♦⭕যে সকল বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ গন আলা হযরত,ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন মিল্লাত,ঈমাম আহমাদ রেযা খাঁন বেরলভী (রহঃ) সম্পর্কে অভিমত ব্যাক্ত করেছেন:
★★১.আল্লামা হেদায়াতুল্লাহ সিন্দী মোহাজির মাদানী বলেন: "তিনি (আ’লা হযরত) একজন প্রতিভাধর, নেতৃত্ব দানকারী আলেম, তাঁর সময়কার প্রখ্যাত আইনবিদ এবং নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর সুন্নাহর দৃঢ় হেফাজতকারী, বর্তমান শতাব্দীর পুণরুজ্জীবন দানকারী, যিনি “দ্বীনে মতিন” এর জন্য সর্বশক্তি দ্বারা আত্মনিয়োগ করেছিলেন,যাতে শরীয়তের হেফাজত করা যায়।“আল্লাহর পথের” ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণকারীদের ব্যঙ্গ বিদ্রুপের প্রতি তিনি তোয়াক্কা করেননি।
** তিনি দুনিয়াবী জীবনের মোহ সমূহের পিছু ধাওয়া করেননি বরং রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর প্রশংসা সূচক বাক্য রচনা করতেই বেশি পছন্দ করেছিলেন। হুজুর পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর প্রেমের ভাবোন্নাত্বতায় তিনি সর্বদা মশগুল ছিলেন বলেই প্রতীয়মান হয়।
** সাহিত্যিক সৌন্দর্যমন্ডিত ও প্রেম ভক্তিতে ভরপুর তাঁর“নাতিয়া পদ্যের” মূল্য যাচাই করা একেবারেই অসম্ভব। দুনিয়া এবং আখেরাতে তাঁর প্রাপ্ত-পুরষ্কারও ধারণার অতীত। মওলানা আব্দুল মোস্তফা শায়েখ আহমদ রেযা খাঁন-হানাফী কাদেরী সত্যিই পান্ডিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ খেতাব পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহ তাঁর হায়াত দারাজ করুন।
[১৯২১ সালের প্রদত্ত বক্তব্য, তথ্যসূত্রঃ মা’আরিফে রেযা করাচী, ১৯৮৬খ্রিঃ পৃষ্ঠা নং-১০২]
★★২.জিয়াউল মাশায়েখ আল্লামা মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফারুকী মোজাদ্দেদী, কাবুল, আফগানিস্তানঃ তিনি বলেন- "নিঃসন্দেহে মুফতী আহমদ রেযা খাঁন বেরলভী ছিলেন একজন মহাপন্ডিত।মুসলমানদের আচার আচরণের নীতিমালার ক্ষেত্রে তরীকতের স্তরগুলো সম্পর্কে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি ছিল। ইসলামী চিন্তা-চেতনার ব্যাখ্যা করেন জ্ঞান সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টি-ভঙ্গি উচ্চসিত প্রশংসার দাবীদার।
**ইসলামী আইনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মৌলনীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরিশেষে, একথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, এ আক্বিদা বিশ্বাসের মানুষের জন্য তাঁর গবেষণাকর্ম আলোকবর্তিকা হয়ে খেদমত আঞ্জাম দেবে”।
[মকবুল আহমদ চিশতি কৃত পায়গামাতে ইয়াওমে রেযা,লাহোর,পৃঃ১৮]
★★৩.অধ্যাপক ডঃ মহিউদ্দিন আলাউয়ী, আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর: তিনি বলেন-"একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে যে, বিদ্যায় প্রতিভা ও কাব্যগুণ কোন ব্যক্তির মাঝে একসাথে সমন্বিত হয় না। কিন্তু আহমদ রেযা খাঁন ছিলেন এর ব্যতিক্রম।তাঁর কীর্তি এ রীতিকে ভুল প্রমাণিত করে। তিনি কেবল একজন স্বীকৃত জ্ঞান বিশারদই ছিলেন না বরং একজন খ্যাতমানা কবিও ছিলেন”।
[সাওতুশ শারক,কায়রো, ফেব্র“য়ারী ১৯৭০, পৃঃ ১৬/১৭]
★৪.শায়খ আবদুল ফাততাহ আবু গাদ্দা,ইবনে সৌদ বিশ্ববিদ্যালয় রিয়াদ, সৌদি আরবঃ তিনি বলেন-“একটি ভ্রমনে আমার সাথে এক বন্ধু ছিলেন।যিনি ফতোয়ায়ে রেযভীয়া (ইমাম সাহেবের ফতোয়া) গ্রন্থখানা বহন করছিলেন। ঘটনাচক্রে আমি ফতোয়াটি পাঠ করতে সক্ষম হই। এর ভাষার প্রাচুর্য, যুক্তির কীক্ষতা এবং সুন্নাহ ও প্রাচীন উৎস থেকে প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতিসমূহ দেখে আমি অভিভূত হয়ে যাই।আমি নিশ্চিত- এমনকি, একটি ফতোয়ার দিকে এক নজর চোখ বুলিয়েই নিশ্চিত যে-এই ব্যক্তিটি বিচারবিভাগীয় অন্তর্দৃষ্টি সমৃদ্ধ একজন মহাজ্ঞানী আলেম”।
[ইমাম আহমদ রেযা আরবার ইত্যাদি, পৃঃ-১৯৪]
★৫. আল্লামা আলাউদ্দিন সিদ্দিকী, উপাচার্য, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, পাকিস্তানঃতিনি বলেন- বিভিন্ন ধর্মের মাঝে দ্বীন ইসলাম যেমন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট মন্ডিত, ঠিক তেমনি মুসলমান চিন্তাবিদদের বিভিন্ন ধারায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। এমন এক সময় ছিল- যখন ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো অবহেলিত ও উপেক্ষিত হচ্ছিল। সেই দুর্যোগময় মহাসংকট সন্ধিক্ষনে ইমাম আহমদ রেযা খাঁনের আগমন। তিনি সংগ্রাম করে সেগুলোকে স্বমর্যাদায় পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করেন। আলা হযরত ছিলেন প্রকৃত অর্থেই ইমামে আহলে সুন্নাত। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত- তার শিক্ষা অনুসরণ করা।
[আবদুন্নবী কাওকাব প্রণীত মাকালাতে ইয়াওমে রেযা ১১তম খন্ড, ১৯৬৮]
★৬. ডঃ হাসান রেযা খাঁন আযমী, পাটনা, ভারতঃ তিনি মন্তব্য করেন- ফতোয়ায়ে রেযভীয়া আলা হযরতের জ্ঞানদীপ্ত গবেষণাকর্ম। তা অধ্যয়ন করে আমি তাঁর নিম্নলিখিত বিভিন্নমুখী প্রতিভার পরিচয় পেয়েছি।
*(ক.) আইনবিদ হিসাবে তার আলোচনা পর্যালোচনা তাঁর সুদূর প্রসারী ভাবনা, গভীর অন্তদৃষ্টি, জ্ঞান, বিচক্ষণতা ও তুলনাহীন পান্ডিত্যকে প্রতিফলন করে।
*(খ.) আমি তাঁকে একজন উচু মাপের ইতিহাসবিদ হিসাবে পেয়েছি- যিনি আলোচ্য বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন দেয়ার জন্য বহু ঐতিহাসিক ঘটনা উদ্ধৃত করতে সক্ষম ছিলেন।
*(গ.) আরবী ব্যাকরণ ও অভিধানের পাশাপাশি নাতিয়া পদ্যের পংক্তিতে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ বলেই দৃশ্যমান হচ্ছে।
*(ঘ.) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস সমূহের যৌক্তিক ব্যাখ্যা করার সময় তাঁকে হাদীস শাস্ত্রের একজন বিজ্ঞ পন্ডিত বলেই পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে।
*(ঙ.) তার বিভিন্ন কর্মে তাঁকে শুধু একজন প্রখ্যাত আইনবিদই নয়, বরং অসাধারণ পদার্থবিদ, জ্যোতিবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, দার্শনিক, ভাষাতত্ববিদ ও ভূগোলবিদ হিসাবে পাওয়া যায়- যেখানে তাঁর বিশেষজ্ঞ মতামত বিষয়াবলীর সুক্ষাতিসুক্ষ্ণ বিশ্লেষণ নিয়ে ব্যাপৃত।
[ডঃ হাসান রেযা খাঁ কৃত “ফকীহে ইসলাম” এলাহাবাদ, ১৯৮১]
★৭. স্যার জিয়াউদ্দিন, ভাইস চ্যান্সেলর, আলীগড় মুসিলম বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত: তার ভাষ্য হলো- শিষ্ঠাচার ও উন্নত নৈতিকতা সমৃদ্ধ কোন ব্যক্তি যখন কোন শিক্ষকের দ্বারা শিক্ষিত না হয়েই গণিত শাস্ত্রে গভীর অন্তদৃষ্টি ধারণ করেন, তখন তা খোদা প্রদত্ত জন্মগত বৈশিষ্ট্যই বটে। আমার গবেষণাকর্ম ছিল একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান সম্পর্কে। কিন্তু ইমাম সাহেবের পদ্ধতি ও ব্যাখ্যাবলী ছিল স্বতঃস্ফুর্ত- যেন বিষয়টি সম্পর্কে তার গভীর গবেষণা রয়েছে। ভারতে এত প্রসিদ্ধ ব্যক্তি আর নেই। এত উচু মাপের জ্ঞানী ব্যক্তি আমার মতে আর কেউ নেই। মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর মাঝে এমন জ্ঞান নিহিত রেখেছেন যা সত্যি বিস্ময়কর। গণিত, ইউক্লিড, অ্যালজেব্রা ও সময় নির্ণয় ইত্যাদির ক্ষেত্রে তাঁর গভীর দৃষ্টি অত্যন্ত বিস্ময়কর। একটি গাণিতিক সমস্যা যা আমি সর্বাত্তক চেষ্টা করেও সামাধান করতে পারিনি, তা এই জ্ঞানী ব্যক্তিটি কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাখ্যা করে দিলেন।
[মোহাম্মদ বুরহানুল হক রচিত একরামে ইমাম আহমদ রেযা, লাহোর, পৃষ্টা- ৫৯-৬০]
★অন্যান্য ধর্মাবলম্বী পন্ডিতবর্গের অভিমত***************
*(১.) ডঃ বারবারা, ডি, ম্যাটকাফ, ইতিহাস বিভাগ বারকলী বিশ্ববিদ্যালয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: তিনি বলেন- “ইমাম আহমদ রেযা খাঁন তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই অসাধারণ ছিলেন।গণিতশাস্ত্রে তিনি গভীর অন্তর্দৃষ্টির একটি ঐশীদান প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
কথিত আছে যে, তিনি ডঃ জিয়াউদ্দিনের একটি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন- অথচ এর সমাধানের জন্য ডঃ জিয়াউদ্দিন জার্মান সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন”।
[মা’আরিফে রেযা ১১তম খণ্ড, আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ, ১৯৯১ পৃ:-১৮]
*(২.) অধ্যাপক ডঃ জে, এম, এস, বাজন-ইসলাম তত্ত্ব বিভাগ, লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়, হল্যান্ডঃ ডঃ মাসউদ আহমদের নিকট লিখিত তাঁর বক্তব্য হলো- “ইমাম সাহেব একজন বড় মাপের আলেম। তাঁর ফতোয়াগুলো পাঠের সময় এই বিষয়টি আমাকে পুলকিত করেছে যে- তাঁর যুক্তিগুলো তাঁরই ব্যাপক গবেষণার সাক্ষ্য বহন করছে। সর্বোপরি- তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভারসাম্যপূর্ণ।আপনি (ডঃ মাসউদ আহমদ) সম্পূর্ণ সঠিক। পাশ্চাত্যে তাঁকে আরো অধিক জানা ও মুল্যায়িত করা উচিত- যা বর্তমানে হচ্ছে”।
[ডঃ মাসউদ আহমদকে প্রেরিত পত্র, তাং-২১-১১-৮৬ হতে সংগৃহীত]
**অন্যান্য আলেম-ওলামাদের মন্তব্য**
★১. মুফতি মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহী দেওবন্দী 'সুলুক ইনসান'গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ঈমাম আহমদ রেযা খাঁন সাহেবের মধ্যে এত বেশী ইশকে রাসূল ছিল যে,হয়তো এই মুহব্বতের ওসিলায় আল্লাহ তায়ালা তাঁকে মাগফিরাত দান করবেন।"
[সুলুক ইনসান,পৃঃ২৪২]
★২. মৌলভী গোলাম ইয়াযদানী সাহেব (ফাযিলে মাদ্রাসা-ই-মাযহারুল উলুম, সাহারানপুর, ভারত, খতিব, জামে মসজিদ গোন্দলমন্ডি, আটক; আশরাফ আলী থানভীর ঘটনা বলেন- “ঐ হযরতের মাহফিলে কোন এক ব্যক্তি আলোচনা প্রসঙ্গে মাওলানা আহমদ রেযা খান সাহেব বেরলভীর নাম মাওলানা ছাড়াই শুধু আহমদ রেযা খান বলেছিলো। তখন হাকীমুল উম্মত মৌলভী আশ্রাফ আলী থানভী তাকে খুব তিরস্কার করলেন বকুনি দিলেন।”
*মৌলভী আশারাফ আলী থানভী আরো বলেছেন- “আমার অন্তরে মাওলানা আহমদ রেযার প্রতি সীমাহীন ভক্তি শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি আমাদেরকে কাফির বলেন। তাও কিন্তু ইশকে রাসুল (দরুদ) এঁর ভিত্তিতেই বলে থাকেন অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তো বলেন না।
[চটান লাহোর ২৩শে এপ্রিল ১৯৬২ ইং সংখ্যা আলা হযরতকা ফিকহী মকাম লাহোর মুদ্রিত ১৯৭১ ইং পৃষ্ঠা-১১০]
*এছাড়াও তিনি (আশরাফ আলী থানভী) বলেছেন- সুযোগ হলে আমি মৌলভী আহমদ রেযা খান সাহেব বেরলভীর পেছনে (ইমামতিতে) নামায পড়ে নিতাম।
[মুহাম্মদ বাহাউল হক কাসেমী উসইয়া-ই-আকাবির, লাহোর;মুদ্রিত ১৯৬২ ইং পৃ:১৫]
*মাওলানা আশরাফ আলী থানভী সাহেব বলেন "আমার যদি সুযোগ হতো, তাহলে আমি মৌলভী আহমাদ রেজা খাঁন বেরলভীর পিছনে নামাজ পড়ে নিতাম।
[উসওয়ায়ে আকাবির- পৃঃ ১৮]
*তিনি আরো বলেন "তাঁর সাথে আমাদের বিরোধিতার কারণ বাস্তবিক পক্ষে ‘হুব্বে রাসূল’ (নবীপাকের ভালবাসা)-ই। তিনি আমাদেরকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বেয়াদবী প্রদর্শনকারী (গোস্তাখে রাসূল) মনে করতেন।"
[আশরাফুস্ সাওয়ানিহ্, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-১২৯]
★৩. মুফতী মুহাম্মদ শফী (করাচী)
বলেন- “যখন হযরত মাওলানা আহমদ রেযা খান সাহেবের ওফাত হলো তখন মৌলভী আশরাফ আলী থানভীকে কেউ এসে খবর দিলেন। মৌলভী থানভী দোয়ার জন্য হাত উঠিয়ে দিলেন। সে দোয়া শেষ করলে মজলিসে উপস্থিতদের একজন বললো তিনি সারা জীবন আপনাকে কাফের বলেছেন। আর আপনি তাঁর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করছেন?
* তিনি বললেন- মাওলানা আহমদ রেযা খান আমাদের উপর কুফরের ফতোয়া এজন্য আরোপ করেছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করতেন যে, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর মানহানি করেছি। যদি তিনি ইয়াক্বীন বা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখা সত্বেও আমাদের উপর কাফির ফতোয়া আরোপ না করতেন তাহলে তিনি নিজেই কাফির হয়ে যেতেন।
[ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী কুদ্দিসা সিররুহু এক-হামাহ জিহাত শাখসিয়াত করাচী পৃষ্টা-১৮ ও ১৯]
★যখন আ’লা হযরত ইহধাম ত্যাগ করেছেন, তখন কোন একজন মাওলানা আশরাফ আলী থানভীকে সংবাদ দিলে শুনামাত্রই তিনি আ’লা হযরতের জন্য মাগফেরাত কামনা করেন। জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মাওলানা আহমদ রেজা খাঁনতো আপনাকে কাফের মনে করতেন।
**অথচ আপনি তাঁর মাগফিরাত কামনা করছেন। তিনি বলেন, আহমাদ রেযা আমাকে এজন্যই কাফের মনে করতেন, যেহেতু আমি তাঁর দৃষ্টিতে গোস্তাখে রাসূল ছিলাম। তিনি একথা জানার পরও যদি কাফের না বলেন, তিনি নিজে কাফের হয়ে যাবেন।[দৈনিক রাওয়ালপিন্ডি, ১লা নভেম্বর ১৯৮১]
★৪. মৌলভী মুহাম্মদ ইদ্রিস কান্ধলভী বলেন- "মাওলানা আহমদ রেযা খান-এর মাগফিরাত তো ঐসব ফতোয়ার কারণেই হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলবেন আহমদ রেযা খান তোমার মধ্যে আমার রাসুল (দরুদ) এঁর প্রতি এত মহব্বত ছিল যে, এত বড় বড় আলেমদেরকেও তুমি ক্ষমা করোনি।তুমি মনে করেছো যে তারা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর মানহানি করেছে। সুতরাং তুমি তাদের প্রতিও কুফরের ফতোয়া আরোপ করেছো। যাও এক আমলের উপর আঁমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।"
[ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী কুদ্দিসা সিররুহু এক-হামাহ জিহাত শাখসিয়াত করাচী পৃষ্টা-১৮ ও ১৯]
★৫. মৌলভী এযায আলী দেওবন্দী বলেন- "এ যুগের মধ্যে যদি কোনো মুহাক্বিক্ব (সুদক্ষ) আলেমে দ্বীন থাকেন তবে তিনি হলেন আহমদ রেযা খান বেরলভী। কেননা আমি মাওলানা আহমদ খানকে যাঁকে আমরা আজ পর্যন্ত কাফির বিদআতী ও মুশরিক বলে বেড়াচ্ছি, অত্যন্ত প্রশস্ত দৃষ্টিসম্পন্ন উন্নত মানসিকতার অধিকারী, অদম্য সাহসী, আলিমে দ্বীন এবং মহান চিন্তাবিদ হিসেবে পেয়েছি।
*তাঁর উপস্থাপিত দলিলাদি ক্বোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী নয় বরং পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কাজেই আমি আপনাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি যদি আপনারা কোন জটিল মাসআলার কারণে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হন, তবে বেরেলী গিয়ে মাওলানা আহমদ রেযা খান সাহেব বেরেলভীর নিকট সমাধান প্রার্থী হোন।
[রিসালাহ ই আন নূর থানাভূন,পৃ:৪০, শাওয়াল ১৩৪২ হিঃ]
★৬. মৌলভী শাব্বির আহমদ ওসমানী বলেন- মাওলানা আহমদ রেযা খানকে “তিনি কাফের ফতোয়া দেন” মর্মে অপবাদ দিয়ে মন্দ বলা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। কেননা, তিনি খুব বড় আলেমে দ্বীন, উচ্চ পর্যায়ের মুহাক্কিক্ব (সুদক্ষ) ছিলেন।
[রিসালাহ ই হাদী দেওবন্দ, ২০ পৃষ্ঠা জিলহজ্ব ১৩২৯ হিঃ]
★৭. মৌলভী আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী বলেন- বাস্তবিকই বেরলভী হযরতগণের ইমাম মাওলানা আহমদ রেযা সাহেবের লেখনী নির্ভুল ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
[রিসালাহ -ই-দেওবন্দ ২১ পৃষ্ঠা জুমাদালউলা ১৩৩০ হিঃ]
★৮. মৌলভী সৈয়দ মুহাম্মদ সুলায়মান নদভী আলা হযরতের কিতাব পড়ে বলেন "ইনি তো বিদআতীদের নেতা নন; বরং তিনি তো ইসলামী বিশ্বেরই স্কলার ও কর্ণধার পরিলক্ষিত হচ্ছেন। মাওলানা মরহুমের লেখনীতে যে পরিমাণ গভীরতা পাওয়া যাচ্ছে সেই পরিমাণ গভীরতা তো আমার সম্মানিত ওস্তাদ জনাব মাওলানা শিবলী সাহেব হযরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী, হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী এবং হযরত মাওলানা শায়খুত তাফসীর আল্লামা শাব্বীর আহমদ ওসমানীর কিতাব গুলোতেও নেই। [মাহনামা-ই-নদওয়াহ: আগষ্ট ১৯১৩ ইং পৃঃ ১৭]
★৯. মৌলভী আবুল হাসান আলী নদভী বলেন হানাফী ফিকহ ও এর শাখা প্রশাখা সম্পর্কে জ্ঞানানুসারে এ যুগে তাঁর (আলা হযরত) সমকক্ষ পাওয়া যায় না।উপরোল্লিখিত দেওবন্দী ওলামাদের বক্তব্যে প্রমাণিত হয় যে,আলা হযরত ফিক্বহীজ্ঞানে অত্যন্ত সুদক্ষ ছিলেন এছাড়াও তিনি নিজ আকীদায় সত্য ছিলেন।
*অতএব বর্তমান দেওবন্দীদের উচিত আলা হযরতকে গালি না দিয়ে সানন্দচিত্তে গ্রহণ করে মুরুব্বীদের অনুসরণ করা। আল্লাহ তাদের হেদায়াত দান করুক। আমিন।দেওবন্দী আলেমগণ ও যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
[ কৃতঃ আলামা সৈয়দ সাবের হোসাইন শাহ বোখারী থেকে সংকলিত।]
★১০. আল্লামা আতা মোহাম্মদ বানদইয়ালভী,সারগোদা,পাকিস্তানঃ
তিনি মন্তব্য করেন- হযরত বেরেলভী (রহঃ) সহস্রাধিক কিতাব লিখেছেন। তিনি প্রতিটি বিষয় সম্পর্কেই বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেছেন। কিন্তু তার সার্বক্ষনিক উজ্জ্বল কর্ম হলো কোরআন মজিদের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা মূলক গ্রন্থ “কানযুল ঈমান” -যার তুলনা নেই। এই মহা সৌধসম কর্মের মূল্যায়ন শুধু সেই সকল জ্ঞান বিশারদই করতে পারবেন- যাদের উর্দ্দু ভাষায় লিখিত অন্যান্য অনুবাদ ও ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থের তুলনামূলক গভীর জ্ঞান আছে।
[পয়গামাতে ইয়াওমে রেযা,৪৭]
★১১. আবুল আ’লা মওদুদী বলেন- মাওলানা আহমাদ রেজা খাঁন মরহুম মগফুর আমার দৃষ্টিতে একজন অসাধারণ জ্ঞানী ও দূরদর্শীতার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তিনি মুসলিম মিল্লাতের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। যদিও তাঁর সাথে আমার কতিপয় বিষয়ে বিরোধ রয়েছে তবুও আমি তাঁর প্রভূতঃ দ্বীনি খেদমতকে স্বীকার করি।
[আল মিযান, পৃঃ ১৬, সন- ১৯৭৬ মুম্বাই ও মাকালাতে ইয়াওমে রেজা, ২য় খন্ড, পৃঃ ৫৪০]
★১২. মাওলানা আহমদ আলী সাহারানপুরীর ছেলে মাওলানা খলীলুর রহমান এর বক্তব্য- ১৩০৩ হিজরী সনে মাদ্রাসাতুল হাদীস, পীলীভেত এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত জলসায় সাহারানপুর, লাহোর, কানপুর, জৌনপুর, রামপুর এবং বদায়ুনের আলেমগণের উপস্থিতিতে মুহাদ্দীস-ই সুরতীর একান্ত ইচ্ছাক্রমে আ’লা হযরত হাদীস শাস্ত্রের উপর অনবরত তিন ঘন্টা যাবৎ সারগর্ভ ও সপ্রমাণ বক্তব্য রাখলেন।
*জলসায় উপস্থিত ওলামা কেরাম তাঁর বক্তব্য অবাকচিত্তে শ্রবণ করলেন এবং উচ্ছসিত প্রশংসা করলেন।মাওলানা আহমদ আলী সাহরানপুরীর পুত্র মাওলানা খলীলুর রহমান বক্তব্য শেষ হলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আ’লা হযরতের হাতে চুম্বন করলেন।
** আর বললেন, যদি এ মুহূর্তে আমার সম্মানিত পিতা থাকতেন তবে তিনি আপনার জ্ঞান সমুদ্রের মুক্তমনে প্রশংসা করতেন। আর তখন তাঁর এটা উচিতই ছিল। উল্লেখ্য, মুহাদ্দিস সুরতী ও মাওলানা মুহাম্মদ আলী মুঙ্গরী নদওয়াতুল ওলামা, লক্ষৌ এর প্রতিষ্ঠাতা তাঁর মন্তব্যের প্রতি সমর্থন জানালেন।
[মাক্কালা-ই-মাহমুদ আহমদ ক্বাদেরী প্রণেতা, তাযকিরাই ওলামাই আহলে সুন্নাত মাহনামাই আশরাফিয়া মুবারকপুর, ১৯৭৭]⭕⭕⭕⭕
🍀আপনাদের অভিমত কী🍀 মসলকে আলা হযরত মতাদর্শে বিশ্বাসী _জিন্দাবাদ /// পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার ও কপি করেন সবাই,
©কার্টেসী আলাউদ্দীন!

0 মন্তব্যসমূহ