনামলে তিনি মুসলমানদেরকে নিজেদের মধ্যকার যেসব বিরোধ নিজেরা বসে সমাধান করতে পারবে, সেগুলো নিয়ে বৃটিশ আদালতে নাগিয়ে নিজেরাই সমাধানের কথা বলেছিলেন! এবং যেসব বিরোধ নিয়ে ঐক্যমত্যে আসতে নাপারে,সেগুলো নিয়েও অযথা বৃটিশ আদালতে গিয়ে সময় এবং টাকা-পয়সার অপচয় নাকরে,ইসলামী বিজ্ঞ আলিমের শরণাপন্ন হওয়ার উপদেশ দেন।


কিন্তু এই মহান ইমামকেও বাতিল পন্থিরা বিভিন্ন তোহমত দিয়ে হেয় করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে।ওনার সময়েও অনেক চেষ্টা করা হয়েছিলো ওনাকে অপদস্ত করতে।এমনকি রাষ্ট্রীয় শক্তির সাহায্যেও ওনাকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিলো।ইলমি ময়দানে হিংসুক আর নিন্দুকের দল,বাতিল অপশক্তি বার বার ওনার কাছে পরাজিত হয়ে বার বার ওনাকে বিতর্কিত করতে অপতৎপরতা চালিয়েছে।কখনও ওনার বিরুদ্ধে রাজশক্তিকে ক্ষেপিয়ে,কখনও রাজশক্তির কাছে মাথানত করানোর,কখনও বৃটিশ আদালতে নিয়ে যাওয়ার হীন প্রচেষ্টা হয়েছে।কিন্তু আল্লাহ্‌ এই মহান ইমামকে রক্ষা করেছেন সকল অপশক্তি থেকে।এবং তিনি অটল পাহাড় হয়ে দাড়িয়েছিলেন,কেউ পারেনি ওনাকে মাথানত করাতে।কিন্তু তারপরও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র, এবং অপবাদ আরোপকারীদের অপবাদ থেমে থাকেনি।ওনার ওফাতের পরও সেটা অব্যাহত থাকে।এখনতো সেটা আরো বৃহত পরিসরে চালু হয়েছে!

কখনও ওনার কিতাব দেখিয়ে ইহুদী ষ্টাইলে কিতাবের ইবারতের পূর্বাপর অংশ লুকিয়ে মাঝখান থেকে দেখিয়ে বলা হয় এটা অমুক নবীর শানে গোস্তাখী,কখনও কিতাবের একটি লাইনের তিন ভাগের এক ভাগ পড়ে বলা হয় এটাতে বৃটিশের ওকালতি আছে।কখনও কিতাবের ইবারতের তাহরিফ করে বলা হয় এটা আমাদের নবীর শানে গোস্তাখী।কখনও আল্লাহর শানে,কখনও ইমাম আযমের শানে।কখনও বলা হয় পিতার ফতোয়ায় ছেলে কাফির!ইত্যাদী ইত্যাদী।

কিন্তু কিতাব খোলার পর আর সত্যতা পাওয়া যায়না।ফেইসবুকে, ইউটিউবে ভিডিও আপলোড দিয়ে আস্ফালন করা হয় -আমরা কিতাব দেখিয়ে কথা বলি😀😀😀।কিন্তু কিতাব দেখানোটা কতটা খতরনাক হতে পারে সেটাও তারা এখন দেখছে।দেখা যায় পয়সা কামানোর মতলবে সুন্নির একটা লেবাস পরিধান করে দেওবন্দী-ওহাবী-বালাকোটি-আহলে হাদীস সালাফী মতবাদ ওয়ালাদের থেকে ধারকৃত পচা অভিযোগ গুলোই ওদের পূজি!আরো দেখা যায় এখন সুন্নি নামের অন্তরালে তাদেরকে সেই খারেজী-ওহাবী-বালাকোটি-দেওবন্দী-সালাফী নাপাক মতবাদ প্রচারে নামতে।


ওরা ওনার মাযার শরীফের গুম্বদ নিয়ে শুরু করে দিয়েছে বিতর্ক হিংসার আগুনে পুড়ে মরা সম্প্রদায়!ওনার উপর হাজারো অপবাদেও যখন কিছুই হলোনা।তখন এই বাতিল অপশক্তি টার্গেট  করেছে ওনার মাযার শরীফের গুম্বদকে।তারা এই গুম্বদের নকশা নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে চলেছে।ওনার পদাঙ্ক অনুসারীদেরকে তারা জেব্রা বলে বিদ্রুপ করে।কিন্তু এসব মাথা মোঠা হিংসার অনলে জ্বলতে থাকা খবিসেরা কখনও চিন্তা করার সময়ই পায়নি যে আসলে এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোথায় গিয়ে লাগছে!


আ'লা হযরত ইমাম শাহ্ আহমদ রেযা কাদেরী রাহঃ'র মাযার শরীফের গুম্বদে যে নকশা রয়েছে,সেটা মূলতঃ আমাদের আকা সরওয়ারে কায়েনাত হুযুর মুহাম্মদ মোস্তাফাﷺ'র মদিনায়ে তৈয়বার অনুসরনে করা হয়েছে।সারাজীবন যার ইশক আর মোহাব্বতে তিনি জ্বলেছেন,যার শানও মানের ঝাণ্ডা তিনি উচিয়ে ধরেছিলেন ওফাতের পর তারইﷺ'র বিশ্রামগাহের যে মিনারা রয়েছে সবগুলোতেই যে নকশা রয়েছে,এমনকি মসজিদে নবভী শরীফের  ভিতরেও যে নকশা রয়েছে তারই অনুকরণ করা হয়েছে ইমাম আহমদ রেযা রাহঃ'র গুম্বদ শরীফে!এবিষয়ে আমার আরো একটি লেখা ছিলো।তারপরও বিবেকের তাগিদে আবারও লিখলাম।

একবার ভাবুন হিংসা আর শত্রুতা মানুষকে কত নীচে নামিয়ে দেয়!গুম্বদে আ'লা হযরত নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে গিয়ে মূলতঃ স্বজ্ঞানে বা জিহালতের কারণে অপবাদটা আকাﷺ'র আরামগাহের দিকেই শত্রুতার তীর নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

অপবাদ আরোপকারীরা কি মসজিদে নবভীকেও জেব্রা বলে গালমন্দ করতে চায়?

আপনারা আ্যলবামে প্রদত্ত মসজিদের নবভীর মিনারা এবং ভেতরকার নকশা দেখুন এবং আ'লা হযরতের গুম্বদের নকশাও দেখুন।আসলে নকশাটা হলো- الله এটাকেই একটি ডিজাইনে রুপ দেয়া হয়েছে মাত্র!

বলুন!তারা কি নিয়ে কুমন্তব্য করছে?নামটা কার?ওরা কাকে জেব্রা বলে ঠাট্রা করছে?!?

আ'লা হযরতের পবিত্র চরিত্রে হাজারো কুরুচিপূর্ণ অপবাদ দিয়েও তারা শান্তি পেলনা,ওনার গুম্বদ নিয়েও তারা কুমন্তব্য শুরু করে দিলো!!!

আল্লাহ্‌ পাক সুন্নিয়তের লেবাসে লুকিয়ে থাকা বাতিল সম্প্রদায় এবং ইসলামী আলখেল্লা পরিধানকারী ইবলিসের সিপাহীদের হাত থেকে আমাদের ঈমান আকীদা ও আমলকে হিফাজত করুন!

তাদের নাপাক অপবাদের তীর থেকে আমাদের আকাবেরগণের মর্যাদাকেও হিফাজত করুন!

আল্লাহ্‌ পাকﷻ হিংসায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়া সম্প্রদায়কে হিদায়াত নসিব করুন!

ইমাম আহমদ রেযার রাহঃ'র শত্রুদের হালাক করুন।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ